<?xml version='1.0' encoding='UTF-8'?><?xml-stylesheet href="http://www.blogger.com/styles/atom.css" type="text/css"?><feed xmlns='http://www.w3.org/2005/Atom' xmlns:openSearch='http://a9.com/-/spec/opensearchrss/1.0/' xmlns:georss='http://www.georss.org/georss' xmlns:gd='http://schemas.google.com/g/2005' xmlns:thr='http://purl.org/syndication/thread/1.0'><id>tag:blogger.com,1999:blog-8711979249453840341</id><updated>2012-02-08T15:12:59.663+06:00</updated><category term='প্রথম প্রকাশ'/><category term='বুক রিভিউ'/><category term='জার্নাল'/><category term='সমালোচনা'/><category term='কবিতা'/><category term='নিজের চরকায়'/><category term='নিম্নবর্গীয়পনা'/><category term='গল্প'/><category term='অনুবাদ'/><category term='দ্রুতপঠন'/><category term='&quot;কবিসভা&quot; থেকে'/><title type='text'>বি দ্যা কূ ট</title><subtitle type='html'>একদিন সত্যি তোমাকে বিদ্যাকূট বেড়াতে নিয়ে যাবো</subtitle><link rel='http://schemas.google.com/g/2005#feed' type='application/atom+xml' href='http://joyodrath.blogspot.com/feeds/posts/default'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default?max-results=100'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://joyodrath.blogspot.com/'/><link rel='hub' href='http://pubsubhubbub.appspot.com/'/><author><name>সুমন রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16436814493171446627</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SK3K-srIq0I/AAAAAAAAAEk/KiOzO5TiBOk/S220/Sumon9_resize.jpg'/></author><generator version='7.00' uri='http://www.blogger.com'>Blogger</generator><openSearch:totalResults>50</openSearch:totalResults><openSearch:startIndex>1</openSearch:startIndex><openSearch:itemsPerPage>100</openSearch:itemsPerPage><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8711979249453840341.post-3661238097419568891</id><published>2012-01-30T18:28:00.002+06:00</published><updated>2012-01-30T18:33:13.744+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='কবিতা'/><title type='text'>নিহত থাকার অধিকার</title><content type='html'>পাখি উড়ে চলে গেছে; পাখির পালকসম দেহ&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সিমেন্টের বস্তার ভারে ডুবে আছে অথৈ নদীতে&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মাথার ভেতর আজ সাঁতরায় অলস বুলেট&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;          আর কৌতুহলী ডানকিনা মাছ&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একদিন খোয়াজ খিজির বেড়াতে আসে এই জলজ কবরে&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এসে সে অবাক। ধলেশ্বরীর ঘোলা জল&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ব্যথিত বদনে গোপন করছে স্থলজ হত্যার ভার!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রেমিক মিলছে প্রেমিকার সাথে ঠিকই, কেন&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নিহত হারাবে নিহত থাকার অধিকার?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt; &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অতএব পুশব্যাক। দৃষ্টিসীমায় ফিরে এল&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বস্তামুক্ত দেহ। জলের উপরিতলে। অচেনা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ফুলে ঢোল। সংশয়ী পরিবার ফিরে গেলে&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;শেষে ডাক পেল আঞ্জুমানে মফিদুল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt; &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এত উদ্বেগ, এত বিবৃতি, জলে স্থলে পতাকা বৈঠক&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সাহারা-খিজিরে সমঝোতা হয়ে গেল। তবু নিহত পেল না&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নিহত থাকার অধিকার; সমব্যথী পাখি এল ফিরে&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অনামা কবরে শুয়ে থাকা দেহটাকে খুঁজে পেল না সেও!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt; &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১৫ ডিসেম্বর ২০১১&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8711979249453840341-3661238097419568891?l=joyodrath.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://joyodrath.blogspot.com/feeds/3661238097419568891/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8711979249453840341&amp;postID=3661238097419568891&amp;isPopup=true' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/3661238097419568891'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/3661238097419568891'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://joyodrath.blogspot.com/2012/01/blog-post.html' title='নিহত থাকার অধিকার'/><author><name>সুমন রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16436814493171446627</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SK3K-srIq0I/AAAAAAAAAEk/KiOzO5TiBOk/S220/Sumon9_resize.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8711979249453840341.post-8332831973290356194</id><published>2010-08-26T11:10:00.003+06:00</published><updated>2010-08-28T21:02:12.641+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='দ্রুতপঠন'/><title type='text'>তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ</title><content type='html'>আপনি কি সেলিব্রিটি? পাঠক, প্রশ্নটা আপনাকেই করছি। এই প্রশ্নে ভড়কে যাওয়ার কোনো কারণ নেই, বিশেষত অযূত গণমাধ্যম-অধ্যূষিত বাংলাদেশে। আপনার সামনে গোটাদশেক টেলিভিশন চ্যানেলের গোটা অর্ধশত রিয়েলিটি শো-র যে কোনো একটিতে আপনি অংশগ্রহণ করতেই পারেন। আপনি হতে পারেন ক্লোজ-আপ ওয়ান, শাহ সিমেন্ট নির্মাণ শ্রমিক কিংবা ম্যাজিক তিনচাকার তারকা, “ইত্যাদি” ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ, রকমারি টক শো-র নিয়মিত অতিথি, লাক্স-চ্যানেলআই সেরা সুন্দরী, প্রথম আলো-র সেরা তারুণ্য, এফ এম রেডিও-র জকি, এবং আরো বহু কিছু। আবার আপনি হতেই পারেন বাংলা ব্লগোস্ফিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ লেখক, আপনার ফেসবুক নোট হতে পারে বহুলপঠিত, আপনার বানানো ভিডিও কিংবা আপনার তোলা আলোকচিত্র ইউটিউবে বা ফ্লিকারে আপনাকে প্রচুর জনপ্রিয়তার উপলক্ষ এনে দিতেই পারে। ফলে, আপনাকে স্রেফ আমার মত নগণ্য লেখকের নাদান পাঠক ভাবার কোনো অবকাশ নেই, কোনো- না-কোনোভাবে দেখা যাবে আপনিও তারকা। সেলিব্রিটি।&lt;br /&gt;&lt;span class="fullpost"&gt;&lt;br /&gt;তর্কের খাতিরে না হয় ধরেই নিই যে, দুর্ভাগ্যবশত আপনি এখনো সেলিব্রিটি নন। আপনার গানের গলা ভাল না, গুছিয়ে ঠিক কথা বলতে পারেন না, লেখালেখির অভ্যাস নেই, ছবি তোলা বা ভিডিও করার বাতিকও নেই, ইন্টারনেটে যান না, এবং দেখতেও ভাল নন। পাঠক, ভেবে দেখুন তো নিজের ওপরে ঠিক এতগুলো “না” কবুল করতে মন চায় কিনা? নিশ্চয়ই মানবেন কোথাও না কোথাও আপনার সেলিব্রিটি হয়ে উঠবার দারুণ সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে, শুধু তার পরিচর্যা দরকার। এতদিন সে সুযোগ ছিল না, এখন তা আপনার দোরগোড়ায় এনে দিয়েছে গণমাধ্যম। তার এত রকমের রেসিপি, এর যে কোনো একটাতে আপনার খাপে-খাপ হয়ে যেতেই পারে। তখন আপনাকে ঠেকায় কে? আপনিই সেলিব্রিটি, আগামীর! আপনাকেই খুঁজে বেড়াচ্ছে বাংলাদেশ!&lt;br /&gt;আমি যেসব সেলিব্রিটির কথা এখানে বলছি, তারা কেউ সাবেকী সেলিব্রিটিদের মত বাক্সবন্দী নন। আপনি শপিং করছেন কোনো মলে, অপরিসর লিফটে দুয়েকজন লাক্সসুন্দরীর সাথে আপনার মোলাকাত হয়ে যেতে পারে; খালি ভেবে “এই সিএনজি” হাঁক দিতেই দেখলেন ভেতরে বসে আছেন ক্লোজআপ ওয়ান তারকা মাহাদী বা সালমা; চাকরি থেকে বছরদুই আগে অবসর নেয়া আপনার শ্বশুরমশাই হঠাৎ করেই হয়ে উঠতে পারেন কোনো টক-শোর ব্যস্ততম অতিথি; আপনার বাড়িওয়ালার স্ত্রী হয়ত ইতোমধ্যেই বার-দুই ডাক পেয়েছেন সিদ্দিকা কবীরের রেসিপির অনুষ্ঠানে; আপনি রিকশায় উঠে দেখলেন যে সেটা চালাচ্ছেন তিনচাকার তারকা ওমর আলী; হরতালের দিন রিকশা শেয়ার করে যাচ্ছেন কোথাও, পাশের লোকটাকে খুব চেনা-চেনা লাগছে, হঠাৎই ধরতে পারলেন যে আপনার রিকশাসঙ্গী আর কেউ নন, এভারেস্ট-বিজয়ী মুসা ইব্রাহিম!&lt;br /&gt;আপনার চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এই যে তারকারাজি, আটপৌরে-প্রায় সেলিব্রিটিসমাজ, এটা কিন্তু নতুন ঘটনা। গণমাধ্যম প্রতিনিয়ত তাদের উৎপাদন করছে। এটা একটা নিয়ত চলমান প্রক্রিয়া: ফলে আগের বছরের মলিন হয়ে-যাওয়া এক সেট তারকার বদলে নতুন বছরে আপনি পাচ্ছেন ঝকঝকে নতুন এক সেট সেলিব্রিটি। যেমন, ক্লোজআপ ওয়ানের প্রথম দশজনের সবাই তারকাখ্যাতি পান। ২০০৫ থেকে চলমান এই অনুষ্ঠান সেই হিসেবে মাত্র চারবছরে প্রায় গোটা চল্লিশেক তারকার জন্ম দিয়েছে। একই কথা খাটে লাক্স-চ্যানেলআই এর ক্ষেত্রেও। তবে, এই উৎপাদিত তারকাস্রোতকে অক্ষয় করে রাখার ব্রত গণমাধ্যম নেয় না। একজন যখন ক্লোজআপ তারকা হন, তিনি প্রথমে টেলিভিশনে নন্দিত হন, তারপর তার অডিও অ্যালবাম বেরয়, কাগজে সাক্ষাৎকার আসে, টক শোতে ডাক পান, লাইভ অনুষ্ঠানে গান গাইবার আমন্ত্রণ পান দেশে ও বিদেশে। এভাবে তিনি তার অমরতার রাস্তা বানাতে থাকেন। সবাই পারেন না, অনেকেই ঝরে যান। ঝরে-পড়া তারাদের কথা আকাশই মনে রাখে না, গণমাধ্যম তো কোন্ ছার! সে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন তারকার উৎপাদনে ব্যস্ত। এই ঝরে-পড়া তার পরিকল্পনারই অংশ। &lt;br /&gt;প্রশ্ন হচ্ছে, গণমাধ্যম হঠাৎ করে আমজনতার মধ্যে এমন গরুখোঁজার মত তারকা খুঁজতে শুরু করল কেন? এক কথায় এর উত্তর দেয়া কঠিন। গণমাধ্যম-বিশেষজ্ঞ জন হার্টলি মনে করেন এটা গণমাধ্যম এবং সমাজব্যবস্থার গণতন্ত্রায়নের (ফবসড়পৎধঃরপ ঃঁৎহ)ফলে ঘটছে। আবার গ্রায়েম টার্নার এর মতে,গণমাধ্যম সাধারণ্যে মুখ ঘুরিয়েছে (ফবসড়ঃরপ ঃঁৎহ)  সত্যি, কিন্তু এর মধ্যে ‘গণতান্ত্রিকতা’ কতটুকু আছে সন্দেহ। প্রথমত, আমজনতা থেকে প্রতিনিয়ত তারকা উৎপাদনের এই প্রক্রিয়া গণমাধ্যমে বিদ্যমান রিয়েলিটি শো-গুলোকে স্থায়িত্ব দেয়। ফলে সে একদিকে যেমন ব্যয়-সাশ্রয়ী হয়ে ওঠে, অন্যদিকে তার দর্শকের মধ্যে উচ্চাভিলাষ জাগানোর মাধ্যমে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। দ্বিতীয়ত, নতুন নতুন তারকাপ্রবাহ গণমাধ্যমকে সমাজের সাংস্কৃতিক পরিচয় বিনির্মাণের স্বাধীনতা দেয়। কারণ এই নতুন সেলিব্রিটিরা স্বীয় গণমাধ্যমের পতাকা বাই-ডিফল্ট বহন করেন, ক্ষীণ আয়ুর কারণেই হয়ত তাদের ব্যক্তিত্ব গণমাধ্যমের রাজনীতির জন্য নিরাপদ থাকে। এভাবে, নতুন নতুন তারকাপ্রবাহের মাধ্যমে গণমাধ্যম প্রতিনিয়ত নিজের ভেতরে ঢুকে নিজেকেই পুনর্নির্মাণ করে চলেছে, জ্যাঁ বদ্রিয়াঁ যাকে বলেন “দ্য ইমপ্লোসন অব মিডিয়া”।  আপনি নিশ্চয়ই মানবেন যে, গণমাধ্যম ইদানিংকালে শুধু “মাধ্যম” নয় আর, পুরাদস্তুর নির্মাতা হয়ে উঠেছে। সমাজের সাংস্কৃতিক পরিচয় বিনির্মাণের দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছে সে নিজে-নিজেই।&lt;br /&gt;এই যে অসংখ্য রিয়েলিটি শো, অনন্ত বিস্তৃত ইন্টারনেটের স্বাধীন চারণভূমি -- সেখানে আমজনতার এই তারকালীলা কিন্তু বাংলাদেশেই প্রথম শুরু হয় নি। বরং বাংলাদেশ খানিকটা পরেই সেই ইঁদুরদৌড়ে সামিল হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো “বিগ ব্রাদার” বা “আমেরিকান আইডল” বিশ্বের নানান দেশে নানান উপায়ে পুনরুৎপাদন করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের তুলনামূলকভাবে কম বৈষম্যমূলক সমাজব্যবস্থার একটি যোগাযোগপ্রক্রিয়াকে ভারত কিংবা বাংলাদেশের মত দেশের নির্বিচারে অনুসরণ করার বিপদ আছে অনেক। যুক্তরাষ্ট্রে “আমজনতা” বলতে যা বোঝায়, আমাদের মত প্রকট শ্রেণীবৈষম্য ও নানান স্তরের দারিদ্রের দেশে সেটা বোঝা মুশকিল। ২০০৮ সালে এটিএন বাঙলা টেলিভিশনের আলোচিত অনুষ্ঠান “তিনচাকার তারকা” নিয়ে একটি প্রবন্ধে আমি দেখাতে চেষ্টা করেছি কীভাবে এই নবলব্ধ তারকাখ্যাতি গরিব রিকশাচালকদের দীর্ঘস্থায়ী পরিচয়সংকটে ফেলে দিয়েছে, তাদের বিদ্যমান দারিদ্রের কোনো উপশম না-করেই। অবশ্য দারিদ্রের উপশম গণমাধ্যমের কাজ নয়, রাষ্ট্রের কাজ। এমনকি সাংস্কৃতিক পরিচয় বিনির্মাণকেও রাষ্ট্র নিজের এখতিয়ারভূক্ত কাজ ভাবে, যার ফলে সে সবসময় গণমাধ্যমকে তেরচা চোখে দেখে। নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। কিন্তু গণমাধ্যম রাবনের দশমুন্ডুর মত যেভাবে বিন্দু বিন্দু সম্ভাবনা ও প্রযুক্তির অগ্রগতিকে আঠার আনা কাজে লাগিয়ে বিকশিত হয়ে চলেছে, মান্ধাতার আমলের রাষ্ট্রীয় পলিসি দিয়ে তার মতিগতি বোঝাই দুষ্কর, নিয়ন্ত্রণ তো পরের আলাপ। এই কিছুদিন আগেও জিপিও একটা ইমেইল শাখা চালু করার তোড়জোড় করছিল, খোদা মালুম কেন!  &lt;br /&gt;যাক। সমাজের সাংস্কৃতিক পরিচয় বিনির্মাণ নিয়ে রাষ্ট্র ও গণমাধ্যমের মধ্যে এই বিসম্বাদ উত্তরোত্তর বাড়বে বলেই মনে হয়। কিন্তু তাতে আপনার সেলিব্রিটি হওয়া আটকাবে না। নানারকম গণমাধ্যমের হাজারো রকম গলিঘুপচির ভেতর কোথাও না কোথাও আপনার জন্য চেয়ার পাতা আছে, সন্দেহ নেই। প্রিয় পাঠক, হে অদূর ভবিষ্যতের সেলিব্রিটি, আপনাকে আগাম সালাম! &lt;br /&gt;ব্রিসবেন ২৭ জুলাই ২০১০&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8711979249453840341-8332831973290356194?l=joyodrath.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://joyodrath.blogspot.com/feeds/8332831973290356194/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8711979249453840341&amp;postID=8332831973290356194&amp;isPopup=true' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/8332831973290356194'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/8332831973290356194'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://joyodrath.blogspot.com/2010/08/blog-post.html' title='তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ'/><author><name>সুমন রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16436814493171446627</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SK3K-srIq0I/AAAAAAAAAEk/KiOzO5TiBOk/S220/Sumon9_resize.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8711979249453840341.post-6804838496162805628</id><published>2009-04-03T20:33:00.004+06:00</published><updated>2009-04-03T20:44:02.541+06:00</updated><title type='text'>মুমুর্ষূ চটিবই আর তার বিপন্ন নারীরা</title><content type='html'>&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;লেখার উদ্দেশ্য&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;চটিবই হচ্ছে একটি এক ফর্মার (বইয়ের সাইজে ১৬ পৃষ্ঠা) কিংবা আধা ফর্মার প্রকাশনা, যেখানে পয়ার ছন্দে অন্তমিল রেখে একটা কাহিনি বর্ণনা করা হয়। ফর্মাটি ভাঁজ করা থাকে, ভাঁজ খুলে পৃষ্ঠা নম্বর দেখে-দেখে পড়ে যেতে হয়। সাধারণত কোনো চালু কাহিনি, ঘটে-যাওয়া ঘটনা, অলৌকিক কোনো বিবৃতি, কিংবা কোনো স্ক্যান্ডালকে উপজীব্য করে এসব প্রকাশনা বের হয়। এর কাগজ নিউজপ্রিন্টের, ছাপা অত্যন্ত নিম্নমানের এবং ঘিঞ্জি, লেখক অচেনা, এবং পাঠক বোধগম্যভাবেই নিম্নবর্গের। কোনো বইয়ের দোকানে পাওয়া যায় না এসব বই, কখনো হকার ফেরি করে শহরের পথে-পথে, কখনো বা ফুটপাতের পসরায় মেলে। ‘পথকবিতা’ বলি, কিংবা বটতলার বই বলি, বা চটিবইই বলি, এসব বইকে নিম্নবর্গের চিন্তাচেতনার দ্যোতক মনে করার যৌক্তিক কারণ আছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর পাঠক ও লেখকের মধ্যে তেমন কোনো শ্রেণিভেদ নেই। একান্তভাবেই বিনোদনের জন্য রচিত এসব বইয়ের কাহিনিতে সঙ্গত কারণেই নারীচরিত্র বেশ জায়গা জুড়ে থাকে। বর্তমান নিবন্ধটি প্রথমত চটিবইশিল্প নিয়ে সাধারণভাবে কিছু আলোকপাত করবে, দ্বিতীয়ত, সমাজে আলোচিত ঘটনা বা কেলেঙ্কারি এসবে অন্তর্ভুক্ত নারীচরিত্রের বরাতে কীভাবে চটিবইতে উঠে আসে এবং চটিবই কীভাবে ওই ঘটনাপ্রবাহের ওপর ছায়া ফেলতে চেষ্টা করেছে সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দেবে এবং তৃতীয়ত, বিভিন্ন সময়ে প্রাপ্ত চটিবইয়ের নারীচরিত্র বিশ্লেষণ করে তাদের বিপন্নতাকে মাধ্যম হিসেবে চটিবইয়ের বিপন্নতার সাথে সম্পর্কিত করে দেখার চেষ্টা করবে।&lt;br /&gt;&lt;span class="fullpost"&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;বটতলার পুঁথি থেকে চকবাজারের চটি : আড়াই শতকের জীবনচক্কর&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;চটিবই বা বটতলার বইয়ের ইতিহাস কিন্তু বাংলাভাষার ভদ্রলোকী বই থেকে বেশি অর্বাচীন নয়। ভারতবর্ষে পর্তুগীজরা প্রথম প্রেস বসায় ষোড়শ শতাব্দীতে, মূলত বাইবেল ছাপানোর জন্য। চটিবইয়ের রমরমা হাল আরম্ভ হয় ঊনবিংশ শতকে। ১৮৫৭ সালে অর্থাৎ সিপাহী বিপ্লবের বছরে বাংলা ভাষায় চটিবই বেরিয়েছিল ৩২২টি, এবং রেভারেন্ড জেমস লঙ-এর হিসেব অনুযায়ী শুধু কলকাতাতেই এসব বই ছাপা হয়েছিল ছয় লাখের মতো। ঢাকা কিংবা রাজশাহীও কলকাতা থেকে খুব বেশি পিছিয়ে ছিল না, অনিন্দিতা ঘোষ সাক্ষ্য দেন। বটতলার বইয়ের রমরমা ব্যবসার সাথে পাল্লা দিতে গিয়ে ভারতচন্দ্র কিংবা বঙ্কিমের বই বের করা অভিজাত তত্ত্ববোধিনী প্রেসের জিভ বেরিয়ে যাওয়ার দশা হয়েছিল সেই ঊনবিংশ শতকেই। শিক্ষামূলক গল্প, পুরাণকথা, আদিরস ও স্যাটায়ার এগুলোই মোটাদাগে সেই আমলের চটিবইয়ের বিষয়বস্তু ছিল। &lt;br /&gt;এই যে বটতলার পুঁথি কিংবা চকবাজারের চটি যাই হোক, নিম্নবর্গের সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের দ্যোতক হিসেবেই এরা ঐতিহাসিকভাবে আবির্ভূত হয়েছে বলে মনে করেন অনেকে। মহাভারত কিংবা অন্নদামঙ্গলের মতো বইয়েরও বটতলা সংস্করণের ইলাস্ট্রেশনে আমরা দেখি হিন্দু দেবতা কার্তিকের মাথায় ইউরোপীয় হ্যাট, কিংবা মহাভারতে দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ করছে কোনো ইউরোপীয় সাহেব। এমন অনেক দৃষ্টান্ত দেয়া যায়। সিপাহী বিদ্রোহের কালে বের হওয়া বটতলার বইয়ে ইংরেজ- বিদ্বেষ প্রচার একটা মুখ্য বিষয় ছিল, সেটা সত্য ঘটনার বয়ান করেই হোক, পুরাণ কাহিনির নতুন তফসির হাজির করেই হোক কিংবা স্ক্যান্ডাল ছড়িয়েই হোক। বই তখনো এত ব্যক্তিগত পঠনের বিষয় হয়ে ওঠে নি, অন্তত নিম্নবর্গের কাছে। একজন গলা ছেড়ে পড়েছে তো দল বেঁধে অন্যরা শুনেছে। ফলে, বটতলার বইয়ের পাঠকশ্রোতার সংখ্যা কোনো অর্থেই কম ছিল না সেসময়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;গত আড়াইশ বছরে এই শিল্পমাধ্যমটি নানাভাবে বিবর্তিত হয়েছে, নানাবিধ বিষয়ের ওপর বই বের হয়েছে, এবং কলকাতায় বিচ্ছিন্ন কিছু চোখে পড়লেও বাংলাদেশের চটি বইয়ের ইতিহাস নিয়ে পূর্ণাঙ্গ একটি গবেষণা আজ পর্যন্ত হয় নি। মুনতাসীর মামুন বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কাজ করেছেন, যেখানে জানা যায় ঊনবিংশ শতাব্দীতে ঢাকায় ‘চারপেজি, আটপেজি বা ষোলোপেজি ডাবল ডিমাই আকারের নিউজপ্রিন্টে নিম্নমানের প্রেসে ছাপা’ চটিবই বিক্রি হতো। তাঁর বিবেচনায় ওই শতকে রচিত বেশিরভাগ পথকবিতারই বিষয়বস্তু ছিল ১৮৯৭ সালের ঢাকার ভূমিকম্প এবং ১৮৮৮ সালের টর্নেডো। কিছু কিছু পথকবিতা রচিত হয়েছে ‘অশ্লীল’ বিষয় নিয়ে, কিছু কিছু হিন্দুদের উৎসব নিয়ে। মুনতাসীর মামুনের মতে, ওই সমস্ত পথকবিতা সমসাময়িক ঘটনা ও বিষয়ের ‘বিশ্বস্ত দলিল’ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্রমোন্নতির কারণে ওগুলো স্তিমিত হয়ে আসে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;হালের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকে একথা মানতে কোনো আপত্তি নেই যে এই চটিবই শিল্পটি মার খেয়ে গেছে, কিন্তু সেটি যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রসারের কারণেই মার খেয়ে গেছে এই বক্তব্যে কিঞ্চিৎ দ্বিমত আছে। এই কথার অর্থ দাঁড়ায়, চটিবইয়ের যারা ক্রেতা তারা স্রেফ তাদের সংবাদতৃষ্ণা মেটানোর জন্যই এর দ্বারস্থ হতেন। মুনতাসীর মামুন যে কালের কথা বলছেন সে কালে সংবাদপত্র দুর্লভ জিনিস ছিল না। আর ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্প কিংবা ১৮৮৮ সালের টর্নেডোর মতো সর্বজনজ্ঞাত বিষয় নিয়ে রচিত পথকবিতা স্রেফ এর সংবাদমূল্যের জন্যই পাঠক কিনছে এটিও যৌক্তিক ঠেকে না। মুনতাসীর মামুন তাঁর প্রবন্ধের পরিশিষ্টে “ঝড়ের গান” বলে একটি পথকবিতার উদ্ধৃতি দিয়েছেন সেটি এখানে আবার উদ্ধৃত করে দেখা যাক&lt;br /&gt;ঈশ্বরের অপার নিলা বুজা ভার২ আছে সাধ্য কার।&lt;br /&gt;বুজি বাউরূপে এলেন হরি নিবারিতে ধরাভার।&lt;br /&gt;১২৯৪ সনে, চৈত্র মাসের ২৬ দিনে&lt;br /&gt;শনিবার সন্ধ্যার পরে খণ্ড প্রলয় হল সঞ্চয়।&lt;br /&gt;ঘুর্ন বায়ু এইসে বেগে ঘুইরে উঠে উদ্ধ ভাগে&lt;br /&gt;বিপরীত এক শব্দ ডাকে শুইনলো লোকের চমৎকার।&lt;br /&gt;পশ্চিম হইতে তুফান ছুইটে, হাজারীবাগ দিয়া উঠে, &lt;br /&gt;খেরী ঘর আর মেইটে কোঠে&lt;br /&gt;কত বেইঙ্গেছে অপার।&lt;br /&gt;বাড্ডানগর বাগলপুরে নবাবগঞ্জ চন্দ্রি বাজারে&lt;br /&gt;জত ঘর গিয়াছে পইরে&lt;br /&gt;সংখ্যা করা নাজায় তার।&lt;br /&gt;সিকসেন ভেঙে আমলিগোলা, প্রবেশ করে লালবাগের কিল্লা,&lt;br /&gt;সিপাই জখম করে কতগুলা&lt;br /&gt;মরে একজন হাওলাদার।&lt;br /&gt;সেখান হইতে তুফান ছুইটে পরে এসে চান্নিঘাটে&lt;br /&gt;রমৎগঞ্জ এক চাপটে&lt;br /&gt;ভেঙে এইল চকবাজার&lt;br /&gt;ভেঙে জেলখানা নরিত কোনা, বেগম বাজার দিচ্ছে হানা&lt;br /&gt;মোগটুলী কয়েকখানা&lt;br /&gt;দোকানঘর ভেঙে আর।&lt;br /&gt;কুমারটুলী যে অবস্থা কিছু না রেখেছে আস্থা&lt;br /&gt;নাস্থা খাস্থা তিন অবস্থা&lt;br /&gt;দালান কোঠা একাকার।&lt;br /&gt;বংশীবাজার সজিব রাখি, বাবুর বাজার দিয়ে বাঁকী&lt;br /&gt;বেগে চলে দক্ষিণমুখী&lt;br /&gt;বুড়িগঙ্গা হইলে পার। &lt;br /&gt;পার হইতে ঝরের মুখে পইরে ছিল যত নৌকা&lt;br /&gt;আছারিয়া ঘূর্ণাপাকে&lt;br /&gt;কইরে গেছে চুরমার।&lt;br /&gt;যতলোক গিয়াছে মারা, জন্মসূত্রে ছিল ধরা&lt;br /&gt;দগ্ধাকার কইরে জিঞ্জিরা &lt;br /&gt;ঢাকা হইল পুনর্ব্বার।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;উপর্যুক্ত উদ্ধৃতি খেয়াল করলে বোঝা যায়, শুধুমাত্র ঘটনার বিবরণ দিয়েই ওই পথকবিতার লেখক দায় শেষ করেন নি, নিজের জানলা থেকে ঘটনাকে দেখার চেষ্টা করেছেন। ভয়াল টর্নেডোটি বংশীবাজার না ছুঁয়ে, বাবুর বাজারের পাশ দিয়ে গিয়ে দক্ষিণের বুড়িগঙ্গায় হামলে পড়েছে... এই বর্ণনা যত না সাংবাদিকের, তার চেয়ে বেশি কবির। আবার একটা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতিকে পাপপুণ্যের জায়গা থেকে ফয়সালা করতে গিয়ে লেখক যেখানে নিয়তিবাদী ইঙ্গিত দেন, সেখানে তিনি যত না সাংবাদিক তার চেয়ে বেশি দার্শনিক। পথকবিতার যারা পাঠক, তারা একটা জানা ঘটনার ভেতর এই সমস্ত চোরাগোপ্তা ভাষ্যগুলোকে সাংবাদিকতাসুলভ বিবরণের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন বলেই এসব প্রকাশনা সর্বজনজ্ঞাত বিষয়ের ওপর গড়ে উঠেও পাঠককে টানতে পেরেছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তাহলে চটিবই শিল্পটি মার খাওয়ার অন্তর্নিহিত কারণ কী ? মুনতাসীর মামুন জিনিসটা ধরতে চেষ্টা করেছেন এই বলে যে এসব চটি “সমসাময়িক ঘটনার বিশ্বস্ত দলিল” এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রসারে এই সমস্ত প্রকাশনা &lt;br /&gt;স্তিমিত হয়ে এসেছে। আদতে বিষয়টা একটু অন্যরকম বলে আমার মনে হয়েছে। প্রথমত, বর্তমানের চটিবইগুলো খেয়াল করলে দেখা যায়, এরা আর নিম্নবর্গের সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের প্রতিনিধিত্ব করছে না। সংবাদপত্র কিংবা অভিজাত পুস্তকের জবানিটাই যেন চটিবই পুনরুৎপাদন করছে। কালেক্রমে শিক্ষিত মধ্যবিত্তের দৃষ্টিভঙ্গির আছর পড়েছে এসব প্রকাশনায়, যার ফলে এরা ধীরে ধীরে এদের নিজস্বতা হারিয়ে ফেলেছে। এটিকেই হয়ত মুনতাসীর মামুন “সমসাময়িক ঘটনার বিশ্বস্ত দলিল” বলে মনে করেছেন। পরের অংশে সালমান শাহ এবং খুকু-মনিরের চটিবই দুটোর আলোচনা থেকে বিষয়টি বোঝা যাবে।  &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দ্বিতীয়ত, চটিবইশিল্প মার খাওয়ার পেছনে অন্য শিল্পের উত্থান এবং এর সহজলভ্যতাও অনেকাংশে দায়ী। সিনেমাশিল্প এবং হালে অডিওশিল্প নিম্নবর্গের বিনোদনের জায়গাটি অনেকটাই দখল করে নিয়েছে। এসব প্রযুক্তি যত সস্তা হচ্ছে, ততই সহজলভ্য হয়ে উঠেছে এবং নিম্নবর্গের কাছে গ্রাহ্য হচ্ছে। আরেকটা বিষয় হলো, চটিবই একটা পঠনসাপেক্ষ বিনোদন এবং নিম্নবর্গের মানুষের মধ্যে পঠন পাঠনের অভ্যাস স্বাভাবিকভাবেই কম। ফলে চটিবইয়ের বিনোদনটি হয়ে দাঁড়াত একটা যৌথ বিনোদনের মতো : একজন পড়তেন এবং অন্যরা শুনতেন। নগর যতই বিকশিত হচ্ছে, জীবন ততই জটিলতর হচ্ছে এবং ধনী-নির্ধন নির্বিশেষে শহরবাসী সংঘহীন হয়ে পড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে একটা চটিবই পঠনকে ঘিরে জমায়েত হওয়ার চেয়ে মোটামুটি সস্তায় একটা অডিওপ্লেয়ার কিনে ঘরে বসে বিনোদন করাটাই যুক্তিসঙ্গত। নিরক্ষরেরও এক্ষেত্রে কারো মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হয় না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;চটিবইয়ের অভিজাত নারী এবং ছদ্মবেশী মধ্যবিত্ত রুচি&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ঢাকা শহরে গত শতকের আশির দশক পর্যন্ত চটিবইয়ের একটা রমরমা পসার ছিল। যেকোনো বড়োসড়ো সামাজিক অভিঘাতের ঢেউ এখানে এসে পড়ত এবং তা থেকে নিম্নবর্গের এতদসম্পর্কিত মনোভাব বোঝার চেষ্টা করা যেত। বর্তমানেও চটিবই আছে, তবে অনেকটাই প্রাণহীন। কিছু গানের বই, দরকারি কিছু ম্যানুয়ালজাতীয় বই আর কিছু পর্নো। কাহিনিনির্ভর পথকবিতাশিল্পটি প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে বলা যায়। তবে এখনো কোনো বড়োসড়ো কেলেঙ্কারি হলে এবং এর সাথে নারীচরিত্র যুক্ত থাকলে কালেভদ্রে চটি বেরোতে দেখা যায়। কেলেঙ্কারির ডামাডোলে উচ্চবর্গীয় সমাজের কোনো নারীসদস্য থাকলে চটিবই সে বিষয়ে বেশ প্রগলভ হয়।  তবে এই প্রগলভতা থেকে নির্বিচারে এটা ধরে নেয়া যাবে না যে, নিম্নবর্গীয় সমাজ নারীবিষয়ে হরেদরে একরকমের ধারণা পোষণ করে। বিগত শতকের আশির দশকের দুটি চটিবই থেকে দৃষ্টান্ত দেয়া যাক। একটি সালমান শাহ নামক জনপ্রিয় নায়কের আত্মহত্যা নিয়ে, অন্যটি মনির নামক ব্যক্তি কর্তৃক তার স্ত্রীকে খুন করা বিষয়ে। এগুলোও রচিত হয়েছে কবিতার ফর্মেটে, অন্তমিলসমেত। সালমান শাহর আত্মহত্যা নিয়ে নানান জল্পনা-কল্পনা তখন ছিল, এমনকি সংবাদপত্রগুলোও আন্দাজনির্ভর অনেক কাহিনি ফেঁদেছে। এই বিবাহিত নায়কের আত্মহত্যার সাথে অন্য একটি জনপ্রিয় নায়িকার সাথে তাঁর প্রেমের গুঞ্জনকে একটা কার্যকারণ সম্পর্কে দেখানোর ইঙ্গিত যেখানে সংবাদপত্রগুলোই নির্বিচারে দিয়ে চলেছিল, চটিবই একে অনুসরণ করেছে মাত্র। তবে সংবাদপত্রের ইঙ্গিতময়তা চটিবইয়ে এসে শুধু ইঙ্গিত হিসেবেই থাকে নি, বরং নায়িকার নামধাম, নায়কের সাথে বিভিন্ন সময়ে তার অভিসারের বিবরণ, নায়কের স্ত্রীর সাথে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ইত্যাদি নানান কল্পনা মিশেছে সেই বর্ণনায়। এই প্রসঙ্গে জনমত ও সংবাদপত্রকে মোটামুটি একই দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতে দেখা যায়। সংবাদপত্র এক্ষেত্রে জনমত গঠন করেছে নাকি অনুসরণ করেছে বলা মুশকিল। তবে মোটামুটিভাবে সালমান শাহ-র আত্মহত্যাকে অভিজাত শ্রেণির ভিতরকার উদ্দাম জীবনধারার একটি অনিবার্য ফলশ্র“তি হিসেবে দেখানোর চেষ্টা আছে ওই বইতে। পুরো দৃশ্যপটে সালমান শাহ হলেন ট্রাজিক হিরো, অভিজাত টেক্সটে একটা অফটপিক। চটিবইয়ের সালমান শাহ হচ্ছেন এমন এক আত্মহন্তারক যাকে অভিজাত সমাজ চুষে ছিঁবড়ে বানিয়ে মরতে বাধ্য করেছে। ফলে, সংবাদপত্র-পড়া শিক্ষিত মধ্যবিত্তের কাছে সালমান শাহর আত্মহত্যা একটি বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা হিসেবে প্রতিভাত হলেও চটিবইয়ের পাঠকের কাছে এই মৃত্যু অনিবার্য ও ঐতিহাসিক। এটুকুই যা পার্থক্য। এটা প্রমাণ করতে সংবাদপত্রের তথ্যগুলোকেই বিভিন্নভাবে সাজানো হয়েছে চটিবইতে, ফাঁকগুলো ভরাট করা হয়েছে কল্পনা ও ছদ্মবেশী শ্রেণিবিদ্বেষ দিয়ে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সালমান শাহ-র ঘটনাটির একটা সমস্যা ছিল। তার আত্মহত্যা, আত্মহত্যার পেছনের স্ক্যান্ডাল এবং সালমান শাহ-র পত্নীর হাল মিলিয়ে ঘটনাটি কোনো ক্লাসিক ট্রায়োর আকার নিতে পারে নি। পারে নি এ কারণে যে, সালমান শাহ-র পত্নী ছিলেন অভিজাত সমাজের সদস্য, এবং সালমান শাহ-র প্রেমিকা ছিলেন আরেকজন জননন্দিত নায়িকা। ফলে ঘটনা দাঁড়ায় উলটো : নায়িকার নীরবতা ও অন্যরকম ভাবমূর্তির কারণে একদিকে যেমন তাকে ভিলেনের জায়গায় কল্পনা করতে সমস্যা হয়েছে, আবার পত্নীর অভিজাত প্রেক্ষাপটের কারণে তাকেও বিপন্ন ভাবা সম্ভব হয়ে ওঠে নি। তুলনায় খুকু-মনিরের কেসটি অনেক লাগসই ছিল। আশির দশকের শেষদিকে খুকু নাম্নী এক নারীর সাথে পরকীয়া সম্পর্কের জের ধরে জনৈক মনির তার স্ত্রীকে খুন করেন। দারুণভাবে খেটে যায় এই কাহিনি চটিবইয়ের কাঠামোর মধ্যে। এখানে নিহত স্ত্রী শারমিন একটি ট্র্যাজিক চরিত্র, চিরন্তন বাঙালি নারীর প্রতিমূর্তি, অন্যদিকে খুকু হয়ে দাঁড়ান একটি উপযুক্ত ভ্যাম্প যে কিনা ‘মাথাগরম’ মনিরকে প্ররোচিত করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান। চটিবইয়ের মনিরকে শাস্তিবিধানের ব্যাপারে কোনো গ্রেস দেয়া না হলেও ঘটনার পুরো নৈতিক দায়দায়িত্বসহ হুকুমের আসামি হিসেবে দাঁড় করানো হয় খুকুকে। চটিবইয়ে খুকুর এই ভ্যাম্পদশাটি এমনি সর্বব্যাপী প্রভাব ফেলে যে অনেক পূর্বাপর বিবেচনা ছাড়াই এই মামলায় মনিরের সাথে খুকুরও ফাঁসি হয়ে যায়। পরবর্তীকালে, জনমতের তোড় কমে এলে মামলার রায়টি রিভিউ হয়, খুকুর মৃত্যুদণ্ড রদ হয়ে কারাবাস হয়, কেননা দেখা যায় যে চটির খুকুর অপরাধের চেয়ে বাস্তবের খুকুর অপরাধ কিছু কম ছিল। ওই চটিটিও সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে রচিত। ঘটনাটি জানার জন্য লোকের চটিবই পড়বার দরকার ছিল না, চটি বইটি আসলে দৃষ্টিভঙ্গিটুকু ছড়িয়ে দিয়েছিল বা মধ্যবিত্ত গড়রুচির প্রভাবেই খুকু-মনির কেসের চটিভাষ্য ওইরকম দাঁড়িয়েছিল। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সালমান শাহ ও খুকু-মনিরের কাহিনি মোটামুটিভাবে ত্রিভূজ প্রেমের পরিণতি, অন্তত সংবাদপত্রগুলো এই ধারণাটিই হাজির করে। সেখানে খুকুর ওপর চটিবইয়ের নৈতিকতা যে তীব্রতা নিয়ে হামলে পড়ল, তার চেয়ে অনেক কম তীব্রতা ও ঘৃণা অনুভূত হলো সালমান শাহর প্রেমিকার ব্যাপারে। খুকুর ফাঁসির আদেশ রদ হওয়াটা পর্যন্ত খুশি মনে মেনে নেয় নি পত্রিকা-পড়া মধ্যবিত্ত। এর কারণ হতে পারে এটি যে, খুকুকে পত্রিকায় যেভাবে পরিবেশন করা হয়েছিল তাতে উস্কানি ছিল। পক্ষান্তরে সালমান শাহর প্রেমিকা পত্রিকার এই প্রচারণার ব্যাপারে অনেক সতর্ক ছিলেন। তিনি নিজের কিংবা অন্যের প্রভাব খাটিয়ে পত্রিকাগুলোকে সেভাবে নিজের ওপর হামলে পড়তে দেন নি। মফস্বলবাসী খুকুর পক্ষে সেটি নিশ্চিত করার উপায় ছিল না। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আলোচ্য ঘটনা দুটোয় নিহত ব্যক্তি দুজনের একজন পুরুষ (সালমান শাহ) এবং অন্যজন নারী (শারমীন- মনিরের স্ত্রী)। চটিবই দুটোও মূলত নিহতদের পক্ষাবলম্বন করেই কাহিনিগুলো লিখেছে। কিন্তু অদ্ভুতভাবে দু’জায়গাতেই আক্রান্ত হয়েছেন নারী। সালমানের ঘটনাটি আত্মহত্যা এবং এখানে সরাসরি অভিযোগ করার সুযোগ কম ছিল বলে তাঁর প্রেমিকা জনরোষ থেকে রেহাই পেয়েছে, যদিও অভিযোগের তর্জনী তাঁর দিকে উঠেছিল অনেক দিন। পক্ষান্তরে শারমীন হত্যা মামলায় মনিরের পরকীয়া প্রেমের সাথী খুকুকে জড়িত করার ব্যাপারে রীতিমতো একটা উন্মাদনা লক্ষ করা গেছে। চটিবইতেও দেখা যায়, খুকুকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যে আসল খুনী মনিরের অপরাধই হালকা হয়ে যায়!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;চটিবইয়ের ‘দুঃখী’ নারীরা&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;রোকেয়াবিবি এবং আনারকলি চটিবইয়ের দুটো নারীচরিত্র। ট্রাডিশনালি ‘পথকবিতা’ বলতে মুনতাসীর মামুন যা বুঝিয়েছিলেন, এ দুটো সেই ধরনের বই। নিউজপ্রিন্টে ছাপা, আধা ফর্মার একটা ভাঁজ করা জিনিস। প্রকাশকাল নেই, কিন্তু প্রকাশকের মোবাইল নম্বর দেয়া আছে। সেই নম্বরের ডিজিট গুণে গুণে আন্দাজ করা যায় এই &lt;br /&gt;পুস্তকগুলো ২০০২ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে ছাপা। দুটো বই একই প্রকাশনা থেকে বেরিয়েছে, আবার একটির লেখক প্রকাশক নিজেই। অন্যটির লেখক, ভনিতাসূত্রে জানা যায়, বর্তমান প্রকাশকের পিতা। দুটো বইয়েরই প্রচ্ছদ আছে। আনারকলিতে কাহিনির সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটা ছবি আঁকা হলেও রোকেয়াবিবি-র প্রচ্ছদে কারিনা কাপুরের একটি উদাস ছবি। দুটি বইয়েই শেষপৃষ্ঠার অর্ধেক জুড়ে নবীন লেখকদের কাছে বিভিন্ন ধরনের লেখা পাঠানোর আহবান। নবীন লেখকদের সশরীরে হাজির হতে কিংবা ফেরত খামসহ আবেদন করতে বলা হয়েছে সেখানে। পথকবিতা যতই বিলুপ্তপ্রায় জিনিস হোক, এখনো যেন প্রকাশকের চেয়ে লেখকের আকাক্সক্ষাটাই বেশি উদগ্র! অবশ্য প্রকাশক যেখানে উত্তরাধিকারসূত্রে নিজেই লেখক, সেখানে লেখকের জন্য গরজ কিছু কম হওয়ারই কথা।  &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রোকেয়াবিবির কাহিনিটি করুণ। বিবাহসূত্রে স্বামীর নাবালক ভাইটিকে লালনপালনের দায়িত্ব পড়ে তার। এর মধ্যে একদিন লঞ্চডুবিতে স্বামী মারা যায়। জগতসংসারে একা হয়ে পড়ে রোকেয়া, শিশু দেবরটিসমেত। নিজ পরিবারের ভ্র“কূটির মুখে দ্বিতীয় বিয়ে না-করার ব্যাপারে অনমনীয় থেকে ঘর ছাড়ে সে, এক ধনী লোকের ঘরে গৃহপরিচারিকার কাজ নেয়। সন্তানস্নেহে বড়ো করে তোলে দেবরকে, লেখাপড়া শেখায়। তারপর একদিন দেবর উচ্চশিক্ষার্থে আমেরিকা যাওয়ার আবদার করে। ততদিনে রোকেয়া তার তরুণ দেবরের প্রেমে পড়ে গিয়ে তাকে নিয়ে আবার ঘর বাঁধবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। দেবরের আবদার নিয়ে সে ছুটে যায় ধনী গৃহকর্তার কাছে। গৃহকর্তা রাজি হন, তবে সাথে শর্ত জুড়ে দেন যে তার একমাত্র কন্যাকে বিয়ে করলেই তিনি তাকে আমেরিকা যাওয়ার খর্চাপাতি দেবেন। বিনাবাক্যব্যয়ে রাজি হয় রোকেয়া, ভেতরে ভেতরে খান খান হয়ে যায় তার দেবরকে নিয়ে ঘর বাঁধার স্বপ্ন। গৃহকর্তার কন্যাকে বিয়ে করে আমেরিকা পাড়ি জমায় রোকেয়ার দেবর। তরুণীটি তার স্বামীর ফিরে আসার দিন গোণে। একদিন রোকেয়ার দেবর ফিরে আসে তার তরুণী বধূর বাহুডোরে। রাত ভোর হলে তারা দুজনেই উঠে দেখে অন্য ঘরে আত্মহত্যা করেছে রোকেয়া। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;লক্ষণীয় যে, কাহিনির প্রথম ভাগে রোকেয়া সন্তানস্নেহে দেবরকে মানুষ করতে গিয়ে আমাদের যেমন সীতাকে মনে করিয়ে দেয়, পরের অংশে দেবরকে নিয়ে ঘর বাঁধার স্বপ্ন যখন দেখতে শুরু করে তখন তাকে রূপবানের মতো লাগে। অর্থাৎ এই বইয়ের রোকেয়াবিবি সীতা ও রূপবানের একটি ইন্টারেস্টিং শংকর। রোকেয়াবিবি যেন সীতার অনমনীয় চরিত্রের একটি উজ্জ্বল সমালোচনা। সে দেখায়, সীমাহীন বিপন্নতার মাঝে সম্পর্কের নানান অলিতেগলিতে মানুষের সাথে মানুষের যোগাযোগ হয়, সম্পর্কের রকম বদলে যায় মানবিক প্রয়োজনে। সেসব বিপন্নতার ঘেরাটোপের মাঝে সম্পর্কের ট্যাবু মেনে-চলা সীতা বিদ্যমান মূল্যবোধের বাইরে পা দেয় নি। আবার রূপবানকে যতই র‌্যাডিক্যাল লাগুক, সেও কিন্তু একটা সমাজ-চাপানো সম্পর্ককে বহন করে গেছে। চরিত্র হিসেবে রূপবান সাবমিসিভ হলেও এই চরিত্রের সাথে আমাদের চিন্তাভাবনার আদানপ্রদান কিন্তু আদতে পুরুষতন্ত্রের সমালোচনা হিসেবেই হাজির হয়। এই পৌরাণিক সমর্পণ পুরুষতন্ত্রকে আক্রমণ করে না, কিন্তু কিছুমাত্রায় হলেও বিপন্ন করে। এক্ষেত্রে রোকেয়া যুগান্তকারী, একই সাথে চিরদুঃখিনী এবং ট্যাবু-নাশিনী। স্বামীপ্রেমে তার বিন্দুমাত্র ঘাটতি নেই, আবার শিশু দেবরকে সে আগলে রেখেছে মায়ের মতো। এই জায়গায় সীতা আর লক্ষণের তুলনা এসেছে টেক্সটে। আবার স্বামীর মৃত্যুর পর যুবক দেবরকে নিয়ে ঘর বাঁধবার স্বপ্ন দেখতেও বাঁধে নি তার। সেই স্বপ্ন কিন্তু রূপবানের মতো নিয়তিনির্দিষ্ট নয়, বরং রোকেয়ার সিদ্ধান্তপ্রসূত। জীবন তো এমনি সব অভাবনীয় বিস্ময়ে ভরা। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মজার বিষয় হলো, এই রোকেয়া কিন্তু প্রাচীন পুরাকথার কোনো চরিত্র নয়। সে শিশু দেবরসমেত শহরের বাসাবাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ নেয়, পরিণত দেবরের বিরহে ‘“ফোমের বিছানায়’ শুয়ে রাত জাগে, স্বপ্ন ভেঙে খান খান হয়ে গেলে অর্থাৎ গৃহকর্তার কন্যাটির সঙ্গে নিজেই দেবরের বিয়ের আয়োজন করে দিয়ে ‘মোনালিসার মতো রোকেয়ায় কান্দে এবং হাসে’, আবার বিদেশ-প্রত্যাগত দেবরটি বাংলাদেশ বিমান থেকে নেমে একটি ট্যাক্সি নিয়ে বাসায় পৌঁছায়, ইত্যাদি ইত্যাদি। এ সবই সমসাময়িক কালের সাক্ষ্য দেয়। কিন্তু যে কালটিকে ধরার চেষ্টা আছে, তাতে আমেরিকা-প্রবাসী দেবরের বিরহে তার বধূ ও ভাবী উভয়েরই বিরহব্যথার সংগীত বেশ সময় নিয়ে বাজে বৈকি। এক-আধবার ফোনাফুনি না-হওয়াটা বেশ বিস্ময়ের। বোঝা যায়, কাহিনিতে ফোনালাপ আমদানি হলে বিরহের বারোমাসি পয়ারটির বারোটা বেজে যেত। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় এভাবে মাঘ-ফাল্গুন এলে রোকেয়ার দেবরের বধূটি, যে কিনা রোকেয়ার পাশে শুয়ে শুয়েই সশব্দে বিরহযাপন করছে, তার ভাবনা :&lt;br /&gt;মাঘের শেষে ফাগুন আইল কুকিল করে রাও&lt;br /&gt;ডাকিস নারে প্রাণের কোকিল আমার মাথা খাও&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আনারকলির কাহিনিটি এর চেয়ে পুরানো এবং বেশ খানিকটাই রূপকথার ছাঁচের ভেতর ঢোকানো। কলকাতার জমিদার মনিরউদ্দি পাহাড়ে শিকার করতে গিয়ে এক কুটিরে গরিবের মেয়ে আনারকলির দেখা পায়। ফুসলিয়ে বিয়ে করে তাকে এবং বাড়িতে তুলে নেয়ার আশ্বাস দিয়ে কলকাতায় ফিরে আসে। তারপর আর সে পথ মাড়ায় না। যথারীতি আনারকলির গর্ভে মনিরউদ্দির এক পুত্রসন্তান জন্মে এবং তার নাম রাখা হয় সোলেমান। পিতৃপরিচয় ছাড়া বড়ো হতে থাকে মেধাবী ছাত্র সোলেমান এবং একসময়, সতীর্থদের কানাঘুষার কারণে, পিতৃপরিচয় জানার জন্য সোলেমান মরিয়া হয়ে মায়ের কাছে যায়। জানতে পারে কলকাতার জমিদার মনিরউদ্দি তার পিতা। পিতৃ-সন্দর্শনে সোলেমান কলকাতায় যায় এবং পিতার সামনাসামনি দাঁড়ালে মনিরউদ্দি তাকে গুণ্ডা দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেয়। ফিরে এসে সোলেমান আইনশাস্ত্রে অধ্যয়ন শুরু করে। টিউশনির সুবাদে ব্যারিস্টার ছমিরউদ্দির একমাত্র কন্যা মায়াবতীর সাথে মন দেয়ানেয়া হলে একসময় কন্যার পিতা সোলেমানকে ব্যারিস্টারি পড়ানোর জন্য ইংল্যান্ডে পাঠায়। সোলেমান ব্যারিস্টার হয়ে ইংল্যান্ড থেকে ফিরে আসে এবং মায়াবতীর সাথে সুখের জীবন কাটাতে থাকে। এদিকে তার পিতা মনিরউদ্দির সপ্তম স্ত্রী ঘরের চাকরের সাথে ফষ্টিনষ্টি করে ধরা পড়লে মনিরউদ্দি ওই চাকরকে খুন করে এবং বিচারে তার ফাঁসি হয়। ব্যারিস্টার সোলেমান পিতার কেস হাতে নেয় কিন্তু ফাঁসি রদ করার চেষ্টা সফল হয় না তার। তখন সে পিতাকে শিখিয়ে দেয় যে, যখন জজ তাকে তার অন্তিম ইচ্ছার কথা জিজ্ঞেস করবে তখন যেন সে বলে যে, মরার আগে জজ সাহেবের বৌ-এর সাথে এক রজনী কাটাতে চায়। যেই বলা সেই কাজ। শুনে জজসাহেব তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে পিস্তল বের করে ফেললেন। তখন ব্যারিস্টার সোলেমান জজ সাহেবকে বোঝায় যে, ঠিক একই কারণেই চাকরকে খুন করেছেন জমিদার সাহেব। এই চালাকির কারণে মনিরউদ্দির ফাঁসির আদেশ রদ হয় এবং পিতাপুত্রের মিলন হয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রথম কাহিনিতে রোকেয়াকে আমরা যতটা কেন্দ্রীয় ভূমিকায় দেখি, আনারকলির কাহিনিতে আনারকলির সেরকম অবস্থা নেই। সে বরং কাহিনিতেও অন্তঃপুরবাসিনী। তার দুঃখ ও জীবনসংগ্রামের কথা আমরা ভাসাভাসা শুনি সোলেমানের কোনো প্রসঙ্গের খেই ধরে। অবশ্য এই কাব্যের মূল উদ্দেশ্য লেখাপড়ার মাহাত্ম্য বর্ণনা। একমাত্র লেখাপড়া জানার কারণেই সোলেমান তার পিতাকে নিশ্চিত ফাঁসির দড়ি থেকে বাঁচাল, এটিই এখানে বক্তব্য। লেখাপড়া করতে থাকা সোলেমানের মনে অদ্ভুতভাবে কোনো পিতৃবিদ্বেষ তৈরি হয় না, এমনকি তার পিতা যখন পিটিয়ে তার হাড় ভেঙে দেয় তখনো সে পিতাকেই ভজনা করে। পুত্রত্বের স্বীকৃতির আকাক্সক্ষা তাকে এমনি মরিয়া করে তোলে। ফলে পিতা যখন ফাঁসির আসামি তখন স্বীকৃতি-না-পাওয়া পুত্র সোলেমান তার পিতাকে দয়া দেখিয়ে সাহায্য করছে এমনটা নয়, বরং পিতার কাজে আসার একটা সুযোগ পেয়ে নিজেকেই যেন সে ধন্য মনে করছে এমনটাই মনে হয়। কাহিনির শিরোনামে আনারকলির করুণ কাহিনি বয়ানের প্রতিশ্র“তি থাকলেও পুরো কাহিনিতে পিতৃত্বের এমনি জয়জয়কার। আনারকলির দুঃখের চেয়ে তার পুত্র সোলেমানের পিতৃস্বীকৃতি পাবার তৃষ্ণাই এই কাহিনির নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মনে রাখতে হবে আনারকলির কাহিনিটি যিনি লিখেছেন তারই পুত্র লিখেছেন রোকেয়ার কাহিনিটি। ফলে এই দুটো কাব্যের তুলনা থেকে আমাদের পক্ষে পথকবিতার অন্তত দুই প্রজন্মের লেখকের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যটুকু বোঝা সম্ভব হবে। এর আগে কিছু কাঠামোগত মিলের কথা না-বললেই নয়। দুটি কাহিনিতেই দেখা যায় বিদ্যাশিক্ষা করতে সন্তানটি বিদেশে যায় এবং উভয়ক্ষেত্রেই ব্যারিস্টার হয়ে ফিরে আসে। তাদের উভয়েরই ভাগ্যবদলের সংগ্রামে কোনো সহৃদয় ধনী ব্যক্তিকে সহায় হতে দেখা যায়, যদিও এই সহায়তা নিঃশর্ত নয়। শর্তটি আরো মনোরম : উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর বিয়ে করতে হবে ওই ধনী ব্যক্তির পরমাসুন্দরী কন্যাটিকে। উভয়ক্ষেত্রেই এই পরমাসুন্দরী কন্যাটি তার পিতামাতার একমাত্র সন্তান অর্থাৎ বিষয়আশয়ের একমাত্র উত্তরাধিকারী।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পার্থক্যের কথা কিছু বলি : আনারকলির কাহিনিতে আনারকলি কিংবা সোলেমানের স্ত্রী মায়াবতী রীতিমতো বোবা। তাদের কোথাও কথা বলতে বা প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা যায় না। রোকেয়ার কাহিনিতে রোকেয়া কিন্তু রীতিমতো প্রধান চরিত্র এবং তার দেবরের বধূটিও পার্শ্বচরিত্র হিসেবে যথেষ্ট ভালো মনোযোগ পেয়েছে। তার জবানিতে একটা বারোমাসি পর্যন্ত আছে। আনারকলির কাহিনিতে সোলেমানের পাষণ্ড পিতা পুরো কাহিনির ভিলেন হলেও কাহিনিকারের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু ছিল, রোকেয়াবিবির কাহিনিতে সেই জায়গাটি রোকেয়ারই। আগের প্রজন্মের রচিত আনারকলি যেখানে কিচ্ছা বা লোককথার গহ্বর থেকে আধাআধি বেরোতে পেরেছে, সেখানে রোকেয়া কিন্তু একেবারেই সমসাময়িক। আগেই বলেছি, তার চরিত্রের প্রণোদনাটি তৈরি হয়েছে সীতা ও রূপবানের একটা শংকর অনুভব থেকে। এই রোকেয়ার চরিত্র সীতা ও রূপবানের কাঠামো মিলিয়ে হলেও দেখতে সে কারিনা কাপুরের মতো। আনারকলির কাহিনিতে আনারকলি কিংবা সোলেমানের পিতার চরিত্রগুলো সেভাবে হালনাগাদ হয় নি। তবে সেখানে দেখা যায় যে সোলেমান ব্যারিস্টারি পড়তে লন্ডন যাচ্ছে। এখানে তথ্য হিসেবে এটা মনে রাখা অপ্রাসঙ্গিক হবে না যে, এই কাহিনি দুটোর রচয়িতাদ্বয় সিলেটের অধিবাসী এবং সিলেট-লন্ডন যোগাযোগ বেশ পুরানো এক ঘটনা। এভাবে এ দুটো বই পুরাকথা এবং সমকালের মধ্যে যাওয়া-আসা করেছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;মুমূর্ষু চটি ও বিপন্ন নারী&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;উল্লিখিত দুই শ্রেণির চটিবইতে নারীচরিত্রের দুরকম বিপন্নতা লক্ষণীয়। প্রথম শ্রেণির চটিবইগুলো লিখিত হয়েছে সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে, ফলত নারীচরিত্রগুলো প্রতিবেদনভাষ্যের অতিরিক্ত কিছু দিতে পারে নি। সেই অর্থে এই শ্রেণির চটিবই মূলত মধ্যবিত্ত মানসিকতার নারীকেই ফুটিয়ে তুলেছে। সালমান শাহ কিংবা খুকু-মনিরের ঘটনায় মধ্যবিত্ত যেমন করে সালমান শাহ-র প্রেমিকা এবং খুকুর ওপর হামলে পড়েছিল, চটিবইতেও সেরকমই দেখা যায়। পার্থক্য এটুকু যে, যে স্ক্যান্ডালটা সংবাদপত্রের প্রতিবেদন রেখে-ঢেকে ইঙ্গিতে প্রচার করেছে, চটিবই সেটার অনেকদূর বিস্তার করে দেখিয়েছে। কল্পনার রং চড়িয়েছে বেশ খানিকটা। এহেন চটিবইয়ের বাজার পাওয়ার পেছনে নিম্নবর্গের মানুষের শ্রেণিবিদ্বেষকে পুঁজি করা হয়েছে সন্দেহ নেই। ফলে একে নিম্নবর্গের সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ হিসেবে ভাবা দুরূহ, বরং এখানে নিম্নবর্গের চিন্তা একান্ত বাধ্যগতের মতো উচ্চবর্গের চিন্তার ছক অনুসরণ করেছে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পরের দৃষ্টান্ত দুটোতে অবস্থা কিছুটা ভিন্ন। এই দুটো চটি গড়ে ওঠেছে মূলত কিচ্ছাকাহিনির আদলে। ফলে এদের নারীদের বিপন্নতাও রূপকথার নারীচরিত্রের বিপন্নতার মতোই। নারী যেখানে অন্তঃপুরবাসিনী (আনারকলি) সেখানে তাকে এভাবেই দেখানো হয়েছে। আবার যেখানে সে ট্যাবুনাশিনী, সেখানে চটি তার স্বভাবসিদ্ধ দুর্ধর্ষভঙ্গিতে সেটাই বিবৃত করেছে। এক্ষেত্রে তাকে সহায়তা দিয়েছে উপকথার শক্তিমান নারীরা। উচ্চবর্গীয় ভ্র“কূটির ভয় থেকে এখানে সে অনেকটাই মুক্ত। এমনকি স্ক্যান্ডালের লোভও তাকে টলাতে পারে নি একবিন্দু। লক্ষণীয় যে, কাহিনিতে বর্ণিত রোকেয়া কিংবা আনারকলি যে খুব নিম্নবর্গীয় চরিত্র এমনটা নয়। তবু তাদের ওপর শ্রেণিবিদ্বেষের আছর পড়ে নি, সম্ভবত রূপকথার বর্মসমূহ তাদের রক্ষাব্যূহ হয়ে ছিল বলেই। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;চটিবই কিংবা বটতলার পুস্তক তার অভিষেকে যে ধরনের প্রতিশ্রুতিসমেত হাজির হয়েছিল, কালেক্রমে আজ তার অনেককিছুই বদলে গেছে। আজও চটিবই মূলত নিম্নবর্গের বিনোদনের জন্যই প্রকাশিত হয়, তবে তার কতটা নিম্নবর্গের চিন্তাভাবনাকে অনুসরণ করে লেখা তা প্রশ্নসাপেক্ষ। বরং একটা সমরূপীকরণের প্রবণতা দেখা যায় এসব পুস্তকে, যা মূলত নিম্নবর্গের মনোভাবকে উচ্চবর্গীয় মূল্যবোধের শাসনে বেঁধে রাখবার স্পৃহা থেকে উৎসারিত। সংবাদপত্র এক্ষেত্রে এই ধরনের নিয়ন্ত্রণের এজেন্সি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রূপকথা এবং কিচ্ছাকাহিনি একে টানে উলটোদিক থেকে। চটিবইয়ের ক্ষেত্রে এই টানাপড়েনের খেলায় সংবাদপত্র যতই নির্ণায়ক হয়ে উঠছে, ততই এই শিল্পটি দূরে সরে যাচ্ছে নিম্নবর্গের সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের প্রতিনিধিত্বশীলতা থেকে। এসব কারণে, চটিবইয়ের নারী যত বিপন্ন হয়েছে, মাধ্যম হিসেবে চটিবই ততই মুমূর্ষু হয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;গ্রন্থপঞ্জি&lt;br /&gt;&lt;/span&gt; &lt;br /&gt; Anindita Ghosh, 2003, An Uncertain "Coming of the Book": Early Print Cultures in Colonial India, Book History Vol 6 (23-55).&lt;br /&gt; -----, 1998, Literature, Language and Print in Bengal: c 1780 – 1905, unpublished PhD thesis, Cambridge: University of Cambridge. &lt;br /&gt; Debjani Sengupta, 2002, Mechanicalcutta: Industrialization, New Media in the 19th Century, Sarai Reader: The Cities of Everyday Life, pp 149-58.&lt;br /&gt; Sanjay Sircar, 2006, Mou-rani, a lost 1940s Bengali Pornographic Street-text and a context for it, South Asian Popular Culture, 4:1 (87-91).&lt;br /&gt;&lt;br /&gt; এমডি কামরুল হাসান বিএ, প্রকাশসাল অজ্ঞাত, সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেল সালমান শাহ, ঢাকা: সালমা বুক ডিপো।&lt;br /&gt; কবি জালাল খান ইউসুফী, প্রকাশসাল অজ্ঞাত, রোকেয়া বিবি করুণ কাহিনী কবিতা, ঢাকা : হেলেনা প্রকাশনী।&lt;br /&gt; পল্লীকবি ইউসুফ খান, প্রকাশসাল অজ্ঞাত, বিদ্যার বাহাদুরী বা আনারকলির করুণ কাহিনী, ঢাকা : হেলেনা প্রকাশনী।&lt;br /&gt; মশিউর রহমান চৌধুরী, প্রকাশসাল অজ্ঞাত, খুকু-মনির এর ফাঁসি, ঢাকা : স্বরলিপি প্রকাশনী। &lt;br /&gt; মোহাম্মদ আবদুল কাইউম, ১৯৯০, চকবাজারের কেতাবপট্টি : উনিশ শতকে ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সাধনা, ঢাকা : ঢাকা নগর জাদুঘর।&lt;br /&gt; মুনতাসীর মামুন, ২০০৭, কোথায় গেল সেই পথকবিতা, মুদ্রণের সংস্কৃতি ও বাংলা বই, স্বপন চক্রবর্তী সম্পাদিত, কলকাতা : অবভাস। &lt;br /&gt; -----, ২০০৬, ঢাকার হারিয়ে যাওয়া বইয়ের খোঁজে, ঢাকা : অনন্যা।&lt;br /&gt; শ্রী পান্থ, ১৯৯৭, বটতলা, কলকাতা : আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড।&lt;br /&gt; সুকুমার সেন, ২০০৮, বটতলার ছাপা ও ছবি, কলকাতা : আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8711979249453840341-6804838496162805628?l=joyodrath.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://joyodrath.blogspot.com/feeds/6804838496162805628/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8711979249453840341&amp;postID=6804838496162805628&amp;isPopup=true' title='1টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/6804838496162805628'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/6804838496162805628'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://joyodrath.blogspot.com/2009/04/blog-post.html' title='মুমুর্ষূ চটিবই আর তার বিপন্ন নারীরা'/><author><name>সুমন রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16436814493171446627</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SK3K-srIq0I/AAAAAAAAAEk/KiOzO5TiBOk/S220/Sumon9_resize.jpg'/></author><thr:total>1</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8711979249453840341.post-8320489358659526143</id><published>2009-02-17T23:08:00.003+06:00</published><updated>2009-02-17T23:16:30.010+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='নিম্নবর্গীয়পনা'/><title type='text'>বহুদিন পর নিজের ঘরে এসে...</title><content type='html'>বিদ্যাকুটে এলাম অনেক দিন পর। অনেক ধুলো জমেছে দেখি! পাসওয়ার্ড পর্যন্ত ভুলে গেছিলাম!! &lt;br /&gt;বিদ্যাকুটকে পোড়োবাড়ি লাগছে একদমই।&lt;br /&gt;আমাকে যারা এখানে ভিজিট করেছেন, তারা কি মনে রেখেছেন এই সাইটটিকে?&lt;br /&gt;মনে রাখলে দয়া করে একটা করে মন্তব্য রেখে যাবেন।&lt;br /&gt;হিল্লি-দিল্লি করছি, কিন্তু নিজের ব্লগেই থিতু হতে চাই।&lt;br /&gt;&lt;span class="fullpost"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8711979249453840341-8320489358659526143?l=joyodrath.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://joyodrath.blogspot.com/feeds/8320489358659526143/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8711979249453840341&amp;postID=8320489358659526143&amp;isPopup=true' title='6টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/8320489358659526143'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/8320489358659526143'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://joyodrath.blogspot.com/2009/02/blog-post.html' title='বহুদিন পর নিজের ঘরে এসে...'/><author><name>সুমন রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16436814493171446627</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SK3K-srIq0I/AAAAAAAAAEk/KiOzO5TiBOk/S220/Sumon9_resize.jpg'/></author><thr:total>6</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8711979249453840341.post-6334605123244454361</id><published>2008-11-12T09:38:00.000+06:00</published><updated>2008-11-12T09:40:20.399+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='জার্নাল'/><title type='text'>মান্দার, সুমন প্রবাহন, আর সব নিখোঁজ মুখেরা</title><content type='html'>২০০৩ সাল। দীর্ঘদিনের হাইবারনেশন কাটিয়ে ছন্দে ফেরার চেষ্টা করছি। ঢাকায় এসে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পুরানো বন্ধুদের একসাথ করলাম। তাদের কেউ কেউ নেই, কেউ কেউ মুমূর্ষু, কারো কারো জীবনের পথই পাল্টে গেছে। আমাদের জং ধরা সব তলোয়ার, ঠিক করলাম পত্রিকা করবো একটা। জীবন থেকে জং ছাড়াতে হবে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পত্রিকার নাম ঠিক হল "মান্দার"। একে ঘিরে রিফাত চৌধুরী, কাজল শাহনেওয়াজ, কফিল আহমেদ, শামসেত তাবরেজী, মাহবুব পিয়াল, আয়শা ঝর্ণা এবং আমি একত্র হলাম। কখনো শাহবাগ, কখনো কাজল শাহনেওয়াজের বাসায়, কখনো ধানমন্ডির কোনো রেস্তোরাঁয় বসে বসে পরিকল্পনা আগায় আমাদের।&lt;br /&gt;&lt;span class="fullpost"&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এর মধ্যেই কফিল আহমেদ বললেন, কাগজ করতে হলে এখনকার যারা তরুণ তাদের চিন্তাভাবনা সম্পর্কে তো জানতে হবে। আকাশ থেকে পড়লাম। তাইতো? আমরা তো আর তরুণ নই! আমাদের পর আরো দুটি প্রজন্ম চলে এসেছে এতদিনে। কী করছে তারা? কী লিখছে? তারা কি আমাদের নন্দনতত্ত্বের উত্তরাধিকার বহন করছে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;চোখে পড়ল "কালনেত্র" নামে একটা পত্রিকা। কী ঝকঝকে! শাহবাগের অন্যসব জটায়ুমার্কা লিটলম্যাগ নয়, কী প্রকরণে, কী লেখায়। একে একে আরো কয়েকটি কাগজ চোখে পড়ল। ভাবলাম "মান্দার" এসব তারুণ্যের সাথে আমাদের যোগাযোগের একটা পাটাতন হোক।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এমনি এক সময়ে সুমন প্রবাহনকে প্রথম দেখি। কফিল আহমেদ পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। অন্তর্মুখী এক তরুণ। এমন নিচুস্বরে কথা বলেন যে কান খাড়া করে শুনতে হয়। বিভিন্ন জায়গায় ওর দুয়েকটা কবিতা পড়েছিলাম, ঠিক করলাম ওকে "মান্দার"এ লিখতে বলবো। বলাতে রাজি হয়ে গেলেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এভাবেই আমার সম্পাদিত একমাত্র সাহিত্য পত্রিকার একমাত্র ইস্যুতে সুমন প্রবাহনের নামটি আমাদের সাথে গেঁথে রইল। "মান্দার" প্রশংসা কুড়িয়েছিল, অঘটনও কম ঘটে নি এর প্রকাশনা ঘিরে। সেসব অন্য কোনো সময়ে বলা যাবে। কাগজ নাম কুড়ালেও এর হ্যাপা সামলাতে গিয়ে আমার দম শেষ হয়ে গেছিল। ফলে, আর সব প্রকৃত লিটলম্যাগের মত "মান্দার"ও প্রথম বর্ষ প্রথম সংখ্যায় আটকে থাকল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বলা বাহুল্য, সুমন প্রবাহনের সাথে আমাদের যোগাযোগটিও "মান্দার" দ্বিতীয় সংখ্যার মত পেন্ডিং হয়ে থাকল। দেখা হত শাহবাগে, মাঝে মাঝে একসাথে চা-সিগ্রেটও হত। আস্তে আস্তে খেয়াল করছিলাম আমাদের তরুণ কবিবন্ধুটি একটু একটু করে ছন্নছাড়া জীবনের দিকে যেন ঝুঁকছেন। দেখি আর দীর্ঘশ্বাস ফেলি। আশির দশকে এরকম বদলে যাওয়ার চিত্র অনেক দেখেছি। নতুন কিছু তো নয়। সুমন প্রবাহনকে দেখি, মনে পড়ে শাহেদ শাফায়েত এর কথা, বিষ্ণু বিশ্বাসের কথা, এমন কি শোয়েব শাদাব এর কথাও। কী সব অমিত প্রতিভাবানদের সেই সময়। কিন্তু কখনো মনে পড়ে নি শামীম কবির এর কথা। কখনো ভাবি নি আমাদের তরুণ এই কমরেড শামীম কবির এর পরিণতি নিজের জন্য নির্বাচন করবেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মাঝে মাঝে ভাবি, সেই আশির শুরু থেকে আমাদের প্রিয় প্রতিভাগুলোর ঘাড় মটকিয়ে বাঙলা কবিতা বেশ রক্তপায়ী হয়ে উঠেছে। রক্তের নেশা ওকে পেয়ে বসেছে। ইতোমধ্যে ঝরে যাওয়ার তালিকাটি কিন্তু ফুলে ফেঁপে উঠছে ক্রমশ: সুনীল সাইফুল্লাহ, সাবদার সিদ্দিকী, বিষ্ণু বিশ্বাস, শোয়েব শাদাব, শাহেদ শাফায়েত, শামীম কবির, সঞ্চয় প্রথম এবং সুমন প্রবাহন। এদের মধ্য সুনীল, শামীম আর সুমন বেছে নিয়েছেন স্বেচ্ছামৃত্যু। বাকিদের কেউ মৃত, কেউ বা নিখোঁজ, কেউ শেকলবন্দী, কেউ বা স্রেফ ভবঘুরে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সুমন প্রবাহনের ৩৩তম জন্মদিবসের এই দিনে একে একে অন্য সবার মুখ মনে পড়ছে আমার। যেন একটা ছোটখাট মিছিল, বাঙলা কবিতার বলয় থেকে চিরকালের জন্য হারিয়ে যাওয়া আমার ভাইদের।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কবিতা এসব অসম্পূর্ণ চেষ্টাগুলোকে, এই উল্কাপিন্ডের মত জীবনগুলোকে, এইসব তীব্র ভালোবাসাগুলোকে কিভাবে মনে রাখবে? তারা কি তাদের নিজ নিজ পরিবার আর বন্ধুদের স্মৃতির উপলক্ষই হয়ে থাকবেন?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8711979249453840341-6334605123244454361?l=joyodrath.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://joyodrath.blogspot.com/feeds/6334605123244454361/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8711979249453840341&amp;postID=6334605123244454361&amp;isPopup=true' title='1টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/6334605123244454361'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/6334605123244454361'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://joyodrath.blogspot.com/2008/11/blog-post_12.html' title='মান্দার, সুমন প্রবাহন, আর সব নিখোঁজ মুখেরা'/><author><name>সুমন রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16436814493171446627</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SK3K-srIq0I/AAAAAAAAAEk/KiOzO5TiBOk/S220/Sumon9_resize.jpg'/></author><thr:total>1</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8711979249453840341.post-7512559271168597247</id><published>2008-11-07T13:59:00.005+06:00</published><updated>2008-11-07T14:42:33.054+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='জার্নাল'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='প্রথম প্রকাশ'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='সমালোচনা'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='দ্রুতপঠন'/><title type='text'>প্রথম আলো-র ১০ বছরের ১০ বই: কিছু পর্যবেক্ষণ</title><content type='html'>প্রথম আলো বছরে বেশ কয়েকবার বই নির্বাচন করে থাকে। সেরা ১০ মননশীল বই, সেরা ১০ সৃজনশীল বই, তরুণদের সেরা ১০ বই, প্রথম আলো বছরের সেরা মননশীল ও সৃজনশীল বই, ইত্যাদি। বাংলাদেশের সাহিত্যজগতে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট। ফলে এসব নিয়ে আলোচনা-সমালোচনারও শেষ নেই। সব মিলিয়ে এই উদ্যোগ খুবই উৎসাহব্যঞ্জক।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এবার, পত্রিকার ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রথম আলোর সাহিত্য সাময়িকী আরেকটি বাছাই উপহার দিয়েছে। ১০ বছরের ১০ বই। লেখক তালিকায় আছেন সর্বজনাব হাসান আজিজুল হক, গোলাম মুরশিদ, হুমায়ুন আহমেদ, আবদুশ শাকুর, আনিসুজ্জামান, আনিসুল হক, নির্মলেন্দু গুণ, আলতাফ হোসেন, শহীদুল জহির এবং অদিতি ফাল্গুনী। বলাবাহুল্য ১০ বছরে ১০টি বই নির্বাচন করা খুবই দুঃসাধ্য কাজ এবং এরকম নির্বাচনকে সর্বতোভাবে প্রতিনিধিত্বশীল ভাবা মুশকিল। তালিকায় যাঁরা আছেন এঁদের অনেকেই ভাল লেখক। কিন্তু যারা প্রথম আলো-র এই স্বীকৃতি প্রদানের প্রক্রিয়াটি দীর্ঘদিন ধরে খেয়াল করছেন তাদের মনে এই তালিকা কিছু পর্যবেক্ষণের জন্ম দেবে। যেমন:&lt;br /&gt;&lt;span class="fullpost"&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১. তালিকায় হুমায়ুন আহমেদ এর "জ্যোছনা ও জননীর গল্প" আছে, কিন্তু এই বইটিকে হারিয়ে দিয়ে যে বইটি প্রথম আলো পুরষ্কার জিতে নিয়েছিল ("প্রেম ও প্রার্থনার গল্প" - সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম) সেটি নেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;২. তালিকায় শহীদুল জহির আছেন, কিন্তু শাহীন আখতার নেই। স্মর্তব্য, শাহীন আখতার-এর "তালাশ" প্রথম আলো পুরষ্কার পেয়েছিল শহীদুল জহিরকে বইকে পেছনে ফেলে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আরো আরো প্রশ্ন হয়ত করা যায়। তবে এই ইস্যুতে প্রশ্ন জাগে: কেন প্রথম আলো পুরষ্কার পাওয়া শাহীন আখতার এবং সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের জায়গা নিয়ে নিলেন তাদের রানার-আপবৃন্দ? এটা কি কোনো কনপেনসেশন প্যাকেজের আওতায় ঘটল? নাকি প্রথম আলো এখন ভাবছে  হুমায়ুন আহমেদ কিংবা শহীদুল জহিরকে রেখে শাহীন আখতার কিংবা সৈয়দ মনজুরুল ইসলামকে সেরা লেখক নির্বাচন করা যথাযথ বিবেচনা ছিল না তাদের?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8711979249453840341-7512559271168597247?l=joyodrath.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://joyodrath.blogspot.com/feeds/7512559271168597247/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8711979249453840341&amp;postID=7512559271168597247&amp;isPopup=true' title='5টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/7512559271168597247'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/7512559271168597247'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://joyodrath.blogspot.com/2008/11/blog-post.html' title='প্রথম আলো-র ১০ বছরের ১০ বই: কিছু পর্যবেক্ষণ'/><author><name>সুমন রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16436814493171446627</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SK3K-srIq0I/AAAAAAAAAEk/KiOzO5TiBOk/S220/Sumon9_resize.jpg'/></author><thr:total>5</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8711979249453840341.post-115349420303767204</id><published>2008-10-15T13:02:00.002+06:00</published><updated>2008-10-15T13:13:56.240+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='নিম্নবর্গীয়পনা'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='&quot;কবিসভা&quot; থেকে'/><title type='text'>মধ্যবিত্তের কানসাট ও আন্তঃবিত্তীয় যোগাযোগ</title><content type='html'>কবিসভায় তর্ক হৈতেছিল কানসাট, মধ্যবিত্ত এবং আন্তঃবিত্তীয় যোগাযোগ লৈয়া। কানসাটের বিক্ষোভের সাথে সংহতি প্রকাশ করার জন্য কয়েকজন সংবেদনশীল কবি-সাহিত্যিক-রাজনীতিক একটা সভা আহ্বান করছিলেন টিএসসি-তে, সেইখানে উনারা উনাদের উদ্দিষ্ট শ্রোতৃমন্ডলীর ভিতর দুইচাইরজন ‘শ্রমিক শ্রেণীর’ লোক দেখতে চাইছিলেন। সেইটা ছিল জনাব ব্রাত্য রাইসুর আপত্তির বিষয়। ১. রাইসু মধ্যবিত্তের আয়োজন-করা সমাবেশে শ্রমিক শ্রেণীসদস্যদের এইরকম প্যাসিভ অংশগ্রহণের মধ্যে কোনোই মাহাত্ম্য পান নাই। তার কাছে একটা বহুচর্চিত ফর্মাটের মতই লাগতেছিল এই ধরনের আমন্ত্রণ। এবং ২. এই ধরনের সভাকে নিম্নবিত্তের তরফে মধ্যবিত্তের মতা কুক্ষিগত করা বা জাতির বিবেক হৈয়া উঠার প্রচেষ্টা লাগে রাইসুর।&lt;br /&gt;&lt;span class="fullpost"&gt;&lt;br /&gt;রাইসুর প্রথম যুক্তি না-মানার কোনো কারণ দেখি না। প্রতিবাদ সংহতির উদ্দেশ্য যদি হয় ‘কানসাটের ঘটনাকে মধ্যবিত্ত সমাজে চাউর করা’ (ফারুক ওয়াসিফের চিঠি) তাইলে সেখানে শ্রমিক শ্রেণীর ‘স্যাম্পল’ রাখার কী ফায়দা? সেটা কি এজন্য যে, এতে কৈরা কানসাট লৈয়া মধ্যবিত্ত সমাজে আরো যা যা আলোড়ন-বিলোড়ন চলতেছে, তাদের সবার থিকা এই সংহতিসভার আয়োজকবৃন্দ যে বেশি ‘মূলানুগ’, কিংবা প্রতিনিধিত্বশীল -- সেই দাবি করতে পারেন? (বাক্যটা জটিল হৈয়া গেল! একটু ভাইঙ্গা ভাইঙ্গা বুইঝা লৈয়েন সবাই।)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অরূপ রাহী, ফারুক ওয়াসিফ কিংবা ইফতেখার মাহমুদ (আরো যারা যারা যুক্ত ছিলেন এই সংহতিসভায়) প্রমুখের নিম্নবিত্ত-দরদে আমার ব্যক্তিগতভাবে কোনো সন্দেহ নাই। এমনকি, গোটা মধ্যবিত্তসমাজে দলিত-সমব্যথী যারা যারা আছেন এবং নানাভাবে সেইটা প্রকাশ কৈরা যাইতেছেন, তাদের সবার মধ্যে এই ভাইদের (রাহী-ওয়াসিফ-লিপু)অগ্রগণ্য বিবেচনা করতেও আমি পিছপা নই। কিন্তু উনাদের সংহতিসভায় শ্রোতাশ্রেণীর যে সাম্যবাদ, বা ক্রস-শ্রেণী-অভিসার, সেইটা উদ্দেশ্যের দিক থিকা মহৎ মনে হৈলেও যোগাযোগের জ্ঞানগত বিবেচনায় কিছুটা অবাস্তব, তাতে সন্দেহ নাই আমার।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কিন্তু, মধ্যবিত্ত যদি নিম্নবিত্তের (তথা জাতির) কণ্ঠস্বর হৈবার চায়, তাইলে কী ক্ষতি (রাইসু এবং ভাস্করকে প্রশ্ন)? ইতিহাসে দেখা গেছে, নিম্নবিত্ত তাদের প্রয়োজনে সমব্যথী মধ্যবিত্ত সমাজের কাউকে নেতা বানায় (স্পার্টাকাস, লেনিন, মাও, হালে রব্বানী)। হয়ত এজন্য যে, একক কণ্ঠস্বর হৈয়া উঠার যে মধ্যবিত্তীয় সংস্কৃতি, সেইটা নিম্নবিত্ত আয়ত্ব করতে চায় না। কিংবা এজন্য যে, অভিজাতের সাথে লড়াইটা কয়েকধাপ ওপর থিকা আরম্ভ করবার যোগাযোগগত সুবিধা। নিম্নবিত্ত যদি মধ্যবিত্তরে তাদের প্রয়োজনে নেতা বানায়া ‘ইউজ’ করবার পারে, তাইলে মধ্যবিত্তও শ্রেণীগত নেতৃত্বলাভের বাসনা থিকা নিম্নবিত্তের আন্দোলনের পুরোভাগে (সমব্যথাসহ) দাঁড়ায়া যাইতে পারে। পারে না? এখানে বিষয়টাকে স্ট্র্যাটেজি অর্থে বিবেচনা করা ভাল, নীতিশাস্ত্রের দিকে না গিয়া। কারণ, নীতিশাস্ত্র প্রথমেই এই তর্কের প্রিমাইজটাকে চ্যালেঞ্জ করে: যা কিছু মহত্ত্ব সবই নিম্নবিত্তের আর যা কিছু ‘খাউজানি’ সবই মধ্যবিত্তের? এই ধরনের মূল্যারোপ নীতিশাস্ত্রসম্মত নয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কানসাট বিষয়ে প্রশ্নজাগর হওয়ায় রাইসুরে উছিলা কৈরা ‘কবিসভা’ তথা কবি সাহিত্যিকদের রাজনৈতিক ‘নিষ্ক্রিয়তা'কে বেশ একচোট নিলেন কেউ কেউ (উনারা নিজেরাও কবিসভার মেম্বার!)। এইটা দৃষ্টিকটু ও শ্রুতিকটু শোনাইছে। কে কখন কোন্ উদ্দীপনায় গরম হৈয়া উঠবে, সেইটা আন্দোলনের মাহাত্ম্য দিয়া ডিকটেট করা যায় না (তাইলে আমবাগানের জনগণ পলাশীর যুদ্ধের দর্শক হৈয়া থাকতেন না!) বাংলা সাহিত্য কার পানে ‘ভেটকাইয়া’ পৈড়া আছে সেইটা বাংলা সাহিত্যের অন্তর্যামী জানেন, আর বাংলা রাজনীতি কার পানে ভেটকাইতেছেন সেইটাও আগাম বৈলা দেওনের ব্যবস্থা নাই। থাকলে যে সংহতিসভার দাওয়াত আমরা পাইছি, সেইটা আরো আগে আয়োজিত হৈতে পারত। হয় নাই, কারণ আমাদের উদ্দীপ্ত হওনের নিজ নিজ ধরন আছে, ব্যক্তিভেদে, গোত্রভেদে, সংগঠনভেদে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘মহান’ কোনো মিশন নাই এমন সাহিত্যের দিকে অতীতের বামরাজনীতি একটু চোখ গরম কৈরাই তাকাইছে। যেন সাহিত্যের পুলিপিঠা একমাত্র তারই ভাপে সিদ্ধ হওয়া উচিত। মহাত্মা সাহিত্যিক ম্যাক্সিম গোর্কি, মায়াকভস্কি প্রমুখ এই কর্মকাণ্ডে বিস্তর ইন্ধন (অজ্ঞাতসারে) জোগাইছেন। উনাদের কর্মকান্ডের ওপর ভর কৈরা বামপন্থা ‘ঈমানপাতলা’ সাহিত্যিকের জন্য একটা ম্যানুয়াল বানাইবার চাইছে সেই সোভিয়েতকাল থিকা। সেই ম্যানুয়াল যুগে যুগে চাপান হৈছে পাস্তরনাক কিংবা সোলঝেনিৎসিন প্রমুখের কলমের আগায়। উনারা পলায়া পলায়া বাঁইচা ছিলেন, অনেকে পলায়াও বাঁচবার পারেন নাই। সেই আমলে স্ট্যালিনের হাত নাকি খোদার হাত থিকাও লম্বা আছিল!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সেই রামও নাই, অযোধ্যাও নাই। তবু মাঝে মাঝে ফোঁসফাঁস ফোঁসফাঁস শোনা যায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আরেকটা বিষয়: মানি আর নাই মানি, মধ্যবিত্ত মূলত প্রদর্শনের রাজনীতির-ই ভোক্তা। কানসাটের বিক্ষোভ নাগরিক মধ্যবিত্তের কাছে একটা টেলিভিজুয়াল রিয়েলিটি। অর্থাৎ, যারে ‘কর্পোরেট’ বৈলা গালি দেই, সেই মিডিয়াই কানসাট-কে আমাদের মত ‘বিবেকবান’ মধ্যবিত্তের সামনে হাজির করছে। আমাদের দিলে সহমর্ম তৈয়ার করছে। এইসবের কিউমিলিটিভ পরিণামেই সরকার তার মারদাঙ্গানীতি বদলাইতে বাধ্য হৈছে। কানসাটের বিজয় উদযাপনে টিএসসি-র সংহতিসভার যে ভূমিকা, তার চেয়ে সেই বিজয় অর্জনে মিডিয়ার গুরুত্ব কোনো অংশেই কম নয়। বেশি কি না, সেইটা হিসাব করলেই বোঝা যায়। যদি না বোঝা যায়, ‘কর্পোরেট’ মিডিয়ার এই রোল প্লে-কে যেসমস্ত রাজনৈতিক তত্ত্বকাঠামোর মধ্যে প্রশংসা করা না যায়, সেসমস্ত রাজনীতির খোলনলচা পাল্টাইবার সময় আসছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;২০০৬&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;পরিশিষ্ট (কানসাট তর্কের নির্বাচিত অংশ)&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;`jeishob KLSB-sramik-peshajibi-rajnoitik-shangskritk kormi'- punjibad, purushtantra-shoshon-nipiron-nirjaton er biruddhe kaj korte chai, tader moddhe amar nam thakle amar bhaloi lagbo. ei lobh amar ase.ami ei lobher charcha kori. porishkar. porichoy to shamajik-rajnoitik nirman. &lt;br /&gt; &lt;br /&gt;shobhar shobbho ra ki bolen?&lt;br /&gt;    [অরূপ রাহীর চিঠি]&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;টিএসসিতে আয়োজিত প্রতিবাদ সংহতির একটা লক্ষ্য ছিল, কানসাটের ঘটনার তাৎপর্যকে মধ্যবিত্ত সমাজে চাউর করা। আরেকটি লক্ষ্য ছিল, কানসাট যেভাবে পল্লীবিদ্যুতের শোষণ এবং রাষ্ট্রের খুনী চরিত্রকে তুলে ধরেছে, মধ্যবিত্ত মহলে তার জের টেনে লড়াইয়ের&lt;br /&gt;ধ্বনিকে প্রতিধ্বনিত করা।&lt;br /&gt;       [ফারুক ওয়াসিফের চিঠি]&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমরা সুশীল লেখকেরা পরিচিত সম্ভাবনাময় সুশীল শ্রমিককূলেরে নিয়া একটি সংহতি সমাবেশ আসলে কী কারণে করুম! আর তাও আমাগো এলাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকা সংলগ্ন! কারণ সেই প্রচার! আমি এই উদ্দেশ্যরে নেতিবাচক দেখি না অবশ্যই! কিন্তু এই অভিপ্সারে আমার মধ্যবিত্তের কুরকুরানীবৎ-ই লাগে!&lt;br /&gt;       [ভাস্কর আবেদীন-এর চিঠি]&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;shobkisui rajniti hoite pare hoito, tobe rajnitir ekta kaj hoilo shatru-mitra bhed, pokkho-bipokho-niropekkho khela chinte para.apne kar pokkhe ba niropokkhe? na ki gorib, borolok, moddhobitto shobar bibhinno bishoy e nijer pokkhe kotha bolen?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;somaj shongshar nia apner kono nirdisto bekkha ase naki? ja dia amra 'shathik' upaye cholte firte bolte ebong na bolte pari? na ki , `tui cholte lag, ami tor pison thika shoja-dan-bam komu' ei line-e asen?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;      [অরূপ রাহীর প্রশ্ন, ব্রাত্য রাইসুকে]&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;gorib-er andolon luth koira nia buddhijibira je jatir konthoshor  hoiya othar cheshtai roto kintu hoite partese na eita sthitabostha? sramik-ra je lekhok kabi buddhijibigo loge ek pongktite boshtei partese na eita sthitabostha?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;      [ব্রাত্য রাইসুর প্রশ্ন, অরূপ রাহীকে]&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এক সাক্ষাৎকারে চমস্কিরে জিজ্ঞেস করা হইছিলো, বুদ্ধিজীবীর দায় কী। উত্তরে চমস্কি কইলো, কাজ হইলো সহজ জিনিসরে জটিল কইর‌্যা তুইল্যা ধরা।...... রব্বানী কানসাটের মানুষগরে আকাঙ্ক্ষারে ধারণ করতে পারছিলো বইল্যাই হেরে নেতা বানাইছে মানুষ। যখন আর ধারণ করতে পারবো না, তখন লাথ মাইর‌্যা সরাইয়া দিবো। আমার স্বল্পজ্ঞানে এতটুকুই বুঝতাছি। &lt;br /&gt;         [বাঁধন অধিকারী]&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;lekhok, kabi, buddhiji-go loge  jokhon sromikgo kotha tola hoi tokhon shurutei sromik je lekhok,  kabi ba buddhijibi hoite pare na ba parbo na ei shiddhanto deoya &lt;br /&gt;hoiya jai. tokhon oi shobhai alongkarer adhik kono kam thake na  sromik shahebgo.&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;         [ব্রাত্য রাইসু]&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই শহরে সভা করিয়া ‘কলা’ করা হয়। কলার (আর্ট) নানান ছাল-বাকলা ছিড়িয়া রসাস্বাদন চলে। বাংলা সাহিত্য আপনাদের পথপানে ভেটকাইয়া পইড়া আছে, আপনারা তাকে উদ্ধার করবেন এই ভরসায় আছিলাম, আর দেখছিলাম সেইখানে কত কত বিষয়, কত মহার্ঘ আলোচনা উঠিতেছে আর পড়িতেছে, কত আগডুম বাগগুডুম ধ্বনিতে কান জারবার হইতেছে-তারপরও ভালই ছিল। খামাখা রাজনীতির কথা আনা রাহীর ঠিক হয় নাই। আপনারা তো ওইসব ভাবেন না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;        [ফারুক ওয়াসিফের চিঠি]&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8711979249453840341-115349420303767204?l=joyodrath.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://joyodrath.blogspot.com/feeds/115349420303767204/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8711979249453840341&amp;postID=115349420303767204&amp;isPopup=true' title='2টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/115349420303767204'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/115349420303767204'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://joyodrath.blogspot.com/2008/10/blog-post_15.html' title='মধ্যবিত্তের কানসাট ও আন্তঃবিত্তীয় যোগাযোগ'/><author><name>সুমন রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16436814493171446627</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SK3K-srIq0I/AAAAAAAAAEk/KiOzO5TiBOk/S220/Sumon9_resize.jpg'/></author><thr:total>2</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8711979249453840341.post-1072519723212010475</id><published>2008-10-11T12:18:00.006+06:00</published><updated>2008-10-11T12:36:45.505+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='সমালোচনা'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='দ্রুতপঠন'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='&quot;কবিসভা&quot; থেকে'/><title type='text'>মিজান মল্লিক-এর কবিতা: পাঠপ্রতিক্রিয়া</title><content type='html'>যারা সময়াভাবে মিজান মল্লিকের কবিতা পড়বার সুযোগ পান নাই, তাদের জন্য আমার এই বাড়তি বদান্যতা। দয়া কৈরা মিজান মল্লিকের কবিতার দুইটা স্যাম্পল একবার পড়েন আপনেরা ...&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;&lt;br /&gt;মনোরঞ্জন&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দেখলাম, বরই বিষয়ে লোকেদের উৎসাহ অনেক।&lt;br /&gt;বাচ্চাদের কৌতূহল বিস্ময়কর! বড়রা অভিজ্ঞ থাকায় ছল-চাতুরী করে।&lt;br /&gt;দেখলাম, গাছে চড়ে অনেকেই বরই পাড়ে আর যারা গাছে উঠতে পারে না তারা&lt;br /&gt;দূর থেকে ঢিল ছোঁড়ে-আঁকশি ব্যবহার করে। অবশ্য বরই বিকি-কিনি হয় বাজারে।&lt;br /&gt;ঠিক কবে থেকে? সেই ইতিহাস আমার ম্মরণে নাই।&lt;br /&gt;&lt;span class="fullpost"&gt;&lt;br /&gt;যারা ইকনোমিক্স ভালো বোঝে-তারা গাছেরটাও খায় তলারটাও।&lt;br /&gt;এমন কিছু মুখ আমার চেনা, যারা কদাচিৎ চেখে দেখেছে, আর কিছু-&lt;br /&gt;(আমার জানামতে অন্তত এক জন) জীবনে একবারও বরই না খেয়ে পটোল তুলেছে।&lt;br /&gt;তারা নিতান্তই হত-দরিদ্র আর সংস্কারাচ্ছন্ন কিনা ভেবে দেখছি।&lt;br /&gt;এ কথা নিশ্চিত যে লোকেরা বরই খায়। কেউ কেউ আচার তৈরি করে-&lt;br /&gt;রোদে শুকায়, সময় বুঝে আয়েশ করে খায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ভেবে দেখলাম। লোকেরা পরনারী আর পরদেশি ভাষা চর্চা করে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;২৪/৬/৪&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;কালচারের সন তারিখ&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;শাওন মাসের তৃতীয় দিবস। রোজ বৃহস্পতিবার ভোরবেলা আমার জন্ম।&lt;br /&gt;সাল জানা নাই। তবে সংগ্রামের চেয়ে বয়সে আমি ছোট। আমার আম্মা&lt;br /&gt;নিরর না। আরবিতে কোরান পড়তে সম। আর জনক নিরীহ ইশকুল&lt;br /&gt;মাস্টার। রিটায়ার্ড। সৎ। কর্মঠ। সকাল-সন্ধ্যা ননস্টপ কাজ করেন। কথা বলেন কম।&lt;br /&gt;বিষয় আশ্চর্যের তবে বিবরণ সত্য। আমার বাপের বাপও ছিলেন মাস্টার। উপরন্তু পাঠান।&lt;br /&gt;ঘোড়ায় চড়ে তিনি মক্কা-মদিনায় যান। তাঁরে আমি শুনেছি বটে নয়নে দেখি নাই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দাদার ইন্তেকালের সময় আমার বাপের বয়স ছিল নিতান্তই কম। মাত্র সেভেন কাসের ছাত্র।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাপেরে দেখি। তার লগে আমার দারুণ সখ্য। যদিও আমার জন্মবিত্তান্ত তিনি লিখে রাখেন নাই।&lt;br /&gt;অবশ্য তাঁর বাপেও তাঁর জন্মতারিখ লিখে রাখে নাই। আমরা কালচারের নিচে সন তারিখ দিই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;.......&lt;br /&gt;পাঠক, আপনি কি স্বীয় স্মৃতিবিভ্রাট বা লেখকের নামের বিভ্রাটের আশংকা করতেছেন। আসেন আপনেরে আশংকামুক্ত করি। এর কোনোটাই ঘটে নাই। কবিতাগুলো নিশ্চিতভাবেই মিজান মল্লিকের লেখা, তবে, সম্ভবত আগে জন্মানোর সুযোগে পশ্চিমবঙ্গের করি বিনয় মজুমদার উনার ‘পূর্বকরণ’ (অনুকরণের সম্ভাব্য উল্টাশব্দ) করনের মওকা পাইয়া গেছিলেন! তবে মিজান কিন্তু এতকিছুর পরও নিজেরে আলাদা কৈরা চিনাইতে সমর্থ। বিনয়ের ঐসমস্ত বিবৃতিধর্মী কবিতার সাবটেক্সটে ভাবনার অনেক বুদবুদ উড়াউড়ি করে। মিজান তার কবিতায় এইসব ‘অহেতুক’ উড়াউড়ির রাস্তা সিলগালা কৈরা দিছেন। উনার কবিতার সারফেস ইটের মত শক্ত। ঐটাই উনারে চিননের রাস্তা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিনয় মজুমদার বছরে ছয়মাস হাসপাতালে থাকেন শুনেছি। হয়ত ধরাধামেও বেশিদিন থাকবেন না। উনার বন্ধুরা অনেকেই গত হৈয়া গেছেন। বিনয়ের সম্ভাব্য প্রয়াণে যারা ব্যথিত হৈবার প্রস্তুতি মনে মনে লৈতেছিলেন, উনাদেরও বাড়াভাতে ছাই দিলেন মিজান মল্লিক। মনে হৈতেছে এখন থিকা উনিই এই ট্রাডিশন চালায়া লয়া যাইবেন। সাথে আরো থাকতেছে পূর্ববাংলার কনটেক্সট, একদম ফ্রি! বিনয়-ভক্তরা এখন থিকাই চাইলে ক্যাবলা ঘুরায়া বসতে পারেন। আর বিদেশ নয়...এখন থেকে বাংলাদেশেই...! অবশ্য, এই দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে কবি বিনয় মজুমদার এবং কবি মিজান মল্লিকের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চুক্তিস্বাক্ষর হৈছে কিনা আমার জানা নাই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;2005&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8711979249453840341-1072519723212010475?l=joyodrath.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://joyodrath.blogspot.com/feeds/1072519723212010475/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8711979249453840341&amp;postID=1072519723212010475&amp;isPopup=true' title='3টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/1072519723212010475'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/1072519723212010475'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://joyodrath.blogspot.com/2008/10/blog-post_11.html' title='মিজান মল্লিক-এর কবিতা: পাঠপ্রতিক্রিয়া'/><author><name>সুমন রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16436814493171446627</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SK3K-srIq0I/AAAAAAAAAEk/KiOzO5TiBOk/S220/Sumon9_resize.jpg'/></author><thr:total>3</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8711979249453840341.post-6190665060561950036</id><published>2008-10-09T00:01:00.004+06:00</published><updated>2008-10-09T01:00:19.079+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='জার্নাল'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='প্রথম প্রকাশ'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='দ্রুতপঠন'/><title type='text'>রূপক কর্মকারের শাহরিয়ার-প্রজেক্ট!</title><content type='html'>ঘটনাটি ঘটেছে সচলায়তনে। কদিন আগে রূপক কর্মকার নামে এক "অতিথি ব্লগার" সেখানে নাযিল হলেন। তাঁর লক্ষ্য ব্লগের খাতায় কবি আবু হাসান শাহরিয়ারকে প্রমোট করা। সচলায়তনের কেউ কেউ শাহরিয়ার-ভক্ত, ফলে কাজটি তেমন কঠিন নয়। তিনি নাযিল হলেন আবু হাসান শাহরিয়ার-এর একটি সাক্ষাৎকারসহ। সেখানে আ হা শা সচলায়তনের ব্লগারদের "বিশ্ব নাগরিক" জাতীয় বিশেষণে বিশেষায়িত করেছেন। আর যায় কই? সচলায়তনের ব্লগাররা ঝাঁপিখোলা কৃতজ্ঞতা নিয়ে ঝাপিয়ে পড়লেন ঐ &lt;a href="http://www.sachalayatan.com/rupok_kormokar/18682"&gt;পোস্টে&lt;/a&gt;, শাহরিয়ার-বন্দনায় এবং আত্মতুষ্টিতে সচলায়তন বরাবরের মত মুখর হয়ে উঠল। অভিষিক্ত হলেন রূপক কর্মকার নিজেও, তবে সেটি শাহরিয়ার-এর বার্তা পৌঁছে দেয়ার কারণেই। নিজেও তিনি কোনোভাবেই নিজেকে বিশিষ্ট করে তুললেন না, নির্লোভ বার্তাবাহকের মতই দায়িত্ব পালন করলেন। অবাক লাগল! কে এই শাহরিয়ারময় রূপক কর্মকার, শাহরিয়ারের সিগনেচার ছাড়া ত্রিভূবনে যার অস্তিত্ব কিছু নাই। ভাবলাম হতে পারে, কতরকম ভক্তই না জগতে থাকে, প্রভুর পায়ে জীবন সঁপে দেয়া ভক্তেরই কাজ বটে।&lt;br /&gt;&lt;span class="fullpost"&gt;&lt;br /&gt;কিছুপরই বুঝলাম, যত নখদন্তহীন নির্লোভ ভাবা হচ্ছিল তিনি ততটা নন। সচলায়তনের ব্লগার &lt;a href="http://www.muktopran.org/polashdatta/18516"&gt;পলাশ দত্ত&lt;/a&gt; ও মুজিব মেহদীর সাথে রীতিমত পায়ে পা দিয়ে গ্যাঞ্জাম বাঁধানোর ধরন দেখে সেটা আঁচ করা গেল। পলাশ দত্তের কবিতার সমালোচনা করতে গিয়ে যেরকম কৃপাণহস্ত এবং কনফিডেন্ট লাগল রূপককে, মনে হল তাঁর ওপর আবু হাসান শাহরিয়ারের আত্মা যেন ভর করেছে! মুজিব মেহদীর সাথে তর্ক করতে গিয়ে তিনি সেই স্বর অব্যাহত রাখলেন, এবং তাঁর সমর্থনে আরো আরো শাহরিয়ার-ভক্তের আবির্ভাব হতে থাকল সচলায়তনে। মজার বিষয় হল, নতুন এই ভক্তরা কেউ সচলায়তনের নিয়মিত ব্লগার নন, "অতিথি" মন্তব্যকারী। শেষ বোমাটা ফাটালেন সচলায়তন কর্তৃপক্ষ। তারা জানালেন যে রূপক কর্মকার এবং তার সমর্থক-মন্তব্যকারীদের আইপি একই। অর্থাৎ একই ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন নামে কাজ চালিয়েছেন! ভাগ্যিস আবু হাসান শাহরিয়ার-এর আইপি জানেন না তারা! অবশেষে এই ধরনের প্রতারণার অভিযোগে ব্যান খাইলেন রূপক বাবু!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আবু হাসান শাহরিয়ার-এর ইন্টারভিউ পড়ার পর মনে হচ্ছিল যে, তিনি সচলায়তনে প্রবেশ করতে চান। কিন্তু সচলায়তনের প্রবেশপথ তার আকৃতির তুলনায় বেশ ছোট, ততটুকু মাথা নুইয়ে ঢোকার ব্যাপারে শাহরিয়ারের মন হয়ত সায় দিচ্ছিল না। তাই সচলায়তনে রূপকবাবুর আগমন, দরজা বড় করার জন্য, "স্বাগতম" লেখা আলাদা গেট বানানোর জন্য। আইকন হয়ে প্রবেশ করতে চান তিনি, আইকন হয়েই বিহার করতে চান। আবার "প্রিয় কবি"কে এই ব্লগে দেখতে পাবার জন্য আকূল হয়ে উঠেছিলেন অনেকেই। তাতে রূপক বাবু হয়তো একটু বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছিলেন! গুরুর স্টাইলে ছড়ি ঘোরানোর মকশো করতে গিয়েই তীরে এসে তরী ডুবলো তার! তরী ডুবলো কার?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আবু হাসান শাহরিয়ার-এর সাংগঠনিক প্রতিভা আছে, আবার অনেকেই তাঁকে কবি মনে করেন। আমি অবশ্য খুব পড়ে দেখি নি, বিচ্ছিন্ন দুচার লাইন এখানে ওখানে দেখেছি, তাতে পড়বার আগ্রহ তৈরি হয় নি। কিন্তু তারেক রহিমের কী হবে? তার মুখটা মনে করে আমার কষ্টই লাগছে, ডাই-হার্ড শাহরিয়ার-ফ্যান সে, রূপক-কর্মকার কেলেংকারির মূল প্রণোদনা কোত্থেকে এল, এটা বোঝার মত যথেষ্ট বুদ্ধি ওর আছে আমি জানি।&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8711979249453840341-6190665060561950036?l=joyodrath.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://joyodrath.blogspot.com/feeds/6190665060561950036/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8711979249453840341&amp;postID=6190665060561950036&amp;isPopup=true' title='8টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/6190665060561950036'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/6190665060561950036'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://joyodrath.blogspot.com/2008/10/blog-post_09.html' title='রূপক কর্মকারের শাহরিয়ার-প্রজেক্ট!'/><author><name>সুমন রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16436814493171446627</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SK3K-srIq0I/AAAAAAAAAEk/KiOzO5TiBOk/S220/Sumon9_resize.jpg'/></author><thr:total>8</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8711979249453840341.post-210353291843330695</id><published>2008-10-05T14:57:00.002+06:00</published><updated>2008-10-05T16:18:56.103+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='জার্নাল'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='প্রথম প্রকাশ'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='দ্রুতপঠন'/><title type='text'>হয়তো জীবন এদের কাছে এতো ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট নয়!</title><content type='html'>প্রবাসের মাটিতে বসে যেসব "শিক্ষিত" বাঙ্গালছানা "আস্তিক-নাস্তিক" জাতীয় সৌখিন, বস্তাপচা ও এলিটিস্ট তর্কে কম্যুনিটি ব্লগের তাওয়া গরম রাখেন তাদের বিদেহী বিবেচনাবোধের জন্য এই ভিডিওটি। এটি আল-জাজিরা টেলিভিশনের একটি প্রতিবেদন, সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশী শ্রমিকদের মানবেতর জীবন নিয়ে। এ নিয়ে আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ আছে কিছু, পরবর্তীতে লিখবো। আমার মতো বৃত্তির নিরাপত্তা নিয়ে নয়, জমিবেচা টাকায় হাড়ভাঙ্গা শ্রম দিতে এরা বিদেশ গেছেন। মেয়াদ শেষে আমার মতো পারমানেন্ট রেসিডেন্টশিপের দরজায় দাঁড়াবেন না, ফিরে আসবেন পরিবারের মাঝে। তবু ক্রীতদাসের জীবন তাদের। তারা জানে ঈশ্বর তাদের পক্ষে নয়, তারা এও দেখেছে দেশের হাইকমিশন আরেক রক্তচোষা, তবু তারা উপাসনা করে, তবু তারা দেশের বাসি পত্রিকার ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে। আমি ভাবি কেন এই অস্তি, কেন অস্বীকার নয়? কেন নিখিল নাস্তির স্রোতে ভেসে যাওয়া নয়? &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;হয়তো জীবন এদের কাছে এত ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট নয়!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;object width="425" height="344"&gt;&lt;param name="movie" value="http://www.youtube.com/v/IdjUw_bl5RI&amp;hl=en&amp;fs=1"&gt;&lt;/param&gt;&lt;param name="allowFullScreen" value="true"&gt;&lt;/param&gt;&lt;embed src="http://www.youtube.com/v/IdjUw_bl5RI&amp;hl=en&amp;fs=1" type="application/x-shockwave-flash" allowfullscreen="true" width="425" height="344"&gt;&lt;/embed&gt;&lt;/object&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8711979249453840341-210353291843330695?l=joyodrath.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://joyodrath.blogspot.com/feeds/210353291843330695/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8711979249453840341&amp;postID=210353291843330695&amp;isPopup=true' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/210353291843330695'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/210353291843330695'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://joyodrath.blogspot.com/2008/10/blog-post_05.html' title='হয়তো জীবন এদের কাছে এতো ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট নয়!'/><author><name>সুমন রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16436814493171446627</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SK3K-srIq0I/AAAAAAAAAEk/KiOzO5TiBOk/S220/Sumon9_resize.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8711979249453840341.post-8361479929781453406</id><published>2008-10-04T13:05:00.003+06:00</published><updated>2008-10-04T14:27:10.850+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='জার্নাল'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='প্রথম প্রকাশ'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='দ্রুতপঠন'/><title type='text'>নিকনবীর অন্তর্ধান ও আমারব্লগের ভবিষ্যত</title><content type='html'>আগের পোস্টে হযরত মুহম্মদ নিকধারী এক ব্লগারের কথা লিখেছিলাম। আমার ধারণা ছিল আমারব্লগ কর্তৃপক্ষ তাকে ব্যান করেছেন। পরে জানা গেল তাকে ব্যান করা হয় নাই, নিজেই তিনি "প্রাইভেট" বলয়ে চলে গেছেন। আজকে সকালে উঠে দেখলাম ইনি আর নাই। &lt;a href="http://amarblog.com/author/muhammed/"&gt;শূন্য ভিটায়&lt;/a&gt; চোরছ্যাচ্চড়দের বিড়ির পাছা পড়ে আছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই অন্তর্ধানের রহস্য কি? মনে রাখতে হবে গতকাল প্রতিবাদী ব্লগাররা যখন দলে দলে আমারব্লগ ছাড়ছিলেন, তখনো নিকনবী বুক ফুলিয়ে বহাল তবিয়তে তার ভিটাবাড়িতেই ছিলেন। অর্থাৎ তাদের প্রস্থানে নিকনবী এবং তার উম্মতরা ভয়ের কিছু দেখেন নি। হয়ত আরামই পেয়েছিলেন। হয়ত এটাই তাদের উদ্দেশ্য ছিল।&lt;br /&gt;&lt;span class="fullpost"&gt;&lt;br /&gt;কিন্তু মডারেশনহীন আমারব্লগের কারিগরদের জন্য এটা কাম্য ছিল না। বিশেষত যারা চলে যাচ্ছিলেন তারা মোটামুটি আমারব্লগেই ব্লগিং করতেন। রিলিজিয়াসলি। এদের তৎপরতার দ্বারা আমারব্লগের একটা চেহারা দাঁড়িয়ে যাচ্ছিল। আমারব্লগ নিজের পাটাতন খুঁজে পাচ্ছিল। কিন্তু সেটা অনেকেরই কাম্য নয়, অনুমান করি। তারা মুক্তচিন্তা বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে আমারব্লগকে ডাম্পিং জোন বানিয়ে মজা দেখতে চান। এসব ধান্দাবাজ হিপোক্রেটদের কথা আমি আমার &lt;a href="http://amarblog.com/sumon-rahman/13493"&gt;পোস্টে&lt;/a&gt; লিখেছিলাম। বলেছিলাম যে এইসব নিকেরা এখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে বড় বড় ভাষণ দেয়, কিন্তু সচলায়তনের পর্দায় ডান্ডাবেড়িসহ অনাবিল অভিনয় করে চলে। প্রশ্ন করেছিলাম এরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার এত ডাইহার্ড সমর্থক হওয়া সত্বেও সচলায়তনে পড়ে আছে কেন? যেখানে আমারব্লগ তাদের মতপ্রকাশের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য "নো মডারেশন" পলিসি দিয়ে আপ্যায়ন করছে? বলেছিলাম, "একই লোক এক জায়গায় মডারেটেড হয়ে লিখছে, আবার এখানে এসে মডারেশন ছাড়া লিখছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে তার ব্যক্তিগত কোনো অবস্থান নেই। এরা আসলে ভীষণরকম পজেসিভ, ওয়েবে যতরকম ঠাঁই আছে সবখানেই একটা ফাৎনা ফেলে রাখতে চায়। এদের আমি হিপোক্রেট মনে করি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এখন দেখা যাচ্ছে, আমার ব্লগের “নো মডারেশন” নীতির সুযোগে এইসব হিপোক্রেসি পার পেয়ে যাচ্ছে। একদিকে আমার ব্লগ মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে উচ্চাসন দিচ্ছে, আবার অন্যদিকে এইসমস্ত হিপোক্রেসিকেও প্রমোট করছে নিজের অজান্তে।"&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সম্ভবত এগুলো আমারব্লগ কারিগরদেরও মনের কথা ছিল। আমি "মিনিমাম সেন্সিবল মডারেশন"এর প্রস্তাব দিয়েছিলাম আর সুশান্ত সেটার যৌক্তিকতা যেই খুঁজে পেলেন, আর অমনি নিকনবী হাওয়া! এ যেন ভুতের মুখে রসুন পড়ল! বুঝতে বাকি থাকে না যে, এই নিকনবীর নাটক আমারব্লগে কারা শুরু করেছিল। আমি জানতাম তারা যে কোন মূল্যেই হোক আমারব্লগে মডারেশন চায় না, কারণ মডারেশন চালু হলে তাদের আন্তব্লগীয় রাজনীতি এবং বিকৃত মানসিকতার প্রদর্শন আর কোথায় করবে? ফলে পিশাচ আপাতত দরজার ওপাশে গেল, কিন্তু রসুনের মালা খসে পড়লেই আবার সে ঘাড়ে কামড় দিতে হাজির হবে ঠিক ঠিক।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমারব্লগ "নো মডারেশন" নীতিতে চললে আমার কোনো সমস্যা নেই। আমি এই ব্লগে লিখিও না তেমন। বরং "নো মডারেশন" নিয়ে ব্লগটি কতদূর যায় সেটা একটা ইন্টারেস্টিং অবজার্ভেশন আমার। কেউ কেউ দেখলাম ব্লগারদের "বিবেকের মডারেশন"কেই সমাধান ভাবছেন। আমি একমত। তবে থিওরেটিক্যালি। যারা ভাবছেন এই ব্লগে সবাই একইরকম খোলা মনোভাব নিয়ে ব্লগিং করতে আসছে তারা ভুল ভাবছেন আমার ধারণা। এখানে নানারকমের আদম আছে, নানান উদ্দেশ্য তাদের। কারো কারো বিবেক আগে থেকেই মডারেটেড, বা প্রিকন্ডিশনড। বিবেকের থিওরি দিয়ে এদের জাগ্রত করা যাবে না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমারব্লগ আমি মাঝে মাঝে পড়ি। আমার বিবেচনায়, এই ব্লগে একমাত্র গালাগালি ছাড়া এমন কিছু দেখি নাই যা কোনো মডারেটেড ব্লগে করা সম্ভব নয়। গালাগালিগুলো বাদ দিলে বাদবাকি লেখাগুলো তো প্রথম আলো-র মত সুশীল পত্রিকাতেও ছাপা সম্ভব বলে আমার ধারণা! ফলে আমার ধারণা যারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ধুয়া তুলছেন তারা ইচ্ছামত গালাগালি করাকেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বলে ভাবছেন। ফলে, এই প্রেক্ষিতে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এক শ্রেণীর সাইকোপ্যাথদের যত্রতত্র মাস্টারবেশনের সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের মোল্লামার্কা আস্ফালনের তোপে আমারব্লগ তার মডারেশনভাবনা নিয়ে হয়ত ম্রিয়মান হয়ে গেছে। কী আর করা। বিষ্ঠাবহনের দায় থেকে আমারব্লগ নিজেকে মুক্ত করুক, একটা স্বতন্ত্র ব্লগ হয়ে টিকে থাকুক, আপাতত সেটাই চাওয়া।&lt;br /&gt; &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8711979249453840341-8361479929781453406?l=joyodrath.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://joyodrath.blogspot.com/feeds/8361479929781453406/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8711979249453840341&amp;postID=8361479929781453406&amp;isPopup=true' title='6টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/8361479929781453406'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/8361479929781453406'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://joyodrath.blogspot.com/2008/10/blog-post_04.html' title='নিকনবীর অন্তর্ধান ও আমারব্লগের ভবিষ্যত'/><author><name>সুমন রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16436814493171446627</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SK3K-srIq0I/AAAAAAAAAEk/KiOzO5TiBOk/S220/Sumon9_resize.jpg'/></author><thr:total>6</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8711979249453840341.post-1967397812953328208</id><published>2008-10-03T12:41:00.003+06:00</published><updated>2008-10-04T01:46:25.881+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='জার্নাল'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='প্রথম প্রকাশ'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='দ্রুতপঠন'/><title type='text'>নবীর নামে নিক নিয়ে "আমার ব্লগ"এ তোলপাড়!</title><content type='html'>এবার সুনামি "আমার ব্লগ"এ। সেখানে এক ব্লগার নবী হযরত মুহম্মদ এর নিক নিয়ে ব্লগ লিখেছেন। আর তা নিয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন অন্য ব্লগাররা। ঐ নিকধারীর চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করে ছেড়েছেন। কেউ কেউ "আমার ব্লগ" থেকে নিজেদের (সাময়িক ভাবে) প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ঐ নিকটির অ্যাকাউন্ট ডিলিট করার জোর দাবি উঠেছে। ফলশ্রুতিতে, আমার ব্লগ কর্তৃপক্ষ যারা "নো মডারেশন" নীতিকে আশ্রয় করে এই ব্লগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তারা অবশেষে হযরত মুহম্মদ নামক নিকটির অ্যাকাউন্ট আমার ব্লগ-এর পাতা থেকে ডিলিট করে দিয়েছেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কম্যুনিটি ব্লগিং প্লাটফর্ম হিসেবে "আমার ব্লগ"এর জন্মই হয়েছে মডারেশনের ধারণার বিপরীত প্রণোদনা থেকে। সম্ভবত সচলায়তনের স্বৈরাচারী মডারেশন পদ্ধতির প্রতিক্রিয়া হিসেবে এইরকম একটি প্লাটফর্মের কথা ভাবেন তারা। যতদূর দেখেছি, এই ব্লগে মডারেটরের কোনো পদই সৃষ্টি করা হয় নি। কোনো মডারেশন নাই, ব্যান নাই, সদস্যপদের জন্য লম্বা কিউ নাই, তেল মারতে হয় না কাউকে, সব মিলিয়ে আমার ব্লগ যেন সেই মজারু দ্বীপ যেখানে সবই আছে, কিন্তু পুলিশ নাই!&lt;br /&gt;&lt;span class="fullpost"&gt;&lt;br /&gt;ঠিক সেই মজার আহবানে নয়, একটা কম্যুনিটি ব্লগে লেখালেখি অব্যাহত রাখার ইচ্ছা থেকে আমার ব্লগ-এ আমিও অ্যাকাউন্ট খুলেছিলাম। ব্লগ লিখতেই দেখি... ওমা... সচলায়তনের সব ভ্যাম্পায়াররা এখানে হানা দিতে শুরু করলেন। আসলে গোড়া থেকেই এরা এখানে ছিলেন, নতুন কোনো কম্যুনিটি হলেই সেখানে তারা এজেন্সি নিয়ে রাখেন। তো, তাদের গায়ের গন্ধে আর পাখার ঝাপটে আমার ত্রাহি ত্রাহি দশা! গালাগালির চূড়ান্ত করে ছাড়লেন এরা। এই এরাই আবার সচলায়তনে যখন লেখেন, তখন কত নোক্ষী ছেলে! কী বোর্ড দিয়ে সব সোনা যেন বের হয়! বুঝলাম এরা সচলায়তনে সোনার ডিম পাড়েন আর আমার ব্লগ-এ লিজার্ড রিলিজ করতে আসেন। একই অভিযোগ সামহোয়ারইন-এর ব্লগাররাও করেছিলেন এদের বিরূদ্ধে, বেশ আগে। কিন্তু সামহোয়ার বড় কম্যুনিটি, এইসব হাগাহাগির থোড়াই কেয়ার করে। কিন্তু আমার ব্লগ একটা নতুন কম্যুনিটি, এখনো তার নিজস্ব কম্যুনিটি ঠিকমত গড়ে ওঠে নাই। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এখন কথা হচ্ছে, "আমার ব্লগ"এর কৌশল অনুযায়ী সেখানে হযরত মুহম্মদ নামে নিক থাকতেই পারে। কারণ এই ব্লগে কোনো নীতিমালাই নেই, মত প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ মানে না এরা। যারা এখানে লিখছেন তারা এই পজিশন মেনে নিয়েই লিখছেন, বা এই পজিশন থাকার কারণেই এখানে কন্টিনিউ করছেন। তাহলে কোন্ কারণে এরা হযরত মুহম্মদ নিককে ডিলিট করতে বলেন?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কারণ খুবই মানবিক। মুসলমানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব নিয়ে ঠাট্টাতামাশা করা যাবে না। হযরত মুহম্মদ নিকটি আদতে তাইই করতে এসেছিল বলে আমারো মনে হয়েছে। এতে ব্লগের মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগবে এটা স্বাভাবিক। আবার, আপনি যদি মত প্রকাশের স্বাধীনতা মানেন, তাহলে এইরকম নিক নিয়ে কোনো ব্লগার তার অনুভূতির কথা বলার স্বাধীনতা রাখেন এটাও মানেন। এখন সংক্ষুব্ধ ব্লগার মুকুল এবং আরো কেউ কেউ বলছেন, স্বাধীনতা মানেই যথেচ্ছাচার নয়। যা খুশি তাই করা মানেই স্বাধীনতা নয়। একটা সীমা থাকতে হবে। তাদের সীমাসন্ধানের নৈতিক চাপপ্রয়োগের ফলে আমার ব্লগ-এর মূল দর্শনের সীমানাপ্রাচীর ভেঙ্গে চুরমার। দেখলাম হযরত মুহম্মদ এর অ্যাকাউন্টটা অবশেষে ডিলিট করে দেয়া হয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এটা বাংলা কম্যুনিটি ব্লগের ইতিহাসে একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। "আমার ব্লগ" একটা অত্যন্ত সাহসী চ্যালেঞ্জ নিয়েছিল যে তারা কিছুই মডারেশন করবে না। ওয়েব হবে অবারিত, স্বাধীন। এটি প্রমাণ করার মাধ্যমে তারা আসলে প্রমাণ করতে শুরু করেছিল যে সচলায়তনজাতীয় ওয়েব ব্লগিং মূলত প্রিন্টমিডিয়ার ভাবাদর্শকেই ওয়েবে ইমপোজ করার ব্যাপার। সেই একই বিধিনিষেধ, একই মানবিচার, একইরকম কাহিনী। "আমার ব্লগ"এর এই প্রজেক্ট এখন কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ল। মডারেটরের অফিস খুলল তারাও।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তাহলে কি আমি বলতে চাইছি হযরত মুহম্মদ এর নিক ব্যান করা অযৌক্তিক হয়েছে? না, সেটা বলতে চাইছি না। কিন্তু এই প্রশ্নের সোজাসাপ্টা উত্তর "আমার ব্লগ"এর প্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে আমার পক্ষে দেয়াও সম্ভব নয়। নবীর নামে নিক যিনি নিয়েছেন তিনি তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতার জায়গা থেকে নিয়েছেন, আবার যারা এর প্রতিবাদ করেছেন তারাও খুব অযৌক্তিক ছিলেন না। টেক্সটের শক্তি অসীম। হযরত মুহম্মদ-এর নামের সাথে দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে অপরপক্ষ একটু অসুবিধার মধ্যেই থাকবেন। আবার, এই নিক নিয়ে নিকধারী যা করতে শুরু করেছিলেন তাকে ম্যানিপুলেশন তো বলাই যায়। আমার মতে, একটা কম্যুনিটি ব্লগে সেটা তিনি করতে পারেন না। সেখানে নানারকম লোক আছে, তাদের নানা ধরনের বিশ্বাস বা অবস্থান আছে। কিন্তু তাই বলে তিনি অন্যায় করেছেন সেটাই বা বলি কী করে? তিনি তো এই ব্লগের চরম লিবারাল চরিত্রের সুযোগ নিয়েছেন মাত্র।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ঘুরে ঘুরে সেই পুরনো প্যাঁচাল: নৈরাজ্য না নিয়ন্ত্রণ? আমি সবসময় যেটা বলতে চেয়েছি, নৈরাজ্য যেমন নয়, তেমনি সচলায়তন-মার্কা নিয়ন্ত্রণও নয়, বরং নৈরাজ্য থেকে নিয়ন্ত্রণ বরাবর একটা স্কেলে টেনে সেই স্কেলের কোন্ বিন্দুতে আপনি অবস্থান করছেন সেটা কম্যুনিটি ব্লগকে ঠিক করে নিতেই হবে। "আমার ব্লগ" ধীরেসুস্থে হয়ত সেই পথেরই পথিক হয়ে ওঠবে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-style:italic;"&gt;পোস্ট স্ক্রিপ্টাম: অলৌকিক হাসান তার পোস্টে জানিয়েছেন যে নিকনবীকে ব্যান করা হয় নাই, নিজেই তিনি "প্রাইভেটাইজড" হৈয়া গেছেন। সেই অর্থে আমার ব্লগের "নো মডারেশন" নীতি এখনো বহাল আছে। বিস্তারিত দেখুন http://amarblog.com/aloukik/13474 এই লিংকে। &lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;০৩.১০.০৮&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8711979249453840341-1967397812953328208?l=joyodrath.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://joyodrath.blogspot.com/feeds/1967397812953328208/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8711979249453840341&amp;postID=1967397812953328208&amp;isPopup=true' title='3টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/1967397812953328208'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/1967397812953328208'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://joyodrath.blogspot.com/2008/10/blog-post_03.html' title='নবীর নামে নিক নিয়ে &quot;আমার ব্লগ&quot;এ তোলপাড়!'/><author><name>সুমন রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16436814493171446627</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SK3K-srIq0I/AAAAAAAAAEk/KiOzO5TiBOk/S220/Sumon9_resize.jpg'/></author><thr:total>3</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8711979249453840341.post-3189189628629888934</id><published>2008-10-01T14:06:00.003+06:00</published><updated>2008-10-01T14:18:41.067+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='জার্নাল'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='&quot;কবিসভা&quot; থেকে'/><title type='text'>আমি দুঃখিত, অভিজিৎ!!</title><content type='html'>&lt;span style="font-style:italic;"&gt;(আমার লেখা "ব্লগারের মৃত্যু ও ভার্চুয়াল শোকের চেহারা"কে উপলক্ষ করে মাননীয় অভিজিৎ রায় সচলায়তনের পাতায় আমার চরিত্রহননে কিঞ্চিৎ বাক্যব্যয় করেছেন। এই উপলক্ষে আমারো মনে পড়ল আমাদের পুরনো মোলাকাতের কথা। "পুরনো ক্ষতের দাগ আলো আবছায় হাসে"... বন্ধু মাহবুব পিয়ালের কবিতার লাইন। আবার "ক্ষতস্থান সেরে গেলে পুনর্বার তাতে রোম গজায় না" সেটি জানিয়েছিলেন বিনয় মজুমদার। রোম যে গজায় নাই তা আজ এতোদিন পরে টের পাইলাম। সেই অবকাশে ওয়েব খুঁজে কবিসভা থেকে পুরনো একটি লেখা পাওয়া গেল।)&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;অভিজিৎ রায়ের আলোচনা ও রেফারেন্স পড়লাম।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এক নম্বর পয়েন্টে তিনি আমার সাথে ঐকমত্য পোষণ করলেন দেইখা আরাম পাইলাম। অর্থাৎ তিনিও মনে করেন বুদ্ধিবৃত্তিক তর্কের মধ্যে ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ গুলায়া না ফেলাই উচিৎ।&lt;br /&gt;&lt;span class="fullpost"&gt;&lt;br /&gt;দুই নম্বর পয়েন্টে তিনি আমার লেখার মধ্যে একটা ‘ভুল তুলনা’ খুঁইজা পাইছেন। অর্থাৎ, তার মতে, ধর্মগ্রন্থনির্ভর ধর্মীয় শাসনের সাথে গ্রন্থহীন সেক্যুলার শাসনের তুলনা হৈতে পারে  না। মোটা হরফে লিখছেন, সাদ্দামের এট্রোসিটিকে জাস্টিফাই করে...এমন কোনো নীতি সেক্যুলারিজমে নাই। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এইখানে আইসা মানসের মত আমারও সন্দেহ হৈল। তিনি কি এই অধমের লেখাটি পড়েছেন ঠিকমত?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অভিজিৎ, আপনে খেয়াল করলে দেখবেন যে, আমি মূলত সেক্যুলারিজমের প্রাক্সিস-এর দিকটাই আলোচনা করতেছিলাম, যেহেতু, আমার জানা মতে, সেক্যুলারিজমের কোনো সর্বজনীন মূলনীতি কেউ লিখ্যা যান নাই। সেক্যুলারিজম শেষপর্যন্ত কিছু প্রাক্সিসেরই সমষ্টি। মডার্নিজমের একটা কম্পোনেন্ট হিসাবে এই বিষয়টা পশ্চিমে বিকশিত হৈছে রাষ্ট্রকে ধর্মীয় প্রাতিষ্ঠানিকতা থিকা উদ্ধার করার জন্য। কিন্তু, আমি বলতেছিলাম বাস্তবে কী হৈছে সেই কথা। বলতেছিলাম, সেক্যুলার রাষ্ট্রের বাতাবরণে থাইকাও রাষ্ট্রনায়কেরা যেভাবে বিধর্মী নিধন করছেন সেই কথা। তখন কিন্তু, মহান পশ্চিম, সেক্যুলার রাষ্ট্রের এইসব আচরণকে নন-সেক্যুলার আখ্যা দেয় নাই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তারপরে, অনেকটা উপযাচক হৈয়া,  জনাব অভিজিৎ একটা লিংক দিলেন, যাতে এই কবিসভার নাদান সদস্যরা বিশ্বাস, দর্শন ও ডগমার পার্থক্য ‘ভালমত বুঝতে’ পারে। আমি সেই লিংকে কিক করলাম। পাইলাম জনৈক অপার্থিব জামানের কিছু  সংজ্ঞা। পইড়া বুঝতে বুঝতে আমারতো সংজ্ঞাহীন হৈবার দশা! &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সংক্ষেপে বলি:&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অপার্থিব ‘বিশ্বাস’ কে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়া লিখছেন 'ফেইথ' হৈল 'পারসনাল বিলিফ'.....। বাদবাকি পড়ার ধৈর্য আমার আর হয় নাই। ভাই অভিজিৎ, এইটারে টটলজি কয়, বাংলায় বলা যায়, পুনরুক্তিদোষ। ফেইথ হৈল বিলিফ! বাহ্! তারপরে আবার ‘পারসনাল’!! অর্থাৎ কোনো জনগোষ্ঠী, যেমন ধরেন ধীবর, যখন নদীর দেবতায় বিশ্বাস করে, তখন সেইটারে কিন্তু ‘ফেইথ’ কওয়া যাইব না! যেহেতু ‘পারসনাল’ না! চমেৎকার!!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অতঃপর ফিলসফির সংজ্ঞা। এইখানেও ‘পারসনাল’ আছে, সেই আলোচনা বাদ দেই, নাইলে আমার হালায় আবার টটলজি হৈয়া যাইব! ঐখানে বলা হৈছে, ফিলসফি হৈল অ্যা পারসনাল ভিউ অ্যাবাউট রিয়েলিটি....! আবার ধৈর্যহারা হৈয়া গেলাম। রিয়েলিটি কি জিনিস? যেসব বিষয় নন-রিয়াল (যেমন ঈশ্বর) সেসবের পারসনাল ভিউ তাইলে ফিলসফি হয় না? আমার রীতিমত মূহ্যমান অবস্থা!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;শেষ চেষ্টা করার আর সাহস হৈল না। মাফ কৈরেন ভাই!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সাজ্জাদ শরিফ প্রায়ই বলেন, আমাদের দেশের ফিলসফিচর্চার দূরবস্থার কথা। এক্ষণে প্রমাণ পাইলাম।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;..........................&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাকি থাকল, অভিজিৎ, আপনের লেখা, সেইটাও পড়লাম। আপনের লেখায় ফরহাদ মজহারের বিরূদ্ধে আপনের উত্তেজনাটাই শুধু ঠাহর করতে পারলাম। আপনের দর্শন অপার্থিব জামানের চেয়েও ভীতিকর। আপনে লিখছেন, প্লেটোর ‘অতীন্দ্রীয় রহস্যবাদী ভাববাদ’! কী জিনিস সেইটা?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এখন আমি বুঝতে পারতেছি না, কেন আপনে আমার সাথে একমত হৈলেন? আমি কৈছিলাম, ফরহাদ মজহারকে মোকাবেলা করা দরকার বুদ্ধিবৃত্তির জায়গা থিকা। আপনেও সায় দিলেন। কিন্তু আপনের লেখা পইড়া আমার মনে হৈল, ঠিক এই ধরনের চিন্তাহীন বিরোধিতার বাইরে থেকে আমি বিষয়টা দেখতে চাইছিলাম। আমার বক্তব্য রূঢ় শোনাইলে আমি দুঃখিত অভিজিৎ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8711979249453840341-3189189628629888934?l=joyodrath.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://joyodrath.blogspot.com/feeds/3189189628629888934/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8711979249453840341&amp;postID=3189189628629888934&amp;isPopup=true' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/3189189628629888934'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/3189189628629888934'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://joyodrath.blogspot.com/2008/10/blog-post.html' title='আমি দুঃখিত, অভিজিৎ!!'/><author><name>সুমন রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16436814493171446627</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SK3K-srIq0I/AAAAAAAAAEk/KiOzO5TiBOk/S220/Sumon9_resize.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8711979249453840341.post-5809713718583329975</id><published>2008-09-26T12:37:00.005+06:00</published><updated>2008-09-26T18:59:00.202+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='জার্নাল'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='প্রথম প্রকাশ'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='দ্রুতপঠন'/><title type='text'>ব্লগারের মৃত্যু ও ভার্চুয়াল শোকের চেহারা</title><content type='html'>&lt;a onblur="try {parent.deselectBloggerImageGracefully();} catch(e) {}" href="http://4.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SNy1e9i61QI/AAAAAAAAAGw/hLUIsvdmgGc/s1600-h/aumitblog_1222323349_1-zubair.jpg"&gt;&lt;img style="float:left; margin:0 10px 10px 0;cursor:pointer; cursor:hand;" src="http://4.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SNy1e9i61QI/AAAAAAAAAGw/hLUIsvdmgGc/s200/aumitblog_1222323349_1-zubair.jpg" border="0" alt=""id="BLOGGER_PHOTO_ID_5250270809128883458" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;মুহম্মদ জুবায়ের মারা গেছেন। ইনি প্রথম যৌবনে লেখক হওয়ার জন্য ঘর ছেড়েছিলেন এবং শেষ জীবনে লেখালেখি করবার জন্য বেছে নিয়েছিলেন ব্লগকে। সেই অর্থে ব্লগার ছিলেন তিনি, লিখতেন সচলায়তনে। আমি যখন সচলায়তনে প্রবেশ করেছিলাম, তিনি রীতিমত ছেলেমানুষের মত খুশি হয়েছিলেন। আমার দ্রুত সদস্যভূক্তির ব্যাপারে সচলায়তন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছিলেন। তারপর একদিন কথাচ্ছলে জানিয়েছিলেন যে, তিনি সচলায়তন অঙ্গনে আর লিখবেন না। সেটি সম্ভবত ডুয়াল পোস্টিং নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো পদক্ষেপের জবাবে তাঁর অভিমানী সিদ্ধান্ত ছিল। আমরা যথারীতি তাঁকে তাঁর সিদ্ধান্ত পাল্টাতে অনুরোধ করেছিলাম। তিনি তা করেছিলেন। তারপর আমি যখন সচলায়তন ছেড়ে আসি, তিনি আমার ছেড়ে আসার সিদ্ধান্তের সাথে একমত ছিলেন না। তাঁর মনে হয়েছিল আমি না ছেড়ে আসলেও পারতাম। এমনকি সচলায়তন বিষয়ে প্রথম আলো-তে লেখা আমার নিবন্ধের গীবতেও সামিল হয়েছিলেন তিনি।&lt;br /&gt;&lt;span class="fullpost"&gt;&lt;br /&gt;মুহম্মদ জুবায়ের বিষয়ে এইটুকু লেখার পর আমি নিজে পরিষ্কার যে সচলায়তনের ব্যাপারে তাঁর শর্তহীন পক্ষপাত ছিল। খুবই ভালোবাসতেন এই ফোরামটিকে। কিছু খিটিমিটি হলেও সেখানেই লিখে যাওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন। এতই টান ছিল এই ফোরামের প্রতি যে, এই ফোরাম ত্যাগ করবার পর অন্য অনেকের মত তিনিও আমার সাথে ব্যক্তিগত যোগাযোগ রদ করে দিয়েছিলেন। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মুহম্মদ জুবায়ের-এর সাথে আমার প্রথম দেখা কবিসভায়। কবিসভা উত্তপ্ত তর্কবিতর্কের জায়গা, মনে পড়ে কোনো একটা বিষয়ে তাঁর সাথেও আমার তর্ক হয়েছিল। পরে অনিয়মিত হয়ে গিয়েছিলেন কবিসভায়। মেইল করতেন মাঝে মাঝে, আমার একটি গল্পের অকুণ্ঠ প্রশংসা করেছিলেন। বলেছিলেন, শহীদ কাদরীর সাথে আমার গল্প নিয়ে তাঁর বিস্তর কথাবার্তা হওয়ার কথা। ফলে, মুহম্মদ জুবায়ের, যাঁকে আমি চর্মচক্ষে দেখি নি কোনোদিন, তাঁর ব্যাপারে একটা স্নিগ্ধ অনুভূতি আমার ছিল সবসময়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সচলায়তনে ব্লগ লিখতেন তিনি, সত্তর দশকের জীবনযাপন ও স্বপ্ন নিয়ে তাঁর চিন্তাজাগানিয়া পর্যবেক্ষণ ছিল। একটা ধারাবাহিক উপন্যাসও লিখেছিলেন। বন্ধু ও প্রবাসী লেখক লুৎফর রহমান রিটনকে সচলায়তনে নিয়ে এসেছিলেন। এই ব্লগের মডারেটরদের সাথে তাঁর দহরম মহরমও ছিল। ব্লগাতিরিক্ত যোগাযোগ ছিল। ব্লগারদের কারো কারো সাথেও। একবার তাঁর অসুস্থতা এবং ধূমপান করা নিয়ে তাঁর কন্যাটি একটি মর্মভেদী চিঠি লিখেছিলেন তাঁকে, সেই চিঠি সচলায়তনে অনেক প্রশংসাও পেয়েছিল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এহেন মানুষটি, যিনি তাঁর যাবতীয় পক্ষপাত ও সমালোচনাসহ আমার কাছে আদ্যোপান্ত ভার্চুয়াল একটি চরিত্র, তাঁর মৃত্যুসংবাদ ঘিরে আমার ভেতর জমতে থাকা শোকের চেহারাটি আঁচ করতে চেষ্টা করি। আঁচ করতে চেষ্টা করি, মুহম্মদ জুবায়ের তাঁর ভার্চুয়াল অস্তিত্বের বাইরে কে ছিলেন, কী ছিলেন। তাঁর স্মৃতিকথা থেকে টের পাই তিনি এক স্বাপ্নিক মানুষ ছিলেন, বাঙালি জাতীয়তাবাদের মন্ত্রে দীক্ষিত ছিলেন, সেই ধারাবাহিকতায় সমাজতন্ত্রের স্বপ্নও দেখেছিলেন। তাঁর লেখক হয়ে-উঠার স্বপ্নের সাথে সেইসব স্বপ্নকে তিনি মিলিয়ে নিতে চেষ্টা করেছিলেন। এভাবে অনেক খুইয়ে, একসময় জীবনকে গুছিয়ে নেয়ার তাড়না অনুভব করেছিলেন, বেছে নিয়েছিলেন প্রবাস জীবন। কিন্তু স্বপ্ন আর স্বপ্নকে বাস্তবে দেখতে না-পাবার বেদনা তাঁর পিছু নিয়েছিল। নিপুণ আততায়ীর মত। প্রথম প্রজন্মের প্রবাসীর মত তিনিও তাঁর স্বদেশকে বুকের ভেতর লুকিয়ে রেখেছিলেন। এর জন্য বেদনা পাবার দায় থেকে কখনো ছুটি নেন নি। ফলে, কর্মস্থলে, ভিন্ন সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠা স্বজনবেষ্টনীর মাঝেও তিনি ছিলেন একা। একেলা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কিন্তু এ তো মুখস্ত গল্প। এই গল্পের উপসংহার আমরা জানি। কিন্তু আশ্চর্য হই ভেবে যে মুহম্মদ জুবায়ের সেই উপসংহারটি বেছে নেন নি। প্রৌঢ়ত্বকে জয় করে নেমে এসেছিলেন তরুণদের ব্লগে। তরুণদের চোখভরা স্বপ্নের জগতে হয়ে জুবায়ের যেন বুড়ো বাতিওলা! এ এক জয়ের নেশাই বটে! মনে পড়ে, এমনিতর নেশার টানেই সরকারি চাকুরি থেকে অবসর নেয়া কবি মুস্তাফা আনোয়ার আমাদের উদ্দাম জীবনের সাথে সমানে সমানে পাল্লা দিতেন। গ্রেস নিতেন না একদমই। মুহম্মদ জুবায়েরও তাই। জরাগ্রস্ততার অমোঘ খপ্পরে পড়বার আগে মানুষের শেষ রোমান্টিক দ্রোহ!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কিন্তু আজ যখন মুহম্মদ জুবায়ের মারা গেলেন, আমি বিষণ্ণ হয়ে থাকলাম এই ভেবে যে এই নামটিকে ঘিরে আমাদের অন্তহীন ভার্চুয়াল জগতে আর কোনো গালগল্প তৈরি হবে না। মুহম্মদ জুবায়ের এর নামে আর কোনো ব্লগ বা উপন্যাস আপলোড হবে না, যেগুলো পাঠ করে করে আমরা তাঁকে চিনতে থাকবো, তাঁর ব্যক্তিত্ব তৈরি হতে থাকবে আমাদের পারসেপশনের আঁকাবাঁকা গলির ভেতর। শোকের অক্ষর উপচে পড়ছে সচলায়তনে, অন্যান্য ব্লগেও। ভাবি, এই শোকটি কেমন? কিছু টেক্সটের জন্য কিছু টেক্সটের শোক, নাকি টেক্সট-উত্তর অচেনা যোগাযোগহীন ব্যবহারিক জীবনে এর কোনো অভিঘাত তৈরি হয়? মুহম্মদ জুবায়েরকে আমরা তো চিনেছি তাঁর টেক্সট দিয়েই, অর্থাৎ তাঁর লেখাকে তাঁর ব্যক্তিত্বের উপরে আরোপ করে নিয়েছি আমরা। রলা বার্থ যেমন বলেন, লেখকের অস্তিত্ব বা বিদ্যমানতা তাঁর লেখার স্বাতন্ত্র্যকে বাধাগ্রস্ত করে। সেই অর্থে, ব্লগার মুহম্মদ জুবায়ের-এর মৃত্যু যেন প্রতীকী! যেন তিনি তাঁর মরণ দিয়ে মুক্ত করে গেলেন তাঁর রচনারাশিকে, আমাদের মননে তাঁর ব্যক্তিত্বের সংগঠন প্রক্রিয়া থেকে। টেক্সটের বাইরে সত্যিকারের যিনি জুবায়ের,  যার একটা ফুসফুস অকেজো ছিল অনেকদিন, যিনি অনেকের বন্ধু, ভাই বা পিতা, তার শরীরী মৃত্যুতে আমাদের ভার্চুয়াল-পেরোনো ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীজীবন কতখানি শোকতপ্ত হবে? সেই অর্থে এটি অথরের মৃত্যু, একটি টেক্সচুয়াল মরণ। এই টেক্সচুয়াল মরণের স্মরণে আমরা যে শোকগ্রস্ত হচ্ছি সেটিও টেক্সচুয়াল, এবং টেক্সটের বাইরেও যদি এর সন্তাপ আমরা অনুভব করি, তবে সেও টেক্সটেরই সামর্থে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আরেকটা বিষয়: মার্কেজ একটি উপন্যাসে যেমন লিখেছেন, কেবলমাত্র মৃত্যুই মাটির সঙ্গে মানুষের নাড়ির যোগ ঘটাতে সক্ষম। অর্থাৎ যে মাটিতে আমার অধিষ্ঠান সেখানে আমার পূর্বপুরুষের কবর থাকলেই সেটা অনেক দৃঢ় হয়ে ওঠে। মুহম্মদ জুবায়ের-এর মৃত্যুশোক তাঁর ব্লগিং ফোরাম সচলায়তনে সেইরকম ইতিবাচক একটি প্রভাব ফেলবে মনে হয়। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8711979249453840341-5809713718583329975?l=joyodrath.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://joyodrath.blogspot.com/feeds/5809713718583329975/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8711979249453840341&amp;postID=5809713718583329975&amp;isPopup=true' title='6টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/5809713718583329975'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/5809713718583329975'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://joyodrath.blogspot.com/2008/09/blog-post_26.html' title='ব্লগারের মৃত্যু ও ভার্চুয়াল শোকের চেহারা'/><author><name>সুমন রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16436814493171446627</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SK3K-srIq0I/AAAAAAAAAEk/KiOzO5TiBOk/S220/Sumon9_resize.jpg'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://4.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SNy1e9i61QI/AAAAAAAAAGw/hLUIsvdmgGc/s72-c/aumitblog_1222323349_1-zubair.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>6</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8711979249453840341.post-3507218030512354367</id><published>2008-09-17T21:57:00.001+06:00</published><updated>2008-09-17T22:04:25.215+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='জার্নাল'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='প্রথম প্রকাশ'/><title type='text'>কখনো যাই নাই বিদ্যাকূট</title><content type='html'>&lt;span style="font-style:italic;"&gt;চোখের সামনে পুড়ছে আমার মনসুন্দর গ্রাম&lt;br /&gt;আমি যাই নাই রে, আমি যাই নাই&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;- কফিল আহমেদের গান&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১.&lt;br /&gt;কখনো যাই নাই বিদ্যাকূট!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;উরখুলিয়া গেছি, বিদ্যাকূটের পাশের গ্রাম। এক সন্ধ্যার কথা মনে আছে, উরখুলিয়ার গ্রামছাড়া জোতদার রেজেক মিয়ার পোড়োবাড়িটা দেখতে গেছিলাম। বিশাল বাড়ি, সারি সারি টিনের চৌচালা ঘর, সেসব ঘরে কেউ নাই তখন, জিনিসপত্র সব টুকরা টুকরা করে ভাঙ্গা, টিনের প্রতিটা ঢেউ-য়ে দায়ের নিপুণ কোপ। উঠানের মাঝখানে ছোটখাট একটা পাহাড়, ভাঙ্গা সিরামিকের জিনিসপত্রের । &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;উরখুলিয়া একটা অদ্ভূত মাথাগরম জায়গা। তিতাসের পাড় ধরে লম্বালম্বি একটা গ্রাম, ঠিক চিলি দেশটার স্টাইলে। গ্রামের অর্ধেক লোক থাকে ইটালি। তারা টাকা পাঠায়, আর সেই টাকায় দুই গোষ্ঠীর শতবছরের পুরানো ঝগড়াটা ফি বছর ঝালাই হয়। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ঝগড়ার উপলক্ষ? &lt;br /&gt;&lt;span class="fullpost"&gt;&lt;br /&gt;শুনলে হাসবে উরখুলিয়ার লোকেরা। উপলক্ষ নো প্রবলেম, জিয়াউর রহমান স্টাইলে। কোনো উপলক্ষ পাওয়া যাইতেছেনা, ঠিকাছে, ঐ যে জালাইল্যা আছে না, জ্ঞাতিগোষ্ঠী নাই, এতিম পোলা, ঘরে মা একলা, ওরে ফালায়া দাও! তারপর কেইস নিয়া সোজা নবীনগর থানায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জালাইল্যাকে আমি চিনতাম। এক পা খোঁড়া, কিন্তু কাইজ্যার আগে সবসময়। ভ্যানগার্ড।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জালাইল্যার খুনের এই পরিকল্পনা কিন্তু প্রতিপক্ষের নয়, তার স্বপক্ষেরই। আবার এই স্বপক্ষের কোনো উপদলীয় কোন্দলের ফসল নয় এই সিদ্ধান্ত। যারা এই নীলনকশা করেছে তারা সবাই জালাইল্যার সমঝদার। কিন্তু কি করা? দুইশ বছরের পুরনো 'বাইশাবাইশি', অনেক রক্ত খায়! তার তৃষ্ণা মিটাতে গেলে নিজের পরের বাছাবাছি করনের সুযোগ কমই থাকে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;যারা জালাইল্যারে ফালাইয়া দিল, তারাই গায়ের কাপড় বদলায়া নবীনগর থানায় গিয়া ফৌজদারি মামলা ঠুকল। তারপর বাজার করল, টর্চলাইটের জন্য দোকান ঘুইরা একনম্বর সানলাইট ব্যাটারি কিনল, জালাইল্যার মায়ের জন্য নতুন জায়নামাজ ও তসবি কিনল, তারপর বাড়ি ফিরবার আগে হাউজির মাঠেও দুইচক্কর দিল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আর যারা ঘুম থেকে উঠে শুনল তারা খুনের মামলার আসামি, তাদের হৈয়া অবাক হৈলেন বিধাতা। তারাও ঘরের কালার টেলিভিশন, অষ্ট্রেলিয়ান গাভী, ডেকসেট ও ক্যামেরা পাশের গ্রামের আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে পাঠায়া দিল, ঘরের মেয়েমানুষের হাতে দরকারি টাকাপয়সা গুঁজল, তারপর সোজা লঞ্চে হয় ভৈরব না হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সেই উরখুলিয়ার পাশের গ্রামই বিদ্যাকূট। আমি উত্তপ্ত উরখুলিয়ায় বসে বসে বিদ্যাকূট নিয়া ঈর্ষায় জ্বলতাম। বিদ্যাকূটে কোনো পুলিশ ক্যাম্প লাগে না, সেই গ্রাম থেকে শরনার্থী আসে নাই কোনো দিন এই উরখুলিয়ায়। দূর থেকে দেখেছি, অদ্ভূত একটা গ্রাম, খড়ের গাদায় রোদের ঝিলিক লেগে এখান থেকেও আমার চোখ চিকচিক করে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কবে যাবো বিদ্যাকূট, ভাবতাম পুরুষশূন্য উরখুলিয়া গ্রামে হাঁটতে হাঁটতে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8711979249453840341-3507218030512354367?l=joyodrath.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://joyodrath.blogspot.com/feeds/3507218030512354367/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8711979249453840341&amp;postID=3507218030512354367&amp;isPopup=true' title='4টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/3507218030512354367'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/3507218030512354367'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://joyodrath.blogspot.com/2008/09/blog-post_01.html' title='কখনো যাই নাই বিদ্যাকূট'/><author><name>সুমন রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16436814493171446627</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SK3K-srIq0I/AAAAAAAAAEk/KiOzO5TiBOk/S220/Sumon9_resize.jpg'/></author><thr:total>4</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8711979249453840341.post-2044308445541069454</id><published>2008-09-17T10:59:00.004+06:00</published><updated>2008-09-21T20:35:32.722+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='সমালোচনা'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='দ্রুতপঠন'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='&quot;কবিসভা&quot; থেকে'/><title type='text'>ফরহাদ মজহার-এর সাম্প্রতিক কবিতা প্রসঙ্গে</title><content type='html'>&lt;a onblur="try {parent.deselectBloggerImageGracefully();} catch(e) {}" href="http://www.grain.org/seedling_files/Farhad-Mazhar.jpg"&gt;&lt;img style="float:left; margin:0 10px 10px 0;cursor:pointer; cursor:hand;width: 200px;" src="http://www.grain.org/seedling_files/Farhad-Mazhar.jpg" border="0" alt="" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;বয়স বিচারে ফরহাদ মজহার কবিতা সঞ্চালনে সবচে বয়োজ্যেষ্ঠ কবি। বাঙালি কবিদের বয়োজ্যেষ্ঠতাকে আমরা, উত্তরসূরী হিসেবে, একটুখানি কৃপাসহযোগে পাঠ করতে অভ্যস্ত। কিন্তু ফরহাদ মজহার সেই আয়েশটুকুর সুযোগ রাখেন নাই এই কবিতাসমূহে। এবং তার অপরাপর কবিতায়। তিনি সবসময় তরুণতর, নিজেকে সমসাময়িক দেখতে ভালবাসেন। আমরাও তাকে অনেক বছর এভাবে দেখতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। ফলে, এটা তাকেই মানায় যে তিনি ‘ফরিদার জন্য ক্যামেরাগিরি’ করবেন, 'সাড়ে সাতরকমভাবে' তাকাইবেন শালিখ পাখির দিকে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নানারকমভাবে ফরহাদ মজহার-এর কবিতার বয়স বেড়েছে। ‘ভেজা কবিতা’য় বৃষ্টি তাকে তার দিদির জন্য উদ্বিগ্ন ও সজল করে তোলে। দিদির জন্য আকুল ফরহাদকে তখন আর প্রৌঢ় লাগে না, সেই কিশোরের মত লাগে যে চোখফুটে প্রথম বর্ষা দেখছে:&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-style:italic;"&gt;জলে জলে ভিজছে শহর, জলেতে ইস্পাত&lt;br /&gt;একটি হলুদ মোটরগাড়ি জলেতে চিৎপাত।&lt;br /&gt;দালানগুলো ভিজছে একা কারখানাতে পানি&lt;br /&gt;জলের মধ্যে যুগল ভাসছে কবি ও বিজ্ঞানী।&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;বেড়েছে না বলে কমেছে বললেই মানায়। কেননা তিনি যখন বিছানা নিয়ে কবিতা রচনা করেন, যেখানে মানবশয্যার দীর্ঘ ইতিহাস নিয়ে জ্ঞান ফলানোর সুযোগও থাকে:&lt;br /&gt;&lt;span class="fullpost"&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-style:italic;"&gt;আমার ঘরের একপাশে আয়তত্রে হইয়া বিছানাটি কী সুন্দর অঙ্কিত হইয়া আছে&lt;br /&gt;বিছানা অবধি পোঁছাইতে সভ্যতাকে কত পথ পাড়ি দিতে হইয়াছিল একবার ভাবিয়া দেখো&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কিন্তু এরপর তিনি বিস্ময়কররকম ভাবে তার জ্ঞানকে নিয়ন্ত্রণ করেন। হামলে পড়তে দেন নি বেচারা বিছানার (এবং কবিতার) ওপর। অত্যন্ত শিক্ষণীয় এবং অনুকরণীয় নিরাসক্তি। তরুণদের জন্য। আমরা যারা আমাদের যৎসামান্য র‌্যাশনালিটিকে কবিতার পেছনে লেলিয়ে দিই। আসুন দেখি ঐ দুই লাইনের পর কবি ফরহাদ মজহার, যিনি আবার একাধারে সমাজবিজ্ঞানী, রাজনীতি বিশ্লেষক, উন্নয়ন-চিন্তক এবং তত্ত্বালোচক, কোনদিকে গেলেন:&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-style:italic;"&gt;বিছানার ওপর বালিশটি পড়িয়া আছে, একটি মস্তকের জন্য তার নীরব নিঃশব্দ অপেক্ষা&lt;br /&gt;একটি শরীর পাইবার আশায় বিছানাটি মৃতদেহের মতো গভীর গর্ত হইয়া আছে।&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;তত্ত্ব নাই, ইতিহাস নাই, সমাজবিজ্ঞান নাই। তাদের নির্যাস আছে হয়ত। কিন্তু আক্রান্ত করে না। কারণ, এখানে কবিতা আছে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মনে পড়ে, ১৯৭৫ এ লেখা একটি প্রবন্ধ সংকলনে (বইয়ের নাম ছিল "প্রস্তাব") ফরহাদ মজহার তার চেতনাপ্রবাহে বিজ্ঞান, কবিতা, দর্শন, নৃতত্ত্ব সবকিছুকে একীভূত করে দেখতে প্রয়াসী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সময় কত বদলায়! এখন ফরহাদ যখন কবিতা রচনা করেন, তখন তিনি একান্তভাবেই কবি থাকতে চান।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আরেকটা বিষয়। ফরহাদ মজহারই সম্ভবত বাংলা সাহিত্যে এখন একমাত্র কবি যিনি তরুণদের একটা ভাষাপ্রকরণচিন্তা, যার মেনিফেস্টেশনও পুরোপুরি হওয়া বাকি, সেটা দিয়ে নিজেকে আক্রান্ত করার সাহস দেখাতে পারেন। জয় হোক তাঁর।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;২০০৫ &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8711979249453840341-2044308445541069454?l=joyodrath.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://joyodrath.blogspot.com/feeds/2044308445541069454/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8711979249453840341&amp;postID=2044308445541069454&amp;isPopup=true' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/2044308445541069454'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/2044308445541069454'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://joyodrath.blogspot.com/2008/09/blog-post_17.html' title='ফরহাদ মজহার-এর সাম্প্রতিক কবিতা প্রসঙ্গে'/><author><name>সুমন রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16436814493171446627</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SK3K-srIq0I/AAAAAAAAAEk/KiOzO5TiBOk/S220/Sumon9_resize.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8711979249453840341.post-6848958084047237528</id><published>2008-09-13T15:46:00.005+06:00</published><updated>2008-09-13T16:05:29.777+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='নিম্নবর্গীয়পনা'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='জার্নাল'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='প্রথম প্রকাশ'/><title type='text'>অতিগরিবের ক্ষুধা-ব্যবস্থাপনার ভেতরে কোনো এক দিপালীর আত্মহত্যা</title><content type='html'>&lt;a onblur="try {parent.deselectBloggerImageGracefully();} catch(e) {}" href="http://alanmclark.com/shop/images/o.hunger.jpg"&gt;&lt;img style="float:left; margin:0 10px 10px 0;cursor:pointer; cursor:hand;width: 200px;" src="http://alanmclark.com/shop/images/o.hunger.jpg" border="0" alt="" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ভৈরবের দিপালীদের পরিবারে এখন অন্য অবস্থা। চাল আসছে, ডাল আসছে, এনজিও আসছে, ভিজিএফ কার্ড আসছে, ওয়ার্ড কমিশনার এসে সকালসন্ধ্যা খোঁজ নিচ্ছে। মেঘ না চাইতেই ঝড়!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ঝড়-ই তো। দিপালী যখন গলায় দড়ি দিয়ে ক্ষুধার জ্বালা চিরতরে মিটাল, তখন দিপালীর পঙ্গু বাবা ভাবছিলেন মেয়ের অন্তিম সৎকারের অর্থ জোগান দেবেন কিভাবে? কিন্তু কোত্থেকে কী যেন ম্যাজিক হয়ে গেল, মেয়েটা মরে গেল, আর সঙ্গে-সঙ্গেই রূপকথার মত অদ্ভূত সব ঘটনা। যে সমস্ত মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের স্বপ্নও তিনি দেখেন নি, তারা এসে হাজির: সমবেদনাসহ, খাদ্যসহ, চাকরিসহ। একের পর এক রিকশা আর মোটরসাইকেল এসে থামছে তার ছাপড়ার সামনে, হতভাগা মেয়েটার জন্য মনের মধ্যে এক পশলা শোকও জমতে দিচ্ছে না।&lt;br /&gt;&lt;span class="fullpost"&gt;&lt;br /&gt;পালা করে খেত দিপালীর পরিবার। আটজনের এই পরিবারে নিয়ম ছিল, যে-চারজন দুপুরে খাবে, রাতে তারা উপোস করবে। রাতে খাবে অন্য-চারজন। এভাবেই চলছিল তাদের ক্ষুধা ব্যবস্থাপনা। ভালই চলছিল। গোলমালটা লাগল, যখন দিপালীর প্রতিবন্ধী এক ভাই নিয়ম ভেঙ্গে পরপর দুইবার খেয়ে বসল। তাতে দিপালীর কপাল পুড়ল, ক্ষুধার যন্ত্রণার চেয়ে তার কাছে মৃত্যুকেই বেশি শান্তির মনে হল। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এরকম হয়েই থাকে। ‘ক্ষুধা-ব্যবস্থাপনা’র যে দেশব্যাপী নীরব দযজ্ঞ চলে, তার খোঁজ সরকার নেয় না, এনজিও-র ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পে তাদের জায়গা নাই, সংবাদপত্রের পাতায় তার সংকুলান হয় না ঘটনাহীনতার কারণে। এরমধ্যে হঠাৎ কোনো এক দিপালী মাঝখান থেকে দুম করে মরে বসে, বিব্রত হয় মধ্যবিত্তের সিভিল বিবেকব্যবস্থা। কিন্তু না হলেও চলত! কারণ পরিসংখ্যানে ‘স্ট্যান্ডার্ড এরর’ বলে একটা বিষয় আছে না? ক্ষুধা ব্যবস্থাপনার এই যে সর্বব্যাপী আয়োজন, তাতে দুয়েকটা দিপালী তো পরিসংখ্যানের নিয়মেও ঝরে যেতে পারে! পারে না?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই হল শাস্ত্রের আসল নাম: নিখাদ নিপাট ক্ষুধা ব্যবস্থাপনা। এসেটহারা গরিবের ক্ষুধা ব্যবস্থাপনা। এসেট নাই বলে সে ক্ষুদ্রঋণ পায় না, এনজিওর খাতা তার সামনে খোলে না। সরকারের তো দুইশ টাকার ভিজিএফ মশকরা, ক্ষুধার পেটে বয়স্কভাতার চুলকানি, তার দরজাতেও কত পেট-ভর্তি মানুষের ভিড়! আর বিত্তবান সমাজ? দিপালীর বাবা চেয়ে চেয়ে দেখেন ওদের। বুঝতেই পারেন না, জীবিত দিপালীর চেয়ে মৃত দিপালীর কদর এত বাড়ল কোন্ নিয়মে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দিপালীদের পরিবারে যেভাবে ক্ষুধার ‘ব্যবস্থাপনা’ চলছিল, দিপালী আত্মহত্যা না করলে তা হয়ত সংবাদপত্রবাসী জানতই না। এভাবে নীরবে নিভৃতে ভয়ংকর ক্ষুধার সাথে লুকোচুরি খেলতে খেলতে তাদের জীবন গড়িয়ে চলত। ষাট বছরের আয়ু তিরিশ বছরে ঠেকে যেত, অমর্ত্য সেন যাকে বলেছিলেন ‘নীরব দুর্ভিক্ষ’। সেই অবসরে জিনি ইনডেক্স লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ত, ট্রান্সপারেন্সী ইন্টারন্যাশনাল-এর বাৎসরিক প্রতিবেদনের মুখে মন্ত্রী বাহাদুরদের আস্ফালন দেখে খোদ দুর্নীতির দেবতাই বিব্রতমুখ হয়ে থাকত,  আর পলিথিনের ছাউনি-দেয়া ছাপড়ার ঘরে বসে বসে সর্বগ্রাসী ক্ষুধার সাথে দিপালীদের এই কুটনীতি চলতেই থাকত!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এখনও তো চলবে সব-ই। প্রকল্প পরিচালকের পাজেরো চলবে, মাইক্রোক্রেডিট সামিট চলবে, দারিদ্র গবেষণায় দেশ সয়লাব হয়ে যাবে। চলবে না খালি দিপালীদের সাবেক ‘ক্ষুধা-ব্যবস্থাপনা’। কিছু বিবেকবান মানুষের তৎপরতায় এখন তাদের খাওয়া হচ্ছে তিন বেলা (কিন্তু কতদিন?)। আবার গরিবের জন্য তিন বেলা খাওয়াও কম বিপত্তির নয়! কোষ্ঠ তরল হয়ে যায়, ঘন ঘন ল্যাট্রিনে যেতে হয়, একথা বেগুনটিলা বস্তির বৃদ্ধা গুলবানু বলেছিল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দিপালীর পরিবার তাদের এই গরিবি জানান দিতে চায় নি। তাই নিজেরা নিজেদের ‘ব্যবস্থাপনা’ তৈরি করেছিলেন। দিপালী আত্মহত্যা করায় সিভিল সমাজের জ্ঞানপাপ হয়ে গেল! আমরা জেনে ফেললাম, গরিব কিভাবে তার সবচেয়ে মৌলিক চাহিদার সাথে খেলে। ফলে, দিপালীর পরিবারের মত আরো অতিগরিব যারা আছে, যাদের ধারণা গরিবি জানান দেয়ার বিষয় নয়, তারা আরো সতর্ক হয়ে যাবে। এমনিতেই তারা সমাজে অস্পৃশ্য হয়ে থাকে, এরপর থেকে অদৃশ্য হয়ে থাকবে। ক্ষুধার আরো নিবিড় ‘ব্যবস্থাপনা’ বের করবে তারা। যেখানে আত্মহত্যাজাতীয় কোনো স্ট্যান্ডার্ড এরর থাকবে না, ফলে সিভিল বিবেক আসন্ন ঈদের প্রাক্কালে রং ঝলমল প্লাজার সামনে কোনোরকম দংশনে পড়বে না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘অতিগরিব’ নামে সমাজের একটা অংশের কথা অনেকেই স্বীকার করেন শুনি, কিন্তু তাদের কাছে পৌঁছাবার কোনো ফর্মূলা এখনও বাজারে আসে নি। শোনা যায়, অতিগরিবের উন্নয়ন অনেক দুরূহ, কারণ তাদের এসেট নাই (ফলে বন্ধকী নেয়া যায় না!), তাদের ভয়েস নাই (ফলে ইন-ডেপথ ইন্টারভিউ দেয় না তারা!), তাদের এমনকি কোনো আকাঙ্ক্ষাও নাই (ফলে অ্যাডভোকেসী মাঠে মারা যায়!)। আপামর  প্ররোচনাহীন এক জনগোষ্ঠী! তারা এমনিতেই তিলে তিলে মরে, তাদের মধ্যে দিপালীর মত কারো কারো হয়ত মৃত্যুর এই শম্বুক গতি পছন্দ হয় না। তখন অতিগরিবেরা শিরোনাম হয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দিপালীদের বাড়িতে আজ দেশের বিবেকবান মানুষের সাহায্য পৌঁছেছে, কিন্তু দরকার সুনির্দিষ্ট পলিসি, আর তার যথাযথ বাস্তবায়ন, এইসব অতিগরিব এবং বিপদাপন্ন মানুষের কার্যকরভাবে বেঁচে থাকার জন্য। নাহলে, ভেবে দেখুন, মাস ছয় পরে, দিপালীদের সাহায্যের টাকাই  ফুরিয়ে যাবে না, এর সাথে তাদের এতদিনকার ‘ক্ষুধা ব্যবস্থাপনা’র অভ্যাসটিও হারাবে তারা। সেইসাথে, আরেকবার সংবাদ শিরোনাম হবার ভয়ে সমাজে তারা আরো ইনভিজিবল হয়ে যাবে। ফলে, দিপালীর পরিবার তথ্যপ্রবাহ হয়ে আমাদের বিবেকে আর হয়ত কামড় বসাবে না, কিন্তু ক্ষুধার কামড় থেকে তারা কি মুক্তি পাবে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;২০০৫&lt;br /&gt;সংবাদের লিংক:&lt;br /&gt;http://www.thedailystar.net/2005/10/16/d51016110280.htm&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8711979249453840341-6848958084047237528?l=joyodrath.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://joyodrath.blogspot.com/feeds/6848958084047237528/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8711979249453840341&amp;postID=6848958084047237528&amp;isPopup=true' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/6848958084047237528'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/6848958084047237528'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://joyodrath.blogspot.com/2008/09/blog-post_13.html' title='অতিগরিবের ক্ষুধা-ব্যবস্থাপনার ভেতরে কোনো এক দিপালীর আত্মহত্যা'/><author><name>সুমন রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16436814493171446627</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SK3K-srIq0I/AAAAAAAAAEk/KiOzO5TiBOk/S220/Sumon9_resize.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8711979249453840341.post-1158177073249465569</id><published>2008-09-10T12:23:00.003+06:00</published><updated>2008-09-15T12:13:58.672+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='নিম্নবর্গীয়পনা'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='জার্নাল'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='প্রথম প্রকাশ'/><title type='text'>"চন্দ্রবিন্দু" যেভাবে তৈরি হল</title><content type='html'>&lt;a onblur="try {parent.deselectBloggerImageGracefully();} catch(e) {}" href="http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SMdpINqckSI/AAAAAAAAAGo/WO-5U5MvQ50/s1600-h/lucky+presenting+rupkotha+episode.jpg"&gt;&lt;img style="float:left; margin:0 10px 10px 0;cursor:pointer; cursor:hand;" src="http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SMdpINqckSI/AAAAAAAAAGo/WO-5U5MvQ50/s200/lucky+presenting+rupkotha+episode.jpg" border="0" alt=""id="BLOGGER_PHOTO_ID_5244275880923795746" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিপুলা এই টেলিভিশন মিডিয়ার সম্ভাবনার কতটুকু জেনেছি আমরা? সর্বসাকুল্যে টেলিভিশন অনুষ্ঠান বলতে খালি দেখছি বিভিন্ন দৈর্ঘের নাটক, বিভিন্ন প্রস্থের টকশো, আর নানাবর্ণের আইডল প্রতিযোগিতা। এর বাইরে বিস্তীর্ণ অভিজ্ঞতার যে দেশ, সেখানে এই বাক্সটির সম্ভাবনা কীরকম? গতানুগতিক এই সমস্ত ফর্মাটের বাইরে নতুন কোনো বিনোদনের সুযোগ আছে কিনা টেলিভিশনে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এরকম একটি জায়গা থেকেই চন্দ্রবিন্দুর কথা ভাবা। ২০০৫ সাল সেটি, আমি শিল্পসাহিত্যে দৃষ্টিসংবেদন নিয়ে গবেষণা করছি, একই বছরে এটি দেখা না-দেখার চোখ নামক বই হয়ে বেরোয়। ব্যতিক্রমধর্মী ঐ সংকলনের কাজ করতে করতে কথাশিল্পী শাহাদুজ্জামানের সাথে চন্দ্রবিন্দু নিয়ে অনেক আলাপ, কবি সাজ্জাদ শরিফের সাথেও। চিন্তার জট খুলতে থাকে, বন্ধু এবং মেধাবী নির্মাতা নূরুল আলম আতিক প্রবল উৎসাহে এগিয়ে আসেন। তারপর অনেকদিন ধরে চন্দ্রবিন্দু এগিয়ে চলছিল এই চতুষ্টয়ের চিন্তার মিথষ্ক্রিয়ায়। এই পর্যায়ে একটা ছন্দোপতন: আমাকে চলে যেতে হয় দেশের বাইরে। কিন্তু থেমে থাকে নি চন্দ্রবিন্দু, বরং আতিকের সুযোগ্য চিন্তায় ও সৃজনী দক্ষতায় তরতর করে বেড়ে উঠতে থাকে। আমি দূরদেশে বসে খবর পাই। পরম আনন্দ হয়।&lt;br /&gt;&lt;span class="fullpost"&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;চন্দ্রবিন্দু বানানোর মূল প্রণোদনা কি? এক কথায় এর উত্তর দিতে গেলে বলতে হয়, শ্রেণীনির্বিশেষে মানুষে মানুষে যোগাযোগের একটা পাটাতন তৈরি হয় কিনা সেটা খতিয়ে দেখা। ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের এই কালে মানুষ তার ধর্মের কিংবা শ্রেণীর ঘেরাটোপে যেভাবে বন্দী হয়ে পড়ছে, তার ফলে কবুতরের খোপের ভেতর ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে আটকা পড়েছে চিরকালের কথকতা। কিন্তু ধনীর বারান্দায় যেমন বৃষ্টি পড়ে, গরিবের ঘরেও। তাদের প্রত্যেকেরই শৈশব আছে, আছে ভুতের ভয় কিংবা মায়ের কাছে যাবার আকূলতা। একই আকাশ থেকে বৃষ্টি ঝরে পড়ছে বিভক্ত সমাজে, ফলে তার অর্থ ও অনর্থ স্থানবিশেষে ভিন্ন হয়ে যায়। আমরা ভিন্নবিভক্ত হয়েই একে মোকাবেলা করি, ভুলে যাই এর অভিন্ন উৎসের কথা। চন্দ্রবিন্দু আমাদের এই প্রতিদিনের খন্ডিত অনুভবগুলোকে আশ্রয় করেই চিরকালের বাঁশিটি বাজাতে চেয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;চিরকালের বাঁশি চিন্তায় বাজানো যত সহজ, পর্দায় বাজানো ততই কঠিন। বিশেষ করে যে পর্দায় স্টেরিওটাইপ ইমেজ আর বাণিজ্যের জংলীজটিল রাজনীতি দিয়ে মধ্যবিত্তের বিনোদন তৈরি হয়, সেখানে ভিন্নধারার একটি অনুষ্ঠানের জন্য জায়গা পাওয়া খুবই মুশকিল। কিন্তু নুরুল আলম আতিক দমে যাবার পাত্র নন, তাই তো নানান বৈরী অবস্থা পার হয়ে চন্দ্রবিন্দু আজ চ্যানেলআই-এর পর্দায়। এর মধ্যেই দর্শক এর প্রথম পর্বটি দেখে ফেলেছেন। চন্দ্রবিন্দু কতটা সফল কিংবা কতটা ব্যর্থ সে বিচারের ভার তাঁদের ওপর। কিন্তু আমি খুশি আমার একটি ভাঙাচোরা স্বপ্নকে এত নিপুণভাবে বাস্তবের পর্দায় হাজির হতে দেখে। আতিক সেটি করেছেন, তিনি এই স্বপ্নের যেমন সারথী ছিলেন তেমনি বাস্তবেরও রূপকার হয়ে দেখালেন। চমৎকার একটি সেটে অনবদ্য লাগছে শারমিন লাকী-র নাটকীয় উপস্থাপনা। চন্দ্রবিন্দু জয়যুক্ত হোক।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8711979249453840341-1158177073249465569?l=joyodrath.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://joyodrath.blogspot.com/feeds/1158177073249465569/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8711979249453840341&amp;postID=1158177073249465569&amp;isPopup=true' title='3টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/1158177073249465569'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/1158177073249465569'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://joyodrath.blogspot.com/2008/09/blog-post_10.html' title='&quot;চন্দ্রবিন্দু&quot; যেভাবে তৈরি হল'/><author><name>সুমন রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16436814493171446627</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SK3K-srIq0I/AAAAAAAAAEk/KiOzO5TiBOk/S220/Sumon9_resize.jpg'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SMdpINqckSI/AAAAAAAAAGo/WO-5U5MvQ50/s72-c/lucky+presenting+rupkotha+episode.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>3</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8711979249453840341.post-3500173133477296563</id><published>2008-09-06T19:10:00.004+06:00</published><updated>2008-09-06T19:26:40.182+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='অনুবাদ'/><title type='text'>দ্য ম্যাট্রিক্স মুভি নিয়ে জ্যাঁ বদ্রিয়াঁর সাথে আলাপ</title><content type='html'>&lt;a onblur="try {parent.deselectBloggerImageGracefully();} catch(e) {}" href="http://timesonline.typepad.com/photos/uncategorized/jean_baudrillard_1.jpg"&gt;&lt;img style="float:right; margin:0 0 10px 10px;cursor:pointer; cursor:hand;width: 200px;" src="http://timesonline.typepad.com/photos/uncategorized/jean_baudrillard_1.jpg" border="0" alt="" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;a onblur="try {parent.deselectBloggerImageGracefully();} catch(e) {}" href="http://www.wallpaperbase.com/wallpapers/movie/matrix/matrix_12.jpg"&gt;&lt;img style="float:left; margin:0 10px 10px 0;cursor:pointer; cursor:hand;width: 200px;" src="http://www.wallpaperbase.com/wallpapers/movie/matrix/matrix_12.jpg" border="0" alt="" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-style:italic;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;দ্য ম্যাট্রিক্স&lt;/span&gt; (১৯৯৯) হলিউডের একটি ব্লকবাস্টার সাইন্স ফিকশন মুভি। ওয়াচোস্কি ভাইদের বানানো সেই মুভিতে নিও নামের এক কম্পিউটার হ্যাকারের সাথে মরফিউস নামে আরেক প্রবাদতুল্য হ্যাকারের দেখা হয় এবং সে তাকে ২০০ বছর পরের পৃথিবীতে নিয়ে যায় যেখানে সাইবার ইন্টেলিজেন্স দুনিয়াকে শাসন করছে। সেখানে এক যন্ত্রগোষ্ঠী মানুষের মধ্যে প্রভূত প্রভাব বিস্তার করে তাদের হৃদয়কে “ম্যাট্রিক্স” নামক একটি গাণিতিক বাস্তবতার মধ্যে বন্দী করে রাখছে। নিও, মরফিউস এবং ট্রিনিটি ম্যাট্রিক্সকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়ার সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;জ্যাঁ বদ্রিঁয়া&lt;/span&gt; (১৯২৯-২০০৭) বর্তমান বিশ্বের নেতৃস্থানীয় দার্শনিকদের একজন যার হাত ধরে উত্তরাধুনিকতাবাদের বিকাশ হয়েছে। জনপ্রিয় ও স্মরণীয় ইভেন্ট, সেলিব্রিটি এবং সংস্কৃতি নিয়ে তার অনেক চিন্তাজাগানিয়া রচনা আছে। “সিমুলেশন ও সিমুলাক্রা” তাঁর অসংখ্য রচনার একটি, যার উদ্ধৃতি এই সাক্ষাৎকারে আছে। ”সিমুলেশন” বলতে তিনি বোঝান সেই বানিয়ে তোলা বাস্তবতা বা ভার্চুয়াল-এর বর্ণন যা “সত্যিকারের” বাস্তবতা থেকেও সত্য ও শ্রেয়তর হতে আরম্ভ করে। &lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;অদে ল্যান্সেলিন: ভার্চুয়াল ও বাস্তব নিয়ে তোমার ধারণাগুলোকে দ্য ম্যাট্রিক্স মুভির মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হতে দেখা গেছে। ম্যাট্রিক্সের প্রথম পর্বটি তো একেবারে সরাসরি সেরকম ইঙ্গিত দিয়েছে। মনে হয়েছে “সিমুলাক্রা ও সিমুলেশন” এর প্রচ্ছদ যেন রূপালি পর্দায়! অবাক হয়েছো?&lt;br /&gt;&lt;span class="fullpost"&gt;&lt;br /&gt;জ্যাঁ বদ্রিয়াঁ: এখানে নিশ্চিতভাবেই একটা ভুল বোঝাবুঝি আছে, যে কারণে আমি এখনও দ্য ম্যাট্রিক্স নিয়ে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না। দ্য ম্যাট্রিক্স-এর প্রথম পর্ব মুক্তি পাবার পর ওয়াচোস্কি ভাইদের তরফ থেকে আমার সাথে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তাদের প্রত্যাশা ছিল পরের পর্বগুলোয় তারা আমার সঙ্গে কাজ করবেন। কিন্তু এরকম হবার প্রশ্নই ওঠে না (হাসি)। ১৯৮০ সালেও এরকম একবার হয়েছিল যখন ন্যু-ইয়র্কের সিমুলেশনবাদী চিত্রশিল্পীরা আমার সাথে দেখা করলেন। ভার্চুয়াল যে একটা অবধারিত বিষয়, আমার এই প্রকল্পকে তারা গ্রহণ করলেন এবং সেটাকে একটা পরিষ্কার ফ্যান্টাসির চেহারা দিয়ে দিলেন। কিন্তু আসলে এটা এমন এক জগত যেখানে বাস্তব জগতের ক্যাটাগরিগুলো খাটে না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অদে ল্যান্সেলিন: কিন্তু ধরো, &lt;span style="font-style:italic;"&gt;দ্য পারফেক্ট ক্রাইম&lt;/span&gt;-এ তুমি যে দৃষ্টিভঙ্গির কথা বলছো, তার সাথে এই ফিল্ম অবিশ্বাস্যভাবে মিলে যায়। এই ফিল্ম  যথার্থই “বাস্তবের পোড়োবাড়ি”র দিকে ধাবমান, যেখানে পুরোপুরি ভার্চুয়াল এবং কল্পনার মানুষেরা চিন্তাশীলতার সক্ষম বিষয়বস্তু থেকে খুব বেশি ভিন্ন কিছু না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জ্যাঁ বদ্রিয়াঁ: ঠিক, তবে বাস্তব ও ভার্চুয়ালের মুছে যেতে-থাকা সীমানা নিয়ে আরো অনেক ফিল্ম হয়েছে: &lt;span style="font-style:italic;"&gt;দ্য টুম্যান শো, মাইনরিটি রিপোর্ট&lt;/span&gt;, বা এমনকি &lt;span style="font-style:italic;"&gt;মালহল্যান্ড ড্রাইভ&lt;/span&gt;, যেটি ডেভিড লিঞ্চ-এর মাস্টারপিস। &lt;span style="font-style:italic;"&gt;দ্য ম্যাট্রিক্স&lt;/span&gt;-এর মূল কৃতিত্ব হল যে সে এই বিষয়টাকে মারখাপ্পা আক্রমণ করেছে। যদিও সেটা করেছে অনেক সরলভাবে। তার ম্যাসেজ হল, হয় চরিত্রগুলো ম্যাট্রিক্স বা ডিজিটাল জগতের বাসিন্দা, না হয় তারা র‌্যাডিক্যালভাবে এর বাইরে, যেটা দেখা যায় দ্য ম্যাট্রিক্স-এ জিয়ন শহরের অধিবাসীদের মাঝে।  এই দুই জগতের দেখা যখন হয় তখন কী ঘটতে পারে এটা দেখানো খুব ইন্টারেস্টিং হতে পারে। কিন্তু এই ফিল্মের সবচেয়ে বিব্রতকর অংশ হল, যে-সমস্যাটির উদয় হয়েছে সিমুলেশন থেকে, সেটিকে সে মোকাবেলা করতে চেয়েছে প্লাতোনিক ট্রিটমেন্ট দিয়ে। এটি একটি মারাত্মক ত্রুটি। জগত যে একটি বড়সড় বিভ্রম ছাড়া আর কিছু নয় - এই ধারণাটি প্রায় সব বড়-বড় সংস্কৃতিকে চ্যালেঞ্জ করেছে এবং শিল্পচর্চা ও প্রতীকায়নের মাধ্যমে এর সুরাহা হয়েছে। আর একই ধরনের ভোগান্তি ঠেকাতে আমরা যা বানিয়েছি, সেটা হল একটা গাণিতিক বাস্তব যেটি সাবেকি বাস্তবকে প্রতিস্থাপন করতে সম। আর এভাবে একটা চূড়ান্ত সমাধানের দিকে যাওয়া: এমন একটি ভার্চুয়াল জগত যেখানে যাবতীয় বিপজ্জনক ও নেতিবাচক বিষয় আশয়ের জায়গা নেই। এটাই &lt;span style="font-style:italic;"&gt;দ্য ম্যাট্রিক্স&lt;/span&gt; মুভি-র পদ্ধতি। যা কিছু স্বপ্নে, ইউটোপিয়ায় বা ফ্যান্টাসিতে করবার কথা, সেগুলোকে একটা চেহারা দেয়া হয়েছে, “বাস্তবায়িত” করা হয়েছে। এটা একটি নিটোল স্বচ্ছতার জগত। এই মুভিটি সেই ধরনের একটা ম্যাট্রিক্স নিয়ে এবং সেখানে এরকম একটি ম্যাট্রিক্স গড়ে তোলা যেতে পারতো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অদে ল্যান্সেলিন: কিন্তু এটা তো সেই মুভিও যেখানে প্রকাশ্যে মানুষের প্রযুক্তিজাত বিচ্ছিন্নতার বিরোধিতা করা হয়েছে।  আবার একইসঙ্গে এটা সেই মুভি যেটা ডিজিটাল জগতের উন্মাদনা  ও কম্পিউটারে-বানানো দৃশ্যের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর করেছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জ্যাঁ বদ্রিয়াঁ: &lt;span style="font-style:italic;"&gt;ম্যাটিক্স রিলোডেড&lt;/span&gt; মুভির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, এটাতে সেই পরিহাসের সামান্যতম কণাও আর অবশিষ্ট নেই, এমন কিছুই নেই যা দর্শককে মুভির এই বিপুল স্পেশাল ইফেক্ট-এর বাইরে কিছু ভাবাবে। এমন একটাও সিকোয়েন্স নেই ঐ মুভিতে যেখানে কোনো অবিশ্বাস্য ডিটেইল তোমাকে একটা সত্য ইমেজের সামনা সামনি দাঁড় করিয়ে দেবে। আসলে, প্র্রযুক্তি নিয়ে রূপালি পর্দার মানুষদের যে মোহগ্রস্থতা আছে, সেটাই এই মুভিটাকে স্রেফ একটা তথ্যের আকর বানিয়ে ছেড়েছে। বাস্তব আর কল্পনাকে আলাদা করার কোনো রাস্তাই আর ঐ ছবিতে নেই। কিন্তু &lt;span style="font-style:italic;"&gt;দ্য ম্যাট্রিক্স &lt;/span&gt;আদতে একটি অনিঃশেষ বিষয়বস্তুর কথা বলেছিল, যা একইসঙ্গে সরাসরি ও বিরোধী, কারণ এটা বাস্তব জগতের কোনোখানেই নেই। মুভিটার শেষে যে ছদ্ম-ফ্রয়েডীয় ভাষণটি আছে, সেখানে এটা সুন্দরভাবে বলা হয়েছে: যা কিছু গতানুগতিক নয় তাকে সমীকরণের ছাঁদে ফেলে দিতে হলে ম্যাট্রিক্স-কে আবার ঢেলে সাজাতে (গাণিতিক ভাষায়, রিপ্রোগ্রামিং করা) হবে। আর তুমি, প্রতিরোধকারী, তুমিও সমীকরণের অংশ। মনে হচ্ছে, এরকম একটি ভার্চুয়াল সার্কিটে আমরা যেন চিরকালের জন্য আটকা পড়ে গেছি, যা থেকে বাইরে বেরুনোর কোনো রাস্তাই নেই। এই জায়গাটায় আবার আমি তাত্ত্বিকভাবে দ্বিমত পোষণ করি (হাসি)। দ্য ম্যাট্রিক্স এমন একটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তির চেহারা তুলে ধরেছে এবং তার বদলে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা করতে চেয়েছে, যার জুড়ি আজকাল বাস্তবে দেখা যায়।  এটাকে একটা বৈশ্বিক মাপে দেখানো এই ছবির অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল। এখানে বরং মার্শাল ম্যাকলুহানের শরণ নেয়া ভাল: দ্য মিডিয়াম ইজ দ্য মেসেজ, বা, বলবার মাধ্যমটিই হল বক্তব্য। যে উদ্দাম ও দুর্দমনীয় সংক্রমণের মাধ্যমে দ্য ম্যাট্রিক্স নিজেকে দর্শকের মাঝে সঞ্চার করছে, সেটিই হল তার বক্তব্য। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অদে ল্যান্সেলিন: এটা খুব মজার যে বাণিজ্যিক বিচারে প্রায়-সব আমেরিকার ব্লকবাস্টারগুলো, হোক সেটা &lt;span style="font-style:italic;"&gt;দ্য ম্যাট্রিক্স&lt;/span&gt; কিংবা ম্যাডোনা-র সর্বশেষ অ্যালবাম,  সবাই দাবি করছে যে এরা এমন একটি সিস্টেমের সমালোচনা করছে, যে সিস্টেমটি আবার ব্যাপকভাবে ওদের প্রমোট করে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জ্যাঁ বদ্রিয়াঁ: ঠিক এটাই আমাদের সময়টাকে এরকম নিপীড়নমূলক বানিয়েছে। বর্তমান সিস্টেমটা যে বিনোদন সামগ্রীগুলো উৎপাদন করছে তার মধ্যে কোথায় যেন একটা নেতিবাচক বিভ্রম গেঁথে দিচ্ছে সে। যেন কারখানা নিজেই মেয়াদোত্তীর্ণ জিনিস উৎপাদন করছে। সব ভাল ভাল বিকল্পগুলোকে ঠেকিয়ে রাখার এটাই হল কার্যকর পন্থা। জগত সম্পর্কে কারো প্রত্যক্ষণকে এক জায়গায় আটকে রাখবে, এমন কোনো ওমেগা পয়েন্ট নেই, এর বিপরীত ক্রিয়াটিও নেই; শুধু উদ্দীপনা নিয়ে লেগে-থাকা। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে, একটা সিস্টেম যতই পূর্ণতার দিকে যায়, ততই সে একটা সার্বিক দুর্ঘটের দিকেও যায়। এই বস্তুগত পরিহাসটি সেই সত্যই প্রতিপাদন করে যে, কোনো কিছুই চূড়ান্ত নয়। ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনাও সেটি প্রমাণ করে। সন্ত্রাসবাদ বিকল্প কোনো মতার আধার নয়। পশ্চিমের ক্ষমতা যে রীতিমত আত্মহন্তারক হয়ে উঠছে নিজেকে বদলাতে গিয়ে, সন্ত্রাসবাদ একটু বড় করে সেটাকেই প্রতীকায়িত করেছে। সেই সময়েই এটা আমি সরাসরি বলেছিলাম, কেউ আমল দেয় নি। তবে এসব মোকাবেলা করতে গিয়ে আমাদের দুঃখবাদী বা নৈরাজ্যবাদী হওয়ার দরকার নেই। এই সিস্টেম, এই ভার্চুয়াল কিংবা এই ম্যাট্রিক্স ― সবই সম্ভবত ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে ফিরে যাবে। কিন্তু এই যে বদলানোর প্রক্রিয়া, এই যে প্রতিরোধ এবং মোহময়তা ― এর কোনো বিনাশ নেই। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8711979249453840341-3500173133477296563?l=joyodrath.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://joyodrath.blogspot.com/feeds/3500173133477296563/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8711979249453840341&amp;postID=3500173133477296563&amp;isPopup=true' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/3500173133477296563'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/3500173133477296563'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://joyodrath.blogspot.com/2008/09/blog-post_06.html' title='দ্য ম্যাট্রিক্স মুভি নিয়ে জ্যাঁ বদ্রিয়াঁর সাথে আলাপ'/><author><name>সুমন রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16436814493171446627</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SK3K-srIq0I/AAAAAAAAAEk/KiOzO5TiBOk/S220/Sumon9_resize.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8711979249453840341.post-1464768972328831934</id><published>2008-09-03T23:44:00.003+06:00</published><updated>2008-09-03T23:52:56.339+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='কবিতা'/><title type='text'>হারিয়ে যাওয়া একটি কবিতা</title><content type='html'>তুমুল বিভ্রমে হঠাৎ তাকে পাই&lt;br /&gt;তুমুল সচেতনে হেরে&lt;br /&gt;তমাল তার পণ বেঁধেছে নিজ ডালে&lt;br /&gt;সে আসে মৃতদেহ ছেড়ে&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রবল বাকরোধ আমায় পেয়ে বসে&lt;br /&gt;প্রবল বমনের ঘাতে&lt;br /&gt;প্রাচীন অনীহার ত্রিশির তাড়া খেয়ে&lt;br /&gt;শুয়েছি এই নদীখাতে&lt;br /&gt;&lt;span class="fullpost"&gt;&lt;br /&gt;সে আসে পোড়াদেহ খোলস পালটিয়ে&lt;br /&gt;কুমারী নবভাষা পেয়ে&lt;br /&gt;নিকোনো ঘর থেকে পালিয়ে যাদুঘরে&lt;br /&gt;বলেছি ফিরে যাও মেয়ে&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তোমার ফলভার যেখানে উপগত&lt;br /&gt;একদা আদিবাস জেনে&lt;br /&gt;দেখেছি নদীটির শাসন দুরকম&lt;br /&gt;ঋতু ও বিবাহের গানে&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;(১৯৯০?)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;[বহুদিন আগে লেখা, ছন্দ শিখছি কেবল তখন। তারপর ছন্দ বিস্মরণ। কোথায় লুকিয়েছিল এই লেখাটি? আজ বহুদিন পর, কিন্তু দেরি হয়ে গেছে নিশ্চয়। এরই মধ্যে দু-দুটো কবিতার বই, একে বাইরে রেখেই। তাই কাগজ নয়, ওয়েবই সমাধি হোক তার।]&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8711979249453840341-1464768972328831934?l=joyodrath.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://joyodrath.blogspot.com/feeds/1464768972328831934/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8711979249453840341&amp;postID=1464768972328831934&amp;isPopup=true' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/1464768972328831934'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/1464768972328831934'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://joyodrath.blogspot.com/2008/09/blog-post_03.html' title='হারিয়ে যাওয়া একটি কবিতা'/><author><name>সুমন রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16436814493171446627</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SK3K-srIq0I/AAAAAAAAAEk/KiOzO5TiBOk/S220/Sumon9_resize.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8711979249453840341.post-3290534122112530025</id><published>2008-09-02T00:43:00.002+06:00</published><updated>2008-09-02T00:47:58.021+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='জার্নাল'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='&quot;কবিসভা&quot; থেকে'/><title type='text'>মানলে তালগাছ, না মানলে বালগাছ!!</title><content type='html'>বিনয় মজুমদারের একটা কবিতার উদ্ধৃতি আমি দিয়েছিলাম। ব্রাত্য রাইসু সেইটাকে ‘নর প্রাকৃতিক জৈব কবিতা’ অভিধায় আখ্যায়িত করেছেন। এই ধরনের অভিধার কথাও মনে হয় আর কেউ বলেন নাই। ফলে স্বত্ব রাইসুর, সন্দেহ নাই।  কিন্তু আমার মনে হয়েছিল, সেই কবিতার শিরায় শিরায় রবীন্দ্রনাথের মনুমেন্টপ্রমাণ অবস্থান নিয়ে একটা পরিষ্কার বিদ্রুপ বহমান, যেটা রবীন্দ্রনাথের অবদানকে পাশ কাটায় না, সহমর্মী থাকে। বিনয়ের সময় হয়ত রবীন্দ্রনাথকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়ার স্পর্ধা অর্জন করে নাই, যেটা অর্জন করেছে ব্রাত্য রাইসুর সময়, বা তিনি হয়ত তার সময় থেকেও অনেকখানি এগিয়ে (এগিয়ে বলছি, যেহেতু তেমন কাউকেই পাচ্ছি না, যে, উইদ ফুল থ্রটল, রাইসুর সাথে একমত হইতে পারতেছে)।&lt;br /&gt;&lt;span class="fullpost"&gt;&lt;br /&gt;আমি (ভুলক্রমে!) একটা পাটাতনের ইঙ্গিত করেছিলাম। যেহেতু আমি বিশ্বাস করি কোনোকিছুই রাতারাতি ডিম ফুইটা বাইর হয় না। আমার ধারণা ছিল, রবীন্দ্র প্রসঙ্গে ব্রাত্য রাইসুর র‌্যাডিক্যাল অবস্থান ঐতিহাসিকভাবেই বিকশিত হয়েছে। বিনয়কে একটা দৃষ্টান্ত হিসেবে মানছিলাম। কিন্তু রাইসু’র মনে হয়েছে, এইটা উনার বক্তব্যের মেরিট যাবতীয় গরুগাধাকে বণ্টন করে দেয়ার একটি সুমন রহমানীয় চক্রান্ত। রাইসুর বক্তব্যের স্বত্ব তার কাছ থেকে ছিনায়া লইয়া যাওয়ার একটা স্নিগ্ধ চেষ্টা। সেই কোপ থেকে পাটাতনকে তিনি ‘পাঠাতন’ লিখলেন, তার মানে বিনয় বা অন্যান্য ‘পাঠা’দের সাথে একমঞ্চে উচ্চারিত হওয়ার কোনো খায়েশ উনার নাই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ভাই রাইসু, আপনার বক্তব্যের মেরিট আপনারই। আমার বিবর্তনবাদ (বা ঐতিহাসিক বিকাশবাদ) আমারই থাক, ধইরা নিই যে আপনার রবীন্দ্র-অবধারণ মোটামুটি নবুয়তের ফর্মেই আপনের ওপর নাযিল হইছে। কিন্তু তাতেও একটা সমস্যা পাকাইতেছে আপনারই লেখা একটা কবিতা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-style:italic;"&gt;বিরহে পরাণ থরোথরো&lt;br /&gt;ঘুরে মরিব একেলা&lt;br /&gt;গাবো ঠাকুরের গান&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এমন দিনেই তারে বলা যায়&lt;br /&gt;যা বলিনি এতদিন&lt;br /&gt;প্রথমত বৃষ্টির অভাবে&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আর আমার জন্যই এল এই গান জলের ওপরে ভেসে ভেসে&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;(ব্রাত্য রাইসু, বর্ষামঙ্গল, আকাশে কালিদাসের লগে মেগ দেখতেছি)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিরহাক্রান্ত রাইসু একা একা ঘুরে ঘুরে ঠাকুরের গান গাইতেছে, এই কবিতার চিত্র যদি মোটামুটি এইরকমই হয়, তাইলে উহারে দয়া কইরা একটা অভিধা দিয়া দিবেন কি? আমাদের একটু বইলা দিবেন কি, এই কবিতার সাথে আপনের বর্তমান রবীন্দ্র-অবস্থানের কোনো ধারাবাহিকতা আছে কি না? জানতে ইচ্ছা করতেছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কবিসভা বড় অদ্ভূত জায়গা। এইখানে কোনো তর্কেরই মিমাংসা হয় না, এমন কি অনেক মিমাংসিত তর্কও এইখানে টগবগ কইরা ফোটে (এটা মন্দ না)। এইখানে প্রতিপক্ষ হইয়া যারা কোনো তর্ক আরম্ভ করেন, প্রতিপক্ষ থাইকাই তারা আলোচনা ক্ষান্ত দেন, বুঝি বা ক্লান্ত হৈয়া পড়ার কারণে। এইরকম অনেক ঈমানদারের সাক্ষাৎ এইখানে মিলে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মানভাষা-ঊনভাষা তর্ক একটি পোস্ট কলনিয়াল চিন্তাদশা, এইটা বুঝতে আমার দুইটাকাও লাগে না। এই তর্কের পরিবেশ তৈরি হইছে ক্ষমতা-সম্পর্কের নানান ইতিহাস, নানান তত্ত্ব ও ঘটনার পাটাতনের (পাটাতনই লিখলাম, কী আর করা!) ওপর দাঁড়িয়ে। জাস্ট অ্যা মেয়ার পোস্ট-কলোনিয়াল ইমপ্লিকেশন! এইটা একটা ভাল এজেন্ডা বইলা আমার ধারণা, আমি এই এজেন্ডার খুব ভক্ত। কিন্তু কেউ যদি মনে করেন এইটা কোনো ইতিহাস-নিরপেক্ষ দশা থেইকা তার ওপর হঠাৎ কইরা নাযিল হইছে, সেইটা তার ভাবনা, তার সুখ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আরো স্পেসিফিক হইয়া বলি: ধরা যাক, বাংলা সাহিত্যে যত রবীন্দ্র বিরোধিতা আছে সব একজাতের, শুধু রাইসুরটা আলাদা জাতের। এক্ষণে আমি জানতে চাই, ব্রাত্য রাইসু তার রবীন্দ্র বিরোধিতায় এ পর্যন্ত যত বাক্য লিখেছেন, তাত্ত্বিকভাবে তার মধ্যে এমন কোনো বক্তব্য কি আছে, যেটি পোস্ট-কলোনিয়াল চিন্তার ধারাবাহিকতা ছাড়া এসেছে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমাদের গ্রামে লোকজন কয়, মানলে তালগাছ না মানলে বালগাছ। যারা এইটা কয়, বা যে অবস্থায় কয়, সেইটা হইল কাউরে তালগাছও না বানানো, বালগাছও না বানানো। কারণ, কাউরে তালগাছ বানানো সহজ, এর চেয়ে সহজ বালগাছ বানানো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-style:italic;"&gt;ঢাকা, ১৬ মে ২০০৫ &lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8711979249453840341-3290534122112530025?l=joyodrath.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://joyodrath.blogspot.com/feeds/3290534122112530025/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8711979249453840341&amp;postID=3290534122112530025&amp;isPopup=true' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/3290534122112530025'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/3290534122112530025'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://joyodrath.blogspot.com/2008/09/blog-post.html' title='মানলে তালগাছ, না মানলে বালগাছ!!'/><author><name>সুমন রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16436814493171446627</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SK3K-srIq0I/AAAAAAAAAEk/KiOzO5TiBOk/S220/Sumon9_resize.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8711979249453840341.post-2397256074456228596</id><published>2008-08-30T18:49:00.007+06:00</published><updated>2008-09-15T12:14:33.119+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='জার্নাল'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='প্রথম প্রকাশ'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='দ্রুতপঠন'/><title type='text'>কবিতার পাঠ: ইমরুল হাসানের একটি কবিতা</title><content type='html'>ইমরুল হাসানের কবিতাটি এল ইমেইলে:&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;পাগল&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;কেউ কি আর চেষ্টা করে যাচ্ছে না, তোমার কি মনে হয়?&lt;br /&gt;আড়ালে আড়ালে কতই না শ্রেণীভেদ, শাসিয়ে যাচ্ছে&lt;br /&gt;রাস্তার পাশে তোমাকে দাঁড় করিয়ে যাচ্ছে একা!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ইচ্ছা হয়, উবু হয়ে বসে থাকি, রাস্তার কোণায়&lt;br /&gt;ড্রেনের পাশে, মাথানিচু; আগে, অনেক অনেক আগে যেমন&lt;br /&gt;বসে থাকতো, পাগল! কিছুটা সুশ্রী আর যার সুস্থ হওয়ার আশা&lt;br /&gt;মরে যাই নাই তখনো, তাকে দেখলে মনে হতো যে, সে আর&lt;br /&gt;পাগল হতে চায় নাই, কিছু একটা খুঁজতে খুঁজতে বসে পড়েছে&lt;br /&gt;যা আর স্বাভাবিক নয়, যাকে কিনা বলা হচ্ছে, ভাবা হচ্ছে&lt;br /&gt;সে আর যা নয়, যা সে হতে চায় নাই, যা আসলে আর কিছুই না ...&lt;br /&gt;&lt;span class="fullpost"&gt;&lt;br /&gt;এমনই একটা র্নিবিকল্প সময়, সন্ধ্যাবেলায়&lt;br /&gt;কতকিছুই না ভাবছে মানুষ-জন, চলে যাচ্ছে, ফুসফাস করে&lt;br /&gt;হাঁপাতে হাঁপাতে পার হয়ে যাচ্ছে, কতকিছুই তো করছে ...&lt;br /&gt;কেউ কি আর ড্রেনের ভিতর থেকে টাকা খোঁজার মতো করে&lt;br /&gt;অন্যকিছু বের করে আনার চেষ্টাটা করে যাচ্ছে না?&lt;br /&gt;তোমার কি মনে হয়?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;২৯.০৮.০৮&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একঝলক পাঠ, তারপর আবার প্রতিদিনের জীবনে। কিন্তু সেই যে পাগল, যে কিছুটা সুশ্রী, এবং সুস্থ হবার আশা এখনো শেষ হয়ে যায় নাই যার, তাকে তাড়ানো গেল না। আশাহীন যে পাগলামি তাকে ভুলে যাওয়া সহজ, হয়ত জরুরিও, আবার পাগলামিহীনতায়ও কোনো গল্প নেই, মনে রাখাও নেই। প্রতিদিনের এই যে জীবন, পথে-পাওয়া জীবন, এই যে সব মৃদু অস্বস্তি বাড়ি ফিরবার পথে, এই যে একটুকরা বিষাদ... এগুলোই ইমরুলকে কবিতায় উবু করে। মনে হবে যেন মাখনে ছুরি চালাচ্ছে সে, কিন্তু আলাদা যে ইমেজটা হাজির থাকে মনে, কবিতাটি পড়বার বহুদিন পরেও, আমি খেয়াল করি ক্রমে সেটা গ্রানাইটের মত শক্ত হয়ে যায়!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একেকটা ইমেজের এত শক্তি! ভাবি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ইমরুলের এই কবিতায় (অন্য অনেক কবিতায়ও বোধ করি) কবি কথা বলছে যার সাথে, বা যাকে আসলে কবিতাটি শোনানো হচ্ছে, তার ব্যক্তিত্ব অন্যরকম। সে যেন সব কিছু ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট বোঝে, তাই ইমরুল তাকে নানান ইমেজ দিয়ে, ইমেজের ভেতর গুপ্তির মত প্রশ্ন গুঁজে দিয়ে সংশয়ী করে তুলতে চায়। কবিতা পাড়ার জন্য এমন একজন সঙ্গী পেয়ে যাওয়া বেশ আরামের, কবির জন্য। জরুরিও বটে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ইমরুলের কবিতা কানের কাছে ফিসফিস করে বলার মত, এবং বলার পর, যিনি বললেন এবং যিনি শুনলেন তারা ভুলে যাওয়ার ভান করবেন সত্যি, কিন্তু ঐ একটা-দুটা ইমেজ থাকবে যা আপনার সংবেদনার নরম মাটিতে গ্রানাইটের মত অনড় হয়ে পড়ে থাকবে। আপনি ভাববেন, ঠিক আছে পরে সরিয়ে দেবেন 'খন, কিন্তু... হাহাহা.... পারছেন কি?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8711979249453840341-2397256074456228596?l=joyodrath.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://joyodrath.blogspot.com/feeds/2397256074456228596/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8711979249453840341&amp;postID=2397256074456228596&amp;isPopup=true' title='2টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/2397256074456228596'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/2397256074456228596'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://joyodrath.blogspot.com/2008/08/blog-post_9013.html' title='কবিতার পাঠ: ইমরুল হাসানের একটি কবিতা'/><author><name>সুমন রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16436814493171446627</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SK3K-srIq0I/AAAAAAAAAEk/KiOzO5TiBOk/S220/Sumon9_resize.jpg'/></author><thr:total>2</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8711979249453840341.post-5240469043488783480</id><published>2008-08-30T01:55:00.004+06:00</published><updated>2008-08-30T02:04:44.428+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='জার্নাল'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='&quot;কবিসভা&quot; থেকে'/><title type='text'>পাগলা ভক্তের ধাওয়া!!</title><content type='html'>&lt;a onblur="try {parent.deselectBloggerImageGracefully();} catch(e) {}" href="http://www.reverendfun.com/add_toon_info.php?date=19990716&amp;language=en"&gt;&lt;img style="float:left; margin:0 10px 10px 0;cursor:pointer; cursor:hand;width: 200px;" src="http://www.reverendfun.com/add_toon_info.php?date=19990716&amp;language=en" border="0" alt="" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;কবিসভায় ব্রাত্য রাইসু এবং আমি (ইমরুল এবং ভাস্করও) দুয়েকটি বিষয় নিয়া তর্ক করিতেছিলাম। আমরা পরস্পরের কিছু কিছু বিষয়ে একমত আর কিছু কিছু বিষয়ে দুইমত হইতেছিলাম। তাতে অনেক বিষয় আমার নাদান-চক্ষে পরিষ্কার হইবার সুযোগ পাইতেছিল, মান্যবর রাইসু-ও তর্কটিকে উপভোগ্য বইলা সায় দিতেছিলেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কিন্তু পাগলা ভক্তের মন ইহাতে মানিবে কেন?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ভক্তের মন তাই নানান মোক্ষম কৌশলের আশ্রয় খুঁজিল। একজন বেনামে সুমন রহমানের ভক্ত সাজিলেন। বিপরীত লিঙ্গের এই চরিত্রটি আমার কাছে সুমন রহমানের অনেক লেখা বিষয়ে আপ্লূত প্রশংসা করিলেন, যাতে আমার মহিলাবাঞ্ছা আর ভক্তবাঞ্ছা দুইটাই পুরা হয়। অনেক ইনায়া বিনায়া শেষে তিনি আমার ঠিকানা ও টেলিফোন নম্বর চাহিলেন। কিন্তু ততক্ষণে আমি আমার জানের ওপর খতরা টের পাইয়া গিয়াছি। তাই দরজায় রসুনের মালা ঝোলাইয়া হাতে ক্রুশ লইয়া বইসা রহিলাম। কোনো সাড়া দিলাম না। ফোন নম্বর দিলাম না। এরপর সেই ভক্তের প্রশংসা ক্রমে নিন্দায় পর্যবসিত হইতে থাকিল। স্বস্তি পাইলাম। মনে হইল এই যাত্রা ফাঁড়া কাটিয়া গেছে। বন্ধ দরজার ওপারের মোহনীয় হাসিখানি অবশেষে গগনবিদারী প্রেতচিৎকারিণীরূপে পাহাড়েপর্বতে প্রতিধ্বনি তুলিয়া বিদায় নিলেন।&lt;br /&gt;&lt;span class="fullpost"&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;স্ত্রীজাতীয় আরেকজন নিজনামে কবিসভার যৌথ ডাকবাক্স থিকা আমার ব্যক্তিগত মেইলবাক্সে আছর করিলেন। তিনি আসিলেন এক ‘ভয়ংকর’ ভালবাসার পয়গাম লইয়া। আমাকে নানান বিষয়াদি জিজ্ঞাস করিলেন, যথা: আমি বিবাহিত কি না, আমি দেখিতে ‘উত্তেজক’ কি না, ইত্যাদি। তিনি আমাকে লম্বা লম্বা চিঠি লিখিতে লাগিলেন এবং আমাকেও সেইমত আদেশ করিলেন। কিন্তু আমি একজন ভীতুবিবাহিত মানুষ বিধায় উনার উদাত্ত ডাকে সাড়া দিবার পারি নাই। শেষে আমার ‘অক্ষম’ পুরুষত্বে কুপিত হইয়া তিনি নিজ অভিসন্ধি সরাসরি প্রকাশ করিলেন: আর কোনোদিন যদি আপনি রাইসুরে.......&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ইমেইল বাক্স খুলিলেই এইসব ভয়ংকর ভয়ংকর সব হুমকিতে ভরা চিঠি দেখিতে পাই, শেষে মনের দুঃখে ইমেইল ছাইড়া এমএসএন চ্যাটবাক্সে গিয়া ঢুকিলাম। সেইখানে ঘাপটি মাইরা ছিলেন আরেকজন, আমাকে দেখিবামাত্র একখানি জল্লাদের ইমোটিকন দেখায়া ভাগায়া দিলেন। আমি খাবি খায়া পলায়া যাইবার প্রাক্কালে তিনি আবার পেছন পেছন দুইখান ভাইরাস লেলাইয়া দিলেন। ইহার একটি লাগিল আমার কম্পিউটারের উইন্ডোজে। কম্পিউটার ক্র্যাশ করিল। আরেকটি লাগিল আমার ইমিউন সিস্টেমে। আমিও ক্র্যাশ করিলাম।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ভাবিলাম, ভালই হইল একদিকে, পাগলা ভক্তের মন শান্ত হইবেক। আমি ও আমার কম্পিউটার চুপচাপ পইড়া থাকি, মুক ও বধির ইস্কুলে যাওয়া-আসা করি বরং!!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কিন্তু টেলিফোন নামক আরেকটি যন্ত্র যে আছে এই জগতে! সেইখানে হানা দিলেন আরেকজন। বলিলেন, দেখছেন নাকি, আপনেরে নিয়া চিঠি লিখছে আইজগা....&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তখনও দেখি নাই। পরে ল্যাচড়াইতে ল্যাচড়াইতে এক সাইবার ক্যাফেতে গিয়া দেখিলাম আরেক ভক্ত।  টিপু সাহেব লেখছেন। ভালই লেখছেন। আমার বলিবার কিছু নাই। কারণ উনার স্কুলবিতর্কমার্কা বক্তব্যের উত্তরে আমার যা বলার তা আগের চিঠিতেই বলা আছে। সাশ্রয় করি বরঞ্চ!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একটা প্রস্তাব নিয়া ভাবিতেছি। রাইসু একদা নিন্দাসভার ডাক দিয়াছিলেন। তখন আমি অন্যরকম তর্কে মজিয়াছিলাম। এখন মনে হইতেছে নিন্দাসভা না হইলেও একখানি ভক্তসভা তৈয়ার করা অত্যন্ত জরুরি। যাবতীয় ভক্তকুলের একটা জন্য অভয়ারণ্য খুলিয়া দিলে উনারা যেমন নিজ নিজ আইকনদের ধামা ধরিয়া স্বচ্ছন্দে বিহার করিতে পারিবেন, তেমনি আমাদেরও অনেক তর্কসাশ্রয় হইয়া যাইবে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ঢাকা, ৩১ মে ২০০৫&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8711979249453840341-5240469043488783480?l=joyodrath.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://joyodrath.blogspot.com/feeds/5240469043488783480/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8711979249453840341&amp;postID=5240469043488783480&amp;isPopup=true' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/5240469043488783480'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/5240469043488783480'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://joyodrath.blogspot.com/2008/08/blog-post_30.html' title='পাগলা ভক্তের ধাওয়া!!'/><author><name>সুমন রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16436814493171446627</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SK3K-srIq0I/AAAAAAAAAEk/KiOzO5TiBOk/S220/Sumon9_resize.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8711979249453840341.post-129632910739016881</id><published>2008-08-27T16:41:00.007+06:00</published><updated>2008-08-27T17:09:31.787+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='নিজের চরকায়'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='সমালোচনা'/><title type='text'>"মধ্যরাতের নদী" নিয়ে মুজিব মেহদীর আলোচনা</title><content type='html'>&lt;a onblur="try {parent.deselectBloggerImageGracefully();} catch(e) {}" href="http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SLUyDl9oW-I/AAAAAAAAAGU/VilALQCq1Zs/s1600-h/Muzib.jpg"&gt;&lt;img style="float:left; margin:0 10px 10px 0;cursor:pointer; cursor:hand;" src="http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SLUyDl9oW-I/AAAAAAAAAGU/VilALQCq1Zs/s200/Muzib.jpg" border="0" alt=""id="BLOGGER_PHOTO_ID_5239148778827045858" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-style:italic;"&gt;পড়েছিলাম 'ময়মনসিংহ জং' নামক একটি লিটল ম্যাগাজিনে। কবি মুজিব মেহদী এই কাগজের সাথে সাক্ষাৎকারে সমসাময়িককালে তাঁর পছন্দের একটি কবিতার কথা বলতে গিয়ে "মধ্যরাতের নদী" কবিতাটির কথা উল্লেখ করেছিলেন। কিছু আলোচনাও করেছিলেন। সাক্ষাৎকারের সেই অংশটি এখানে ব্লগস্থ হল:&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;......................&lt;br /&gt;ময়মনসিংহ জং : একটি প্রিয় (অন্যের) কবিতার কথা বলুন। ভালো লাগার কার্যকারণসহ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মুজিব মেহদী : একজন নিয়মিত পাঠক তাঁর পাঠেতিহাসে অনেক প্রিয় কবিতার সংস্পর্শে আসেন। এই প্রিয়তা আবার সময়ে বদলে বদলে যায়। সময়ে কোনো-কোনোটার প্রতি ভালো লাগা আরো প্রগাঢ় হয়, কোনোটা আর ভালো লাগে না। আবার নতুন নতুন ভালো লাগার কবিতা প্রিয়তালিকায় যুক্তও হয়। আমারও এমন হয়েছে। আমার ভালো লাগা কবিতার সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। তার ভিতর থেকে একটি কবিতা বেছে নিতে গিয়ে অনেক দ্বিধাদ্বন্দ্বের মোকাবেলা করতে হলো। কোনটি রেখে কোনটির কথা বলব। যেটির কথা বলব সেটি কি প্রিয়দের সেরা ? তা না হলে তো অবশ্যই অন্য কোনো বিবেচনা দরকার। সেটা কী হতে পারে ? ঠিক করে নিলাম নির্বাচিত কবিতাটিকে হতে হবে বাংলাদেশের কোনো কবির কবিতা এবং আমার সমসাময়িক কোনো কবির। এখানেও দেখলাম অনেক কবিতাই নির্বাচনপ্রার্থী। শেষাবধি আরেকটি বিবেচনা সামনে আনতে হলো। সেটা এই যে, জন্মে না হোক অন্তত কাব্যচর্চায় হলেও কবিকে হতে হবে আমার চেয়ে জ্যেষ্ঠ। এবার বেছে নেয়া গেল সুমন রহমান (১৯৭০) এর ‘মধ্যরাতের নদী’।&lt;br /&gt;সুমন রহমান কবি হিসেবে আমাদের সমসাময়িক, তবে তাঁর কাব্যঅভিযাত্রার সূচনা অন্তিমআশিতে। ঈশান জয়দ্রথ লেখকনামে ১৯৯৪-এ বোরোয় তাঁর ‘ঝিঁঝিট’ নামক প্রথম কাব্যগ্রন্থ। দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক পর সুমন রহমান লেখকনামে তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘সিরামিকের নিজস্ব ঝগড়া’ বেরিয়েছে ২০০৮-এ। কবিতাটি সদ্য প্রকাশিত গ্রন্থ ‘সিরামিকের নিজস্ব ঝগড়া’য় অন্তর্ভুক্ত হবারও আগে একাধিকবার পঠিত ওয়েবব্লগ ‘সচলায়তন’ এবং সম্ভবত লিটলম্যাগ ‘মান্দার’-এ। &lt;br /&gt;&lt;span class="fullpost"&gt;&lt;br /&gt;কোনো শিল্পকর্মের প্রতি ভালো লাগা ব্যাপারটা সবসময় ব্যাখ্যাযোগ্য হয় না। ব্যাখ্যা যাও-বা কোনোরূপে সম্পন্ন করা যায় তা কখনো সর্বজনীন হয় না, ফলত হয় খণ্ডিত ও একপেশে। তবু খণ্ডিতকরণেরই কিছু চেষ্টা হোক।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নদীবহুল বাংলাদেশের কবিতা ও গানে নদীকে নিজের দুঃখের কথা শোনানোর রীতিটি আমাদের ঐতিহ্যসম্পৃক্তই। তবু কবিতাটি অন্যান্য নদীবচন থেকে আলাদা। সাধারণত নদী নিয়ে যেরকম কবিতা লিখিত হয়, কবিতাটিতে সেসব উপাদানের কোনো-কোনোটি হাজির থাকলেও এটি মোটেই সেরকম নয়। নদীসংক্রান্ত লেখায় নদীর চপলতা, নিষ্কলূষতা, সুদূরগমন ক্ষমতা ইত্যাদির প্রশস্তি গান থাকে, কিংবা রাতের নদী হলে তাতে পড়া চাঁদের ছায়ায় প্রিয়তমার মুখাবয়ব দেখাজনিত অধ্যাসের বর্ণনাও থাকে। এখানে সেসব নেই। এই কবিতাটি মহিমান্বিত নদীকে সাক্ষী মেনে একজন কবির নিজের সঙ্গে বোঝাপড়ার শিল্পসৌকর্যে। কবিতাটি পড়তে পড়তে নদীর মতো দীর্ঘ একটি হাহাকার হাতকয় দূর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে বলে মনে হয়, দূরাগত কৃত্রিম আলোকসজ্জাকে ছাপিয়েও একটা নৈশ অন্ধকার সমাসীন বলে যা বস্তুত দেখা যায় না, কিন্তু জেলেনৌকার মৃদুআলোয় বোঝা যায় যে কথকের চোখজোড়া ভিজে উঠছে কবিতার সাথে সম্পর্কের টানাপড়েনে। অন্তত আমার অনুভবে ব্যাপারটি এরকমভাবেই ধরা দেয়। মৃদু অথচ বৃহদায়তন এ বিষাদ আমাকে ছুঁয়ে যায়, কেননা এরকম সংশয় আমার ঝোলায়ও আছে যে, কবিতা আমাকে বুঝতে পারছে কি না বা আমি কবিতাকে। এ বিবেচনায় আমি ভাবি যে, কবিতাকর্মী মাত্রকেই হয়ত কবিতাটি স্পর্শ করবে।&lt;br /&gt; &lt;br /&gt;কালের ভারে কাবু শীর্ণতোয়া নদীর পাঁচমিশালী ক্যাজুয়াল গতিভঙ্গির মতো এ কবিতাটিরও কোথাও কোনো দ্রুততা নেই, এখানেও এসে মিশেছে অনেকস্রোত: জলদূষণ কারণে মাছের শ্বাসকষ্ট থেকে শুরু করে কবিতা উসকে দেয়া খেয়ালী বালিকা, উঠতি শহরের অকার্যকর ও অপ্রতুল পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, কারখানা শ্রমিকের দলবদ্ধ স্নান এবং সবিশেষ কবিতাদাম্পত্যের সাফল্যব্যর্থতা। পরিপার্শ্বকে দেখার বিরল দক্ষতা এবং সেসবকে রঙঢংতাৎপর্যসমেত মূর্ত করে তুলবার যে স্ফূর্তিময় সাফল্য কবি কবিতাটিতে দেখিয়েছেন, তা অনবদ্য। কবিতাটিতে একটি বাড়তি পাওনাও জুটে গেছে উপজাত হয়ে। সেটি এর পরিবেশ চিন্তন। ফলত এটি একটি পরিবেশবান্ধব কবিতারও উদাহরণ হয়ে গেছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সুমন রহমান এই কবিতায় কবিতাশিল্পের ক্লিশে অলংকার উপমা ব্যবহারে অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন। ধরা যাক, শুরুর দিকের ধীরে চলা নীরব নদীর বর্ণনার ব্যাপারটা। কেমন নীরব ও শ্লথ ওই চলন? কবি বলছেন, ‘যেন কারো অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যাচ্ছে মধ্যরাতের নদী’। কিংবা তৃতীয় অনুচ্ছেদে বর্ণিত ইউরিয়া ফ্যাক্টরির বর্জ্য-জঞ্জালে কাতর ইলিশের পরিণতি বর্ণনা: ‘তবু গুনগুনিয়ে যাচ্ছে নদী, যেন ওর গানের ভেতর ইলিশের/ বোকা-বোকা শ্বাসকষ্ট আছে। সহজ মরণ আছে।’ কিংবা শেষাংশে নিজেদের কবিতাপ্রয়াসকে ছোট শহরের অপর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার সাথে করা তুলনাটা: ‘যেন আমার সম্ভাব্য কবিতা/ঐ উঠতি শহরের পয়ঃনিষ্কাশনের মতোই/একপেশে একটি বধির ব্যবস্থামাত্র!’&lt;br /&gt; &lt;br /&gt;আমি কবিতাটির শব্দ নির্বাচন ও সজ্জার শৈল্পিক কারিগরিতে বিশেষভাবে মুগ্ধ। মুগ্ধ এর কেন্দ্রকে পরিপাটি রেখেও পরিপার্শ্বকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে পারার বিরল ক্ষমতাদৃষ্টে। সুমন রহমানের এ ভ্রমণ কাজেই যুক্ত হয়ে যায় আমার প্রিয় তালিকায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8711979249453840341-129632910739016881?l=joyodrath.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://joyodrath.blogspot.com/feeds/129632910739016881/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8711979249453840341&amp;postID=129632910739016881&amp;isPopup=true' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/129632910739016881'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/129632910739016881'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://joyodrath.blogspot.com/2008/08/blog-post_5755.html' title='&quot;মধ্যরাতের নদী&quot; নিয়ে মুজিব মেহদীর আলোচনা'/><author><name>সুমন রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16436814493171446627</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SK3K-srIq0I/AAAAAAAAAEk/KiOzO5TiBOk/S220/Sumon9_resize.jpg'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SLUyDl9oW-I/AAAAAAAAAGU/VilALQCq1Zs/s72-c/Muzib.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8711979249453840341.post-1384690893539789779</id><published>2008-08-27T16:31:00.004+06:00</published><updated>2008-08-27T17:15:20.870+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='কবিতা'/><title type='text'>মধ্যরাতের নদী</title><content type='html'>খুব ক্যাজুয়েল, কোন জলদি নাই, যেন নিরবধি -&lt;br /&gt;   যেন কারো অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যাচ্ছে মধ্যরাতের নদী&lt;br /&gt;পাঁচমিশালী ধারাস্রোতের দোটানা-সহ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আলোকসজ্জার নৈশ অনুরোধ ঠেলে যেতে মন কি তার একদম সরছে না?&lt;br /&gt;নাকি ভুলে গেছে,পাহাড়ের বেণী খুলবার দিনে সেও ক্রন্দনশীলা পথ -&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আর জয়দ্রথ&lt;br /&gt;কিংবা আমি&lt;br /&gt;এসে বসলাম পা ডুবিয়ে - ইউরিয়া ফ্যাক্টরির সবুজ বিষ্ঠা মিশছে&lt;br /&gt;     ঘুমন্ত ইলিশের ফুলকায়&lt;br /&gt;তবু গুনগুনিয়ে যাচ্ছে নদী, যেন ওর গানের ভেতর ইলিশের&lt;br /&gt;বোকা বোকা শ্বাসকষ্ট আছে। সহজ মরণ আছে।&lt;br /&gt;&lt;span class="fullpost"&gt;&lt;br /&gt;নদীকে বললাম আমার নানাবিধ পদ্যসম্ভাবনার কথা&lt;br /&gt;এক বালিকার খেয়ালখুশির ভেতর তীব্র বেদনারাশিসমেত &lt;br /&gt;লতিয়ে উঠত ওরা –&lt;br /&gt;যাকে আমি লুকিয়ে রেখেছিলাম ওর সহচরীদের কাছ থেকে&lt;br /&gt;আগলে রেখেছিলাম পৃথিবীর সবাইকে তস্কর ভেবে &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বলতে ইচ্ছা করছে: তাকে হারিয়ে ফেলেছি, অথবা তাকে &lt;br /&gt;কোনদিনই পাই নি  &lt;br /&gt;তাকে আমি একদম বুঝি নি, সেও আমাকে নয়&lt;br /&gt;আমি হয়ত তাকে একদিন বুঝে উঠতে পারবো, কিন্তু সে আমাকে&lt;br /&gt;          কোনদিনও বুঝবে না&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একটি নিঃসঙ্গ জেলেনৌকার আলোয় আমার চোখ &lt;br /&gt;      ঝাপসা হয়ে আসছে&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নদী বইছে ধীরে, সপ্রতিভ উপেক্ষার অল্প অল্প ঘূর্ণি ওর গায়ে&lt;br /&gt;যেন আমি যে গল্পটি বলছি সেটি বহুবার তার বহুজন থেকে শোনা&lt;br /&gt;যেন তার তীরে তীরে পুনরাবৃত্তি বোনা &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;যেন কোন উচ্চাভিলাষী শহরের পাশ দিয়ে &lt;br /&gt;    একবারও বয়ে না-গিয়ে&lt;br /&gt;আমার বুঝবারই কথা নয় দাম্পত্য কাকে বলে &lt;br /&gt;যেন আমার সম্ভাব্য কবিতা&lt;br /&gt;ঐ উঠতি শহরের পয়ঃনিষ্কাশনের মতই &lt;br /&gt;একপেশে একটি বধির ব্যবস্থামাত্র!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সমবেত স্নান শেষে শ্রমিকদের হল্লা মিলিয়ে যাচ্ছে দূরে&lt;br /&gt;ছুটি চেয়ে বড় বড় শ্বাস ফেলছে ঘাটগুলো, যেন আমি উঠে গেলেই&lt;br /&gt;একযোগে নাইতে নামবে – &lt;br /&gt;সারাদিনের কান্তি আর লোহার অ্যাংকরের খামচিগুলোতে ব্যাণ্ডেজ বেঁধে&lt;br /&gt;     ঘুমাতে যাবে তারা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8711979249453840341-1384690893539789779?l=joyodrath.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://joyodrath.blogspot.com/feeds/1384690893539789779/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8711979249453840341&amp;postID=1384690893539789779&amp;isPopup=true' title='1টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/1384690893539789779'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/1384690893539789779'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://joyodrath.blogspot.com/2008/08/blog-post_27.html' title='মধ্যরাতের নদী'/><author><name>সুমন রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16436814493171446627</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SK3K-srIq0I/AAAAAAAAAEk/KiOzO5TiBOk/S220/Sumon9_resize.jpg'/></author><thr:total>1</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8711979249453840341.post-5163254277687115607</id><published>2008-08-26T00:18:00.006+06:00</published><updated>2008-08-26T00:46:53.262+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='নিম্নবর্গীয়পনা'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='অনুবাদ'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='সমালোচনা'/><title type='text'>সাহিত্য কি আমাদের বিপক্ষে? : অন্ধত্ব ও সাহিত্য নিয়ে কেনেথ জার্নিগান-এর রচনা</title><content type='html'>&lt;a onblur="try {parent.deselectBloggerImageGracefully();} catch(e) {}" href="http://www.blind.net/pictures/jernigan02.jpg"&gt;&lt;img style="float:left; margin:0 10px 10px 0;cursor:pointer; cursor:hand;width: 200px;" src="http://www.blind.net/pictures/jernigan02.jpg" border="0" alt="" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-style:italic;"&gt;সাহিত্যের উপাদান হিসেবে অন্ধত্বকে খোদ অন্ধরা কিভাবে মূল্যায়ন করে? আমেরিকার ন্যাশনাল ফেডারেশন অব দ্য ব্লাইন্ড এর ড. কেনেথ জার্নিগান-এর এই লেখাটি সাহিত্যের সেই চেহারা তুলে ধরেছে যেখানে চক্ষুষ্মান সাহিত্যিকগণ চক্ষুহীন মানুষকে সাহিত্যের উপাদান করতে গিয়ে তাদের স্বাভাবিক জগতের বাইরে ছুঁড়ে দিয়েছেন। এমন কি জন মিল্টনের মত খ্যাতিমান অন্ধ সাহিত্যিকেরাও, কেনেথ বলছেন, এইসব জনপ্রিয় ধারণার ফাঁদে পড়ে গিয়ে অন্ধত্ব নিয়ে দৃষ্টিবান মানুষ যা ভাবতে পছন্দ করে তারই প্রতিধ্বনি করেছেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কেনেথ-এর মতে, অতীতকালের সাহিত্য যেখানে অন্ধত্ব বিষয় হিসেবে এসেছে তা মোটেও অন্ধদের বাস্তবতাকে সমর্থন করে না, ফলত অন্ধদের জীবনে সেসব মোটেও কোনো উৎসাহ জোগায় না। বর্তমানের সাহিত্যে বেশ কিছু ইতিবাচক মোড়বদলের কথা তিনি বলেছেন, যদিও রেফারেন্স দেন নি। অবশ্য কেনেথ-এর বক্তব্য তৈরি হয়েছে প্রধানত তার চিরায়ত ইংরেজি ও ফরাসী সাহিত্যপাঠের অভিজ্ঞতা থেকে। আর সাহিত্যের কাছে তার প্রত্যাশার ধরনটিও বিতর্কের বিষয় হতে পারে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;["দেখা না-দেখার চোখ" এ এই অনুবাদটি প্রকাশিত হয়েছিল]&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;ইতিহাস যেমন মানুষের কৃতকর্মের সন্নিবেশ তেমনি সাহিত্য হল তার চিন্তার সমাবেশ। আমি এখন বলতে চেষ্টা করব সাহিত্যে অন্ধদের উপস্থাপনার ধরন নিয়ে। কীভাবে দেখা হয়েছে আমাদের সেখানে? আমাদের ভূমিকা কী? কবি, উপন্যাসিক, প্রবন্ধকার ও নাট্যকারগণ কী ভেবেছেন আমাদের নিয়ে?  অন্ধত্ব জিনিসটা আসলে যেরকম তারা কি সেইরকমই দেখেছেন, নাকি তারা যেরকম দেখতে চেয়েছেন, অন্ধত্বকে সেইরকম করেই তুলে ধরেছেন?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সাহিত্যে অন্ধজীবন নিয়ে কোনো একক বা একটি সার্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গি নেই। বরং দেখা যায় সাহিত্য অনেকগুলো বিচিত্র এবং পরস্পরবিরোধী অন্ধত্বের ইমেজ হাজির করছে, সেটি শুধু যুগ বা সংস্কৃতিভেদে নয়, শুধু লেখকভেদে নয়, এমন কি একই বইয়ের বিভিন্ন পৃষ্ঠায়ও এই বৈপরীত্য বিদ্যমান।&lt;br /&gt;&lt;span class="fullpost"&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাহিত্যে অন্ধত্বের বিষয়টি মোটামুটি নয় ধরনের বিষয়াশ্রিত হয়ে এসেছে: অলৌকিক ক্ষমতারূপে, নিরুদ্ধার ট্রাজেডী হিসেবে, নির্বুদ্ধিতা ও অসহায়ত্বের পূর্বগামী হয়ে, ধূর্ততা আর শয়তানি সহযোগে, নিখাদ পূণ্যের সহগামী হিসেবে, পাপের শাস্তিরূপে, অস্বাভাবিকতা এবং বিমানবিকীকরণের সূত্রপাত হিসেবে, শুদ্ধতার প্রতীকরূপে, অন্য কিছুর প্রতীক বা রূপক হিসেবে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অলৌকিক বা আল্লাপ্রদত্ত ক্ষমতা হিসেবে অন্ধত্ব সাহিত্যে কিভাবে চিত্রিত? ধরা যাক আপনাদের কেউ আমায় জিজ্ঞেস করলেন, অন্ধ হওয়ার কি কি সুবিধা আছে বলে আমি মনে করি? এবং ধরা যাক আমি উত্তর দিলাম: কোনোই সুবিধা নেই, তবে এমন কিছু দিক আছে যা হয়ত আমরা ভেবে দেখি না। আবিষ্কারের জন্য একটা নতুন জগত, নতুন এবং অভিনব প্রত্যণ, নতুন জেগে উঠা মতা; অন্ধ জীবন চতুর্থ মাত্রার জীবন। এরকম শুনলে একজন অন্ধ হিসেবে আপনি কী বলবেন? অনুমান করি, হাসতে হাসতে বিষম খাবেন। আমার মনে হয় না এইসব বস্তাপচা বোকাভাষণ কাউকে আকৃষ্ট করবে। আপনারা এবং আমি নিজের মুখে ঝাল খাওয়া অভিজ্ঞতা থেকে জানি যে, অন্ধত্বের কোনো চতুর্থ মাত্রা নেই, অন্ধ হলে কোনো অলৌকিক ক্ষমতা জাগ্রত হয় না, কোনো অদ্ভূত অনুভূতি হয় না, উন্মোচিত হবার জন্য নতুন কোনো জগত এসে হাজির হয় না। কিন্তু আমি যে উদ্ধৃতি দিয়েছি সেটি কিছুকাল আগের এক জনপ্রিয় উপন্যাস থেকে নেয়া।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অলৌকিক বা প্রকৃতিপ্রদত্ত মতার সাথে অন্ধত্বের এই যে মেলবন্ধন, এটি সাহিত্যে একটি সর্বজনমান্য ঐতিহ্য, চিরায়ত পূরাণকাহিনীগুলোতেও এর শেকড় আছে। প্রাচীন গ্রিসের দেবতাদের মধ্যে মানুষকে শাস্তি দেয়ার একটা পছন্দনীয় প্রথা ছিল অন্ধ করে দেয়া। একে সাধারণভাবে মৃত্যুর চেয়েও খারাপ মনে করা হলেও, কখনো কখনো, দেবতার কৃপায় সেই অন্ধ হয়ে যাওয়া শাস্তিগ্রহীতা ব্যতিক্রমী কিছু ক্ষতিপূরণও পেয়ে যেতেন: যেমন ভবিষ্যকথন ক্ষমতা। মনে করা হয়, হোমার তার অন্ধত্বের ক্ষতিপূরণ হিসেবে পেয়েছেন কবিত্বশক্তি। একইভাবে, সফোকিসের নাটকে যে টাইরেসিয়াসকে পাওয়া যায়, অন্ধ হবার বদলে নবুয়তপ্রাপ্তি ঘটেছিল তার।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;উনবিংশ শতাব্দীর মহান উপন্যাসিক ভিক্টর হুগো’র ‘দ্য ম্যান হু লাফস’ উপন্যাসে অন্ধত্ব নিয়ে আধুনিক লেখকদের দৃষ্টিভঙ্গি মেলে। সেখানে অন্ধত্ব শুদ্ধতা ও আনন্দের সহযোগী হয়েছে, যা কোনোভাবে দৃষ্টিহীনতাকে পুষিয়ে দিচ্ছে। তার উপন্যাসের অন্ধ নায়িকা দিয়াকে দেখা যায় এক পরমানন্দে বিভোর হয়ে থাকতে, যেটা অন্ধের পক্ষে বেমানান ঠেকে। এই পরমানন্দ কখনো কখনো আত্মার গহীনে অনুধাবনের জন্য অন্ধদের এক সঙ্গীত উপহার দেয় এবং তার মাধ্যমে তাদের অন্ধকার জীবনকে আলোকিত করে তোলে। হুগো’র মতে অন্ধত্ব হল সেই অন্তহীন গুহা যার মধ্যে অসীমের ঐকতান ধরা দেয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সম্ভবত, জনপ্রিয় কল্পকাহিনীর অন্ধ গোয়েন্দাদের কীর্তিকলাপের মাধ্যমেই অন্ধত্বের সাথে ষষ্ঠেন্দ্রিয়ের যোগাযোগ পরিস্ফুট হয়। ম্যাক্স ক্যারেডস নামের ফোর্থ ডাইমেনশনাল চরিত্রটি আবির্ভূত হয়েছিল ১৯১৪ সালে এবং গোটা বিশের দশক ধরে নানান অতিমানবীয় ঘটনার নায়ক হয়ে থেকেছে সে। ১৯১৫ সালে আমরা পাই ডেমন গন্ট নামক আরেকজন অন্ধ গোয়েন্দাকে, যিনি একটা কেসও হারেন নি। এই তালিকায় থর্নলে কল্টন, ডানকান ম্যাক্সেইনসহ আরো অনেক চরিত্রের নাম যোগ করা যায়। যেমন হয়েছে গোয়েন্দা ডানকানের চরিত্রের বেলায়। এখানে ডানকানের নৈপুণ্যের ছটায় তার স্রষ্টাই ঢাকা পড়ে গেছেন। তবু এমন কিছু মুহূর্ত আসে, ডানকানের স্রষ্টা লিখেছেন, যখন সাধারণ মরণশীল মানুষের ক্ষমতার অতিরিক্ত কিছু মতা ডানকানের অধিগত হতে দেখা যায়। এসব মুহূর্ত তাকে উদ্বিগ্ন করে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তারা সেইসঙ্গে আমাদেরও উদ্বিগ্ন করেন। অন্ধত্বের সাথে এসব অস্বাভাবিক এবং অতিমানবিক ক্ষমতারোপ নিঃসঙ্গ ও আলাদা, অসহজ এবং উদ্ভট একটি বস্তাপচা চরিত্রের আদলে ভাবা থেকে অন্ধকে একটুও রেহাই দেয় না। বরং পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এটি শুধু অসত্যই নয়, অন্ধদের জন্য নেতিবাচকও। কারণ এতে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, কোনো অন্ধ মানুষ যা অর্জন করল তা নিজের যোগ্যতায় নয়, বরং অন্ধত্বে নিহিত কোনো ম্যাজিকের বদৌলতে। অন্ধত্বের ওপর এহেন অতিমানবীয় ক্ষমতারোপ এক লহমায় সাধারণ বাস্তবতা থেকে উঠিয়ে নিয়ে অন্ধকে দাঁড় করায় অস্বাভাবিকতার উদ্ভট এক মঞ্চের ওপর। অথচ অতিমানবীয় বা অস্বাভাবিক যাই হোক, এটিই ধ্রুবসত্য যে, অন্ধের কোন দায় নেই, অধিকার নেই, সমাজ নেই এই পৃথিবীতে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কৃতকর্মের পুরষ্কার হিসেবে প্রকৃতিদত্ত ক্ষমতা অর্জনের ধারণা অন্ধের জন্য কোনোভাবেই প্রশংসাসূচক নয়, বরং অপমানকর। এই ধারণা আমাদের যাবতীয় অর্জনকে ছিনিয়ে নেয়, এমন কি আমাদের ব্যর্থতার দায়ও আমাদের বহন করতে দেয় না। এই ধারণা অন্ধের জন্য একটা সুষম সমাজ গঠনের দায় থেকে বিদ্যমান সমাজকে মুক্তি দিয়ে দেয়। চারপাশের জীবনে উদ্দাম ও সমান অংশগ্রহণের সামর্থ অর্জনে আমাদের মোটেও উদ্দীপ্ত করে না। সংক্ষেপে এই ধারণা অনুযায়ী, অন্ধ অসাধারণ হতে পারে, কিন্তু কোনোভাবেই সাধারণ হতে পারে না। কিন্তু বিশ্বাস করুন, আমরা অতি সাধারণ অন্ধলোক, আশির্বাদপুষ্টও নই, অভিশপ্তও নই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অন্ধত্বের ওপর প্রকৃতিদত্ত মতারোপের ধারণা নেতিবাচক হলেও অনেক কম ক্ষতিকর, সাহিত্যে অন্ধত্বের সাথে এর চেয়েও ক্ষতিকর অনুষঙ্গ জড়িয়ে আছে। সবচেয়ে তিকর ধারণাটি আবার সবচেয়ে প্রাচীনও: সেটি হল অন্ধত্বকে একটি সম্পূর্ণ ট্রাজেডী হিসেবে দেখা। একটি হিব্রু প্রবাদ আছে, অন্ধলোক হল মৃত মানুষের মত। অন্ধকে জীবন্মৃত করে উপস্থাপনের চরম নিদর্শন পাওয়া যায় ইদিপাসকে নিয়ে লেখা গ্রিক নাটকগুলোতে। ইদিপাস রেক্সে রাজা নিজেই যখন নিজের চোখ তুলে ফেললেন তখন নাট্যকার বলছেন: অন্ধ হয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যুই ভাল ছিল। এই ঐতিহ্যের বিস্তার ঘটে ইংরেজি সাহিত্যেও। সেখানে একজন কবি, নিজেও যিনি অন্ধ, অন্ধত্বকে মহাদুর্যোগ আখ্যা দিয়ে শেষকথা বলছেন। স্যামসন অ্যাগনেষ্টিজ-এ জন মিল্টন:&lt;br /&gt;&lt;span style="font-style:italic;"&gt;শত্রুবেষ্টিত অন্ধের চেয়ে অনেক ভাল ছিল বন্দী হওয়া, পাতালে নিক্ষিপ্ত হওয়া, ভিক্ষা করা, বা ন্যুব্জ হয়ে যাওয়া। তুচ্ছাতিতুচ্ছ পতঙ্গজীবনও আমার চেয়ে ভাল। তারা হামাগুড়ি দিয়ে চলে, তবুও তো দেখতে পায়। আমি, আলোর মধ্যে অন্ধকার, প্রতিদিনের প্রতারণা, প্ররোচনা, ঠগবাজি বা ভুলভালের কাছে প্রতিদিন ধরা খাই। দরজা খোলা থাকা না থাকা আমার জন্যে সমান, সেটা অন্যের বিষয়, আমার নয়। অর্ধেকের কম আমি জীবিত, অর্ধেকের বেশি আমি মৃত, একটা চলমান কবর।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই মহাকাব্যিক কবিতার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় এর মহাদুর্যোগ পরিস্থিতি নয়, উল্লেখযোগ্য হল আমাদের মহাকবি মিল্টন এর রচয়িতা। তার সব মহৎ রচনা (প্যারাডাইজ লস্ট সহ) লিখিত হয়েছে তিনি অন্ধ হয়ে যাবার পরে। তাহলে তিনি কেন অন্ধত্বকে এমনভাবে দেখতে গেলেন? উত্তরটা সহজ: আমরা অন্ধরা নিজেদের অবস্থাকে সেভাবে দেখতে চেষ্টা করি, যেভাবে চক্ষুষ্মান মানুষ আমাদের দেখতে চায়। এমন কি, যখন আমরা বুঝি ঐ দৃষ্টিভঙ্গি একদম ভুল, তারপরও সেই মতামতটিকেই আমরা নিজেদের ওপর চাপাতে দিই বা চাপিয়ে নিই। এভাবে অনেক সীমিত ও খণ্ডিত অনুধাবন আমাদেরই সহায়তায় আমাদের বাস্তবতা হিসেবে স্বীকৃতি পেতে থাকে। সাহিত্যের গতানুগতিক ঐতিহ্য দ্বারা চালিত হয়ে মিল্টন নিজের এবং তাবৎ অন্ধদের জন্য একটি ভুল দৃষ্টিভঙ্গি উপহার দিলেন। সত্যি বলতে কি, মিল্টন বরং অন্ধত্ব নিয়ে সাবেকী বস্তাপচা মতামতগুলোর পালেই হাওয়া দিলেন, এবং সেটি তিনি করলেন তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বিপক্ষে গিয়ে। সাহিত্যের ক্ষমতা সত্যিই অনেক!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এক শতাব্দী পর অন্ধত্বের দুর্যোগের ধারণাটি খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠে। কিপলিং-এর ‘দ্য লাইট দ্যাট ফেইলড’ পুস্তকে বলা হয়, অন্ধত্ব মৃত্যুর চেয়েও খারাপ। এই বইয়ের নায়ক যখন জানতে পারে যে, সে অন্ধ হতে চলেছে, তখন বলে: এটা হল চলমান মৃত্যু। অন্ধকারে আমাদের নিশ্চুপ হয়ে থাকতে হবে এবং আমরা কাউকেই দেখব না, যা চাই তা কোনোদিনই পাব না, শতবছরও যদি বাঁচি। পুস্তকটির পরবর্তী অংশে নায়ককে দেখা যায় সমগ্র পৃথিবীর বিরূদ্ধে আক্রোশে ফেটে পড়তে, যেহেতু সেই পৃথিবী দেখতে পায়, যেখানে সেই নায়ক অন্ধের মৃত্যুর মাঝে মৃত হয়ে আছে, সহযোগীদের কাঁধে দুর্বহ বোঝা হয়ে। যখন এই আত্ম-অনুকম্পায় ভরা চরিত্রটি আত্মহত্যা করতে সমর্থ হয় (কী যে স্বস্তির খবর!) কিপলিং বলে ওঠেন যে, এই অন্ধ নায়কের ভাগ্য শেষপর্যন্ত ওর সাথে প্রতারণা করে নাই, কারণ সে একটা দয়ালূ বুলেট অন্তত নিজের মাথায় ঢুকিয়ে দিতে পেরেছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘দ্য এন্ড অব দ্য টিদার’ উপন্যাসে জোসেফ কনরাড তার চরিত্র ক্যাপ্টেন হুয়েলীকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করেন, কারণ সেটি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে অনেক ভাল। ডি এইচ লরেন্সের উপন্যাস ‘দ্য ব্লাইন্ডম্যান’ এ মরিস যুদ্ধে অন্ধ হয়ে যায়, ভবিষ্যতের কোন সোনালি ইঙ্গিতই তার দুর্দশা লাঘব করে না। ‘ইনভাইটেশন টু দ্য ওয়াল্টজ’ উপন্যাসে লেখক রোজামন্ড লেম্যান আরো এককাঠি সরেস। তার উপন্যাসের যুদ্ধে-অন্ধ-হওয়া চরিত্রটি সমাজে সম্মানজনক জীবন যাপন করলেও, কোনো কাজে লাগে না, যেন একটা চলতে ফিরতে থাকা লাশ। যখন সে তার প্রাক্তন প্রেমিকার সাথে নাচে তখন পরিস্থিতি খুব বেদনাদায়ক হয়ে উঠে। অন্ধলোকটি তার প্রাক্তন প্রেমিকাকে নিবিড় করে ধরে রাখলেও প্রকৃত প্রস্তাবে সে তখন অনেক দূরে, সঙ্গীত থেকে, জীবন থেকে, সমাহিত এবং পছন্দশূন্য। আর প্রেমিকা আসলে ঐ অন্ধলোকটির চক্ষুষ্মান যুবক বয়স আর বর্তমানের মৃত্যুর সাথে নাচে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই লেখকেরা মনে করেন, অন্ধত্বের তথাকথিত ট্রাজেডী এতটাই দুর্বহ যে, খোলা আছে দুইটি রাস্তা: হয় চোখ ফিরে পাওয়া, নয় মরে যাওয়া।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দেখা যাক অন্ধত্বের সাথে নির্বুদ্ধিতা আর অসহায়ত্বের প্রসঙ্গকে কিভাবে মেলানো হয়েছে। প্রাচীন কাল থেকেই অন্ধরা রগড় নাটক ও প্রহসনে উপহাসের বিষয় হয়ে থেকেছে। প্রাচীন কাল থেকেই বিভিন্ন রগড় নাটক ও প্রহসনে অন্ধরা উপহাসের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। মধ্যযুগে দেখা যেত অন্ধরা গাধার কান লাগিয়ে পথে পথে ঘুরছে, হাতপা নেড়ে উল্টাসিধা কথা বলে জনগণের মনোরঞ্জন করছে। এই ধারাবাহিকতায় চসার তার ‘মারচেন্টস টেল’এ এক তরুণী বধুর  কথা বলেন যে এক অন্ধ বুড়োকে বিয়ে করে। স্বামীর সঙ্গে বাইরে ঘুরতে গিয়ে ঐ বধু তার গোপন প্রেমিকের সঙ্গে গাছের আড়ালে অভিসার করে অন্ধ স্বামীর সামনে। চসার সেখানেই থামেন না, বলতে থাকেন, সেই মোম সময়ে ঐ তরুণীর স্বামী হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি ফিরে পায় এবং স্ত্রীকে গোপন প্রেমিকের সাথে অভিসাররত দেখতে পায়। কিন্তু চালাক স্ত্রী সাথেসাথেই অজুহাত খাড়া করায়: ঐ অভিসার আসলে ছিল স্বামীর দৃষ্টি ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশায়! শেক্সপিয়ারে অবস্থা আরো খারাপ। ‘কিং লিয়র’এ তিনি যে অন্ধ গ্লকেস্টারকে উপস্থাপন করেন, সে এতটাই অসহায় আর দ্বিধাগ্রস্থ যে, যেকোন কিছু দিয়েই তাকে ভজানো যায়, প্রতারিত হবার জন্য একেবারে আদর্শ চরিত্র।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অন্ধদের নিয়ে মজা করার রূঢ়তম দৃষ্টান্তটি পাওয়া যায় ষোড়শ শতাব্দীর এক জার্মান নাটকে। নাটকের নায়ক তিনজন অন্ধ ভিক্ষুককে একটা মূল্যবান মুদ্রা ভিক্ষা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন যেটা দিয়ে তারা খাদ্যসামগ্রী ও থাকার ব্যবস্থা করতে পারে। সেই মুদ্রা আসলে কাউকেই দেয়া হয়নি, আর তিনজন অন্ধের প্রত্যেকেই মনে করল অন্যজনকে মুদ্রাটি দেয়া হয়েছে। পরের অবস্থাটি সহজেই অনুমেয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অসহায় অন্ধলোক একটি সার্বজনীন ধারণা হয়ে উঠেছে। মেটারলিংক-এর ‘দ্য ব্লাইন্ড’ নাটকে দার্শনিক অবস্থান থেকে সবগুলো চরিত্রকে অন্ধ দেখানো হয়েছে। কিন্তু মঞ্চে গিয়ে দেখা গেল দর্শন নয়, বরং অন্ধদের হাস্যকর দলবাজি, হুমকিধামকিই ঐ নাটকের সার।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘লা সিম্ফনি প্যাস্টোরাল’ এর আঁন্দ্রে জিদ হলেন অন্ধত্বের প্রকৃত সত্যের সবচেয়ে খারাপ বিরূদ্ধবাদীদের একজন। সেখানে অন্ধ কিশোরী গারট্রুড একেবারে নির্বোধ কিসিমের ছিল, প্যাস্টর এসে ওকে লেখাপড়া শিখাতে শুরু করার আগে। অন্ধত্বের কারণেই এই নির্বুদ্ধিতা, লেখক বলেন, দৃষ্টি না থাকায় কিশোরীটি সত্য সম্পর্কে জানতে পারে না। শিক প্যাস্টর তার ছাত্রী গারট্রুড-এর জন্য যে জগত তৈরি করে, সেখানেই অন্ধ গারট্রুড সুখেস্বাচ্ছন্দ্যে কাটায়। সত্যিকার জগতের খারাপ দিক সম্পর্কে কিশোরীটি কিছুই জানতে পারে না। দৃষ্টি না থাকায় সে পাপ সম্পর্কেও সচেতন নয়, আপেল খাওয়ার আগের আদম-ঈভের মত। গারট্রুড যখন দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেল, তখনই কেবল সে পাপ সম্পর্কে অবগত হল। না বুঝে প্যাস্টরের সাথে যেসব পাপকাজ সে করেছে, সেগুলোর অপরাধবোধ তাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সাহিত্যে অন্ধত্ব যেমন নির্বুদ্ধিতার অনুষঙ্গ হয়ে এসেছে, তেমনি এসেছে ধূর্ততার অনুষঙ্গ হয়েও: একেবারে খাঁটি শয়তানির মূর্ত মানবীয় রূপ হয়ে। স্টিভেনসনের ‘ট্রেজার আইল্যান্ড’ এর বুড়ো জলদস্যু অন্ধ পিউ এর জাজ্বল্যমান দৃষ্টান্ত। উপন্যাসের নায়ক কিশোর জিম হকিন্স অন্ধ পিউকে যখন প্রথম দেখে তখনই তার মনে হয়েছে এই মৃদুভাষী এবং চোখহীন মানুষটির চেয়ে ভয়াবহ কোন চরিত্র সে জীবনেও দেখে নাই। যখন পিউ তাকে ক্রাচ বাগিয়ে ধরে ফেলে, জিমের মনে হয়েছে, এই অন্ধ লোকটির কণ্ঠের চেয়ে নিষ্ঠুর, ঠাণ্ডা আর কুৎসিত কণ্ঠও সে কোনোদিন শোনে নাই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বহুযুগ ধরেই অন্ধত্ব ও নিচুতার সম্পর্ক সাহিত্যিকদের একটা প্রিয় প্রসঙ্গ, এবং পাঠকদের মধ্যেও এই সম্পর্কের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে, যেহেতু পাঠকেরা নানা লোককাহিনী থেকে শিক্ষা পেয়েছে যে, অন্ধত্ব মানবিক গুণাবলী হ্রাস করে। এই শিক্ষা অন্ধ বিষয়ে চক্ষুষ্মান সাধারণ মানুষের নিষ্ঠুরতার অ্যাটিচুডকে সমর্থন করে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নিখাদ শয়তানির অনুষঙ্গে অন্ধত্বকে যেমন দেখা হয়েছে, এর বিপরীতে কোনো কোনো সাহিত্যে আবার অন্ধত্ব উপস্থাপিত হয়েছে পরম পূণ্যরূপে। আপাতভাবে এই দুটো দৃষ্টিভঙ্গিকে পরস্পরবিরোধী মনে হলেও প্রকৃত প্রস্তাবে তারা একই মুদ্রার এপিঠওপিঠ। অন্ধত্বের প্রকৃত বাস্তবতা তুলে ধরার মত জোরালো অন্তর্দৃষ্টি কোনটিতেই পাওয়া যায় না। একটা বিষয়ে এই দুই দলই একমত: অন্ধত্ব হচ্ছে একটা অন্তর্বর্তীকালীন অবস্থা যা তার বহনকারীকে স্বাভাবিক জীবন থেকে পুরোপুরি উৎপাটিত করে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অন্ধত্বকে হয় পাপ বা শয়তানির ফসল হতে হবে, নয় তাকে হতে হবে পূণ্যের অনুষঙ্গ। লরা রিচার্ডস এর ‘দ্য ব্লাইন্ড চাইল্ড’এ দেখা যায় অন্ধ শিশুটি গাছের বাকলে হাত রেখে বলে দিচ্ছে গাছের নাম, বলে দিচ্ছে কখন ফুল আসবে এবং কিভাবে। গ্রামে এমন কোনো কুকুর বিড়াল নেই যে ঐ শিশুর একটি ডাকে প্রভুর নাম ভুলে ছুটে আসবে না। সে শুধু পূণ্যবতীই নয়, পাশাপাশি যাদুকরী ক্ষমতার অধিকারী। অগ্নিকাণ্ড থেকে এক শিশুকে রা করে, গান গেয়ে মানুষকে রোগমুক্ত করে, পাঁড় মদ্যপের মদের নেশা ছাড়িয়ে দেয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অন্ধত্ব নিয়ে যাবতীয় রোমান্টিক হেঁয়ালিপনার মধ্যে সবচেয়ে উদ্ভট হল, অন্ধত্বকে ছদ্মবেশী আশির্বাদ মনে করা। জন জি মরিসের ‘দ্য ব্লাইন্ড গার্ল অব উইটিনবার্গ’এ অন্ধ নায়িকাকে বলা হচ্ছে: ঈশ্বর তোমায় চোখের আলো থেকে বঞ্চিত করেছেন বলেই তোমার হৃদয় আরো মহান আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে। আমার পরিচিতি এমন কোনো অন্ধ মেয়ে নেই যে এরকম অপমানসূচক এবং উদ্ভট বক্তব্য প্রদানকারীর গালে অন্তত একটি চড় না বসিয়ে ছেড়ে দেবে। তারপর এই অন্ধ নায়িকাকে দিয়ে প্রত্যুত্তরে যা বলানো হল তা আরো মারাত্মক: সে বলল, মহাত্মন আপনি কি সত্যিই বিশ্বাস করেন আমাদের অন্তর্জগত আপনাদের চেয়ে সুন্দর, এবং আপনাদের সূর্যের চেয়ে আমাদের অন্তরের আলো উজ্জ্বলতর? &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কল্পকাহিনীতে আরেকটা সুপ্রাচীন এবং অন্যতম নিষ্ঠুর ধারণা হল, অন্ধত্ব হচ্ছে পাপের ফল। ঈদিপাস অন্ধ হন মাতৃসহবাসের কারণে, বেলেল্লাপনার কারণে চোখ হারান শেক্সপিয়ারের গ্লুকেস্টার। এর অব্যবহিত পরের ঘটনা হল, অন্ধত্ব শুদ্ধতা অর্জনের একটা স্তর, যে স্তরে কোনো মানবীয় চরিত্র আগের পাপতাপ ঝেড়ে পূণ্যবান হয়ে উঠতে পারে। যেমন দেখা যায় কিংসলের ‘ওয়েস্টওয়ার্ড হো’ এ অ্যামেয়াস লেই বজ্রপাতে অন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাতারাতি অপরাধী থেকে সাধুতে পরিণত হয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এ সমস্ত বিখ্যাত কল্পকাহিনীর মধ্যে অন্ধত্বকে মানবিকতা-বহির্ভূত কিছু একটা দাঁড় করানোর একটা প্রবণতা থেকেই গেছে। অন্ধত্ব যেন স্বাভাবিক জীবন বা মানবিক সম্পর্ক থেকে নির্বাসনের দরজা। ডিকেন্সের বার্থাই হোক, বা লিটনের নিদিয়াই হোক, প্রেমে পড়ে তারা ভুলেও ভাবে না যে তাদের কাক্সিতজনেরা তাদের প্রেমে পড়বে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সর্বশেষ যে প্রবণতাটি দেখা যায় তা হল, অন্ধত্বকে আক্ষরিক অর্থে না নিয়ে প্রতীকী অর্থে নেয়া, ব্যঙ্গ বা প্যারাবল তৈরির জন্যে। লোকসাহিত্য থেকে চলচ্চিত্র সর্বত্রই এই প্রবণতাটি অন্ধত্বকে মৃত্যু বা নরকযন্ত্রণার প্রতীক হিসেবে দাঁড় করায়, অথবা শারীরিক অন্ধত্বের প্রতীকে মানসিক অন্ধত্বকে মূর্ত করে তোলে। এই ক্যাটাগরিতে পড়বে এইচ জি ওয়েলস-এর ‘দ্য কান্ট্রি অব দ্য ব্লাইন্ড’, পল কোরে’র ‘দ্য প্লানেট অব দ্য ব্লাইন্ড’, মেটারলিংক-এর ‘দ্য ব্লাইন্ড’ ইত্যাদি। এছাড়াও কনরাড আইকেন-এর ছোটগল্প ‘সাইলেন্ট স্নো, সিক্রেট স্নো’-এ অন্ধত্বকে স্কিজোফ্রেনিয়ার রূপক হিসেবে ব্যবহার করতে দেখা গেছে। এ সমস্ত উপস্থাপনায় অন্ধত্বকে দেখানো হয়েছে অজ্ঞতা ও দ্বিধাদ্বন্দ্বের প্রতীকরূপে, স্বাভাবিক ধারণা ও মূল্যবোধের উল্টো অবস্থার প্রতীকরূপে, এবং মৃত্যুর চেয়ে খারাপ বা মৃত্যুসমান অবস্থার প্রতীকরূপে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সাহিত্যের এই সমীক্ষা থেকে কী শিক্ষা নিতে পারি আমরা? কী বলতে চেয়েছে সাহিত্য আদতে? একটা শিক্ষা এটি যে, এই সমস্ত সাহিত্যকর্মের বদৌলতে আমরা এমন একদল তথাকথিত বিশেষজ্ঞ খুঁজে পেয়েছি যারা এই সাহিত্যের জ্ঞান সম্বল করে অন্ধত্ব নিয়ে গবেষণা করে নানান অশ্বডিম্ব প্রসব করছেন। তাদের মতে, অন্ধত্ব কেবল নিছক দৃষ্টিহীনতা নয়, বরং একজন মানুষের সম্পূর্ণ রূপান্তর। কোনো মানুষের কাছে তার অন্ধত্ব নিছক চোখ হারানোর গল্প দিয়েই শেষ হয় না, আসলে সেটি মৃত্যুসমান, সত্তার ওপর এক বিশাল আঘাত। তারা বলেন, চোখ হল সেক্স সিম্বল, তাই অন্ধ মানুষ কখনই পূর্ণ মানুষ নয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;শিরোনামের প্রশ্নে ফিরে যাই: সাহিত্য কি আমাদের বিপক্ষে? এই প্রশ্নের সর্বজনগ্রাহ্য কোনো জবাব নেই। শুধু অতীত আমলের সাহিত্য নিয়ে যদি আলাপ হয়, তাহলে প্রশ্নের জবাব হবে, হ্যাঁ। সমসাময়িক সাহিত্য নিয়ে আলাপ হলে মিশ্রজবাব হবে। অন্ধত্বের ধারণায় অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন সমসাময়িক সাহিত্যে পাওয়া যায়, যদিও বস্তাপচা সাবেকী ধারণাগুলোই এখন পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ। সবচেয়ে পরিতাপের বিষয় এটা যে, সমসাময়িক কালে এই সব ধারণা উৎসাহ পাচ্ছে আমাদের তথাকথিত অন্ধ বিশেষজ্ঞদের উদ্ভট গবেষণা থেকেই। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ভবিষ্যতের দিকে যদি ঐ প্রশ্ন নিয়ে তাকাই, জবাব হবে, ভবিষ্যতের সাহিত্য বর্তমান নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, যেমন বর্তমানের জীবন পারে না ভবিষ্যতের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করতে। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অন্ধ জীবনগুলোকে সাজিয়ে তোলার মাধ্যমে আমরাই ভবিষ্যতের সাহিত্যকে নির্দেশনা দিতে পারব। অন্ধত্ব একটা ট্রাজেডী ততক্ষণই, যতক্ষণ আমরা এই সাহিত্যিক দৃষ্টিভঙ্গিটিকে মান্য করি। আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ একটাই: আমাদের সময়কে অন্ধত্ব নিয়ে সচেতন ও সবিবেক হতে সাহায্য করা। কল্পকাহিনীর ফ্যান্টাসী থেকে মুক্ত হয়ে সেগুলোকে বাস্তবতার নির্যাস দিয়ে ভরে দিতে হবে। তখনই কেবল আমরা সেই সাহিত্যের জন্য রাস্তা তৈরি করতে পারব যা বাস্তবতার সুবাস ধারণ করবে, সত্যের অপলাপ হবে না, সাহিত্য পড়ে আমরা সেখানে নিজেদের খুঁজে পাব।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;(ঈষৎ সংক্ষেপিত)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8711979249453840341-5163254277687115607?l=joyodrath.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://joyodrath.blogspot.com/feeds/5163254277687115607/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8711979249453840341&amp;postID=5163254277687115607&amp;isPopup=true' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/5163254277687115607'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/5163254277687115607'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://joyodrath.blogspot.com/2008/08/blog-post_7624.html' title='সাহিত্য কি আমাদের বিপক্ষে? : অন্ধত্ব ও সাহিত্য নিয়ে কেনেথ জার্নিগান-এর রচনা'/><author><name>সুমন রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16436814493171446627</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SK3K-srIq0I/AAAAAAAAAEk/KiOzO5TiBOk/S220/Sumon9_resize.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8711979249453840341.post-5354962097209945776</id><published>2008-08-26T00:06:00.003+06:00</published><updated>2008-08-26T00:16:24.367+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='অনুবাদ'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='গল্প'/><title type='text'>কৃত্রিম গোলাপগুলো: গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কোয়েজের গল্প</title><content type='html'>&lt;a onblur="try {parent.deselectBloggerImageGracefully();} catch(e) {}" href="http://blog.syracuse.com/shelflife/2008/03/marquez.jpg"&gt;&lt;img style="float:left; margin:0 10px 10px 0;cursor:pointer; cursor:hand;width: 200px;" src="http://blog.syracuse.com/shelflife/2008/03/marquez.jpg" border="0" alt="" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;ভোরের আবছা আলোয় হাতড়ে হাতড়ে বিছানা থেকে নেমে মিনা হাতাছাড়া জামাটি গায়ে দিল যেটি সে গতরাতেই খাটের কাছে ঝুলিয়ে রেখেছিল, এবং জামার আলগা হাতাগুলোকে ট্রাংকের ভেতর গরুখোঁজা করে খুঁজল। তারপর দেয়ালের হুকগুলিতে, দরজার পেছনে ভালমত খুঁজল, যতদূর সম্ভব শব্দ না করে, যাতে ওর সঙ্গে একই ঘরে ঘুমানো অন্ধ দাদীর ঘুম ভেঙ্গে না যায়। ভোরের আবছা অন্ধকার ওর চোখে সয়ে এলে সে দেখল দাদী ইতিমধ্যেই উঠে গেছে। মিনা রান্নাঘরে গেল, জামার হাতাগুলোর কথা দাদীকে জিজ্ঞেস করার জন্য।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘ঐগুলো গোসলখানায়’ অন্ধ দাদী বলল। ‘গতকাল সন্ধ্যায় ধুয়ে দিয়েছি’।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;গোসলখানায় হাতাদুটো পেল সে, কাঠের কিপে ঝুলছে। তখনও ভেজা সপসপে। মিনা রান্নাঘরে গিয়ে হাতাগুলো চুলার আঁচে মেলে দিল। সামনে অন্ধ দাদী তখন কফি বানাচ্ছে, তার ভাবলেশহীন চোখের মনি স্থির হয়ে আছে বারান্দার কোনার দিকে, যেখানে একসারি ফুলদানির মধ্যে ঔষধি গাছ লাগানো।&lt;br /&gt;&lt;span class="fullpost"&gt;&lt;br /&gt;‘আর কনো তুমি আমার জিনিষপত্র ধরবে না’, মিনা বলল। ‘এইসব দিনে সূর্যের আলোর কি কোনো বিশ্বাস আছে?’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অন্ধ মহিলা তার মুখ ঘোরাল, মিনার গলার স্বর লক্ষ্য করে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘ভুলেই গিয়েছিলাম আজ প্রথম শুক্রবার’, বলল অন্ধ দাদী।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কফি তৈরি হল কিনা বোঝার জন্য দাদী কেতলির উপরে মুখ নিয়ে একটা গভীর নিঃশ্বাস নিল, তারপর চুলা থেকে কফি নামিয়ে রাখল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘নিচে একটা কাগজ বিছিয়ে হাতাগুলো শুকাতে দিস, চূলার মেঝে কিন্তু নোংরা’, অন্ধ দাদী বলল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মিনা চুলার মেঝেয় আঙ্গুল বুলিয়ে দেখল। পাথরগুলো নোংরা ঠিক, তবে নোংরাগুলোও শক্ত হয়ে সেঁটে গেছে মেঝেতে। ফলে হাতাগুলো মেঝেয় না ঘষলে সেখান থেকে নোংরা হাতায় লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘হাতাগুলো নোংরা হলে তুমি দায়ী থাকবে’, মিনা ওর দাদীকে বলল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অন্ধ দাদী নিজের জন্য এককাপ কফি ঢালল। ‘তুই রেগে আছিস’, বারান্দার দিকে একটা চেয়ার টেনে নিতে নিতে বলল সে। ‘রাগ নিয়ে প্রার্থনায় গেলে অসম্মান হয়’। কফির কাপটা নিয়ে গোলাপগুলোর সামনের বারান্দার চাতালে বসল দাদী। প্রার্থনা শুরুর তিন নম্বর ঘণ্টাটি বাজলে মিনা চুলার উপর থেকে জামার হাতাগুলো নিয়ে এল এবং তখনও সেগুলো ভেজাই ছিল। সেগুলোই পরল সে। হাতাছাড়া জামা পরে গেলে ফাদার এঞ্জেল ওকে কখনই রুটি দেবেন না। মুখও ধোয় নি সে। তোয়ালে দিয়ে খালি একটু মুছে নিয়েছে। তারপর ঘর থেকে প্রার্থনার বই আর শালটা নিয়ে বেরিয়ে পড়ল রাস্তায়। ফিরে এল মিনিট পনের পর।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘তুই যেতে যেতে যীশূর শিক্ষা পর্যন্ত শেষ হয়ে যাবে’, গোলাপগুলোর উল্টোদিকের চাতালে বসে দাদী বলল।&lt;br /&gt; &lt;br /&gt;মিনা সোজা টয়লেটে ঢুকল। ‘আমি প্রার্থনায় যেতে পারব না’, বলল সে। ‘হাতাগুলো একদম ভেজা আর জামাটাও কোঁচকানো।’ অনুভব করল একটা জিজ্ঞাসু মন তাকে অনসরণ করছে।&lt;br /&gt;‘প্রথম শুক্রবার, আর তুই কিনা প্রার্থনায় যাবি না’, অন্ধ দাদী বিস্মিত।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;টয়লেট থেকে ফিরে মিনা নিজের জন্য এককাপ কফি ঢালল এবং বসল দরজার চুনকাম করা কপাটটার উল্টোদিকে, ওর অন্ধ দাদীর পাশে। কফির কাপে চুমুক দিল না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘কাঁদছিস তুই!’ অন্ধ মহিলাটি আরো আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘কাঁদছি রাগে’, মিনা বলল। আর দাদীর পাশ থেকে উঠে যেতে যেতে বলল, ‘তোমার স্বীকারোক্তি দিতে অবশ্যই চার্চে যাওয়া উচিত, যেহেতু তোমার কারণেই আমার প্রথম-শুক্রবারের প্রার্থনায় যাওয়া হল না।’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অন্ধ দাদী স্থানু হয়ে বসে রইল, মিনা শোবার ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়া পর্যন্ত। তারপর সে হেঁটে গেল বারান্দার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত। মিনার রেখে যাওয়া কফির কাপটা তুলে নেয়ার জন্য সতর্কভাবে একটু একটু করে সামনের দিকে বাঁকা হল সে। কাপটিতে আবার কফি ঢালতে ঢালতে বলে চলল:&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘আল্লা জানেন আমার মন পরিষ্কার ছিল।’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;শোবার ঘর থেকে মিনার মা বেরিয়ে এল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘কার সাথে কথা বলছ তুমি?’ মিনার মা তার অন্ধ মাকে জিজ্ঞেস করে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘কারও সাথেই না। তোকে তো বলেছি আমার মাথা খারাপ হতে চলেছে।’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে মিনা ওর অন্তর্বাসের বোতাম খুলে তিনটা ছোট ছোট চাবি বের করল, সেগুলো সেফটি পিন দিয়ে ওর জামার সাথে আটকানো ছিল। এর একটা দিয়ে আলমারির নিচের ড্রয়ারটা খুলল এবং কাঠের একটা ছোট বাক্স বের করল। তারপর আরেকটি চাবি দিয়ে ঐ বাক্সটির তালা খুলল। বাক্সটির ভেতর একতাড়া রঙিন কাগজে লেখা চিঠি ছিল, রাবার ব্যান্ড দিয়ে বাঁধা। চিঠির তাড়াটা সে জামার ভেতরে লুকিয়ে নিল এবং বাক্সটি যথাস্থানে রেখে ড্রয়ারটায় তালা লাগিয়ে দিল। তারপর চিঠিগুলো টয়লেটে নিয়ে গিয়ে কমোডে ফেলে দিল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘আমি তো ভাবলাম তুই চার্চে চলে গেছিস’, মিনা রান্নাঘরে ঢুকলে ওর মা বলে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘নাহ, সে যেতে পারে নি’ অন্ধ দাদী বলে উঠল। ‘আমি শুক্রবারের কথা ভুলে গিয়ে কাল সন্ধ্যায় ওর জামার হাতাগুলো ধুয়ে দিয়েছিলাম।’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘ওগুলো এখনও ভেজা’, মিনা বিড়বিড় করে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘খুব ধকল গেছে এই কয়দিন’, অন্ধ দাদী বলল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘ইস্টারের জন্য আমায় দেড়শ গোলাপ বানাতে হবে’, মিনা বলল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সকাল সকালই সূর্য তেতে উঠল। সাতটা বাজার আগেই মিনা তাদের বসার ঘরে কৃত্রিম গোলাপের দোকানটা সাজিয়ে ফেলল: গোলাপের পাপড়ি এবং তারভর্তি একটা বাক্স, আরেক বাক্সে ক্রেপ কাগজ, দুইটি কাঁচি, একটা সূতাগুটি এবং এক পাত্র আঠা। এর কিছু পরই ত্রিনিদাদ ঢুকে সেখানে, তার হাতে পেস্টবোর্ডের বাক্সটা ধরা, জিজ্ঞেস করে মিনা কেন প্রার্থনায় যায় নি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘আমার জামার হাতা ছিল না’ মিনা বলে ওর বান্ধবীকে।&lt;br /&gt;‘কারোটা ধার নিতে পারতি’, ত্রিনিদাদ বলে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মিনা একটা চেয়ার টেনে পাপড়ির বাক্সটির কাছে বসে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘আমার দেরি হয়ে গিয়েছিল’, বলে সে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একটা গোলাপ বানানো শেষ করল মিনা। তারপর কাঁচি দিয়ে পাপড়িগুলো ছাঁটার জন্যে বাক্সটি আরো কাছে টেনে আনে। ত্রিনিদাদও ওর বাক্সটি নিচে রেখে মিনার সাথে হাত লাগায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মিনা ত্রিনিদাদের বাক্সটি দেখে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘জুতা কিনলি নাকি?’ জিজ্ঞেস করে সে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘এটার ভেতরে মরা ইঁদুর’, বলে ত্রিনিদাদ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ত্রিনিদাদ ভাল পাপড়ি বানাতে পারে, মিনা তাই সবুজ কাগজ ছেঁদা করে ভেতরে তার ঢুকিয়ে পাপড়ি বসানোর কাঠামো বানাতে থাকল। তারা নিঃশব্দে কাজ করতে থাকল, খেয়ালই করল না সূর্যের আলো এসে কখন পড়েছে বসার ঘরের পারিবারিক ফোটোগ্রাফগুলোর ওপর। কাঠামো বানানো শেষ করে মিনা ত্রিনিদাদের দিকে মুখ ঘোরাল, ওর দৃষ্টিতে কাজবহির্ভূত কিছু একটা ছিল। ত্রিনিদাদ কিন্তু নজরকাড়া নৈপুণ্যের সাথে কাজ চালিয়ে যেতে থাকল, মিনার আঙুলে-ধরা পাপড়িগুলোকে একটুও না নাড়িয়ে। মিনা খেয়াল করল বান্ধবীর পুরুষালি জুতোজোড়া। চোখাচোখি হবে, এমনটা ভেবে ত্রিনিদাদ মাথা তুলল না, নিজের পা যথাসম্ভব পেছনে চেপে রাখল, এবং এভাবে কাজ শেষ করল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘ব্যাপার কি?’ বলল সে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মিনা তার দিকে ঝুঁকে এল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘সে চলে গেছে’, বলল মিনা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ত্রিনিদাদের হাত থেকে কাঁচিটা তার কোলের উপর পড়ে গেল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘না’।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘চলে গেছে সে’, মিনা আবার বলল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;শূন্য দৃষ্টিতে ত্রিনিদাদ মিনার দিকে তাকিয়ে থাকে। ভুরু কোঁচকানো, পুরো দুইভাগে ভাগ হয়ে গেছে ভুরু ওর।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘এখন কী হবে?’ ত্রিনিদাদের প্রশ্ন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মিনা দৃঢ় গলায় উত্তর দিল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘কিছুই না’।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বেলা দশটার আগেই ত্রিনিদাদ বিদায় নিল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ত্রিনিদাদের নৈকট্যের ভারমুক্ত হয়ে মিনা মরা ইঁদুরগুলি টয়লেটে ফেলে দিতে চলল, যাবার আগে দাদীর কাছে একমুহূর্ত থামল। অন্ধ দাদী তখন গোলাপঝোঁপে ছাঁট দিচ্ছিলেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘বাজি ধরতে পারি, এই বাক্সে কী আছে তুমি বলতে পারবে না’, পাশ দিয়ে যেতে যেতে মিনা ওর দাদীকে বলল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাক্সটি নাড়ায় মিনা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অন্ধ মহিলা মনোযোগী হতে শুরু করে। ‘আবার নাড়া দে’, বলল দাদী। মিনা বাক্সের মরা ইঁদুরগুলি আবার নাড়ায়, কিন্তু পরপর তিনবার শুনেও দাদী বুঝতে পারল না বাক্সে কী আছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘গতরাতে চার্চে পাতা-ফাঁদে ধরা-পড়া ইঁদুর এইগুলো’, মিনা বলে দাদীকে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ফিরে আসার সময় সে অন্ধ দাদীর পাশ দিয়ে নিঃশব্দে হেঁটে যায়। কিন্তু দাদী ওকে ঠিকই অনুধাবন করে এবং পেছন পেছন যায়। এভাবে বসার ঘরে, যেখানে মিনা একটা বন্ধ জানলার পাশে বসে গোলাপগুলো তৈরি করছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘মিনা’, অন্ধ দাদী বলেন, ‘সুখী থাকতে চাইলে কখনই অচেনা কারো সামনে স্বীকারোক্তি দিস না’।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কিছু না বলে মিনা তাকিয়ে থাকল ওর দাদীর দিকে। অন্ধ মহিলাটি ঠুকে ঠুকে মিনার সামনের চেয়ারে গিয়ে বসল এবং ওর কাজে হাত লাগাতে উদ্যোগী হল। কিন্তু মিনা তা হতে দিল না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘তোকে অস্থির লাগছে’, অন্ধ দাদী বলে। ‘প্রার্থনায় যাস নি কেন?’ জিজ্ঞেস করে সে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘এটা তুমিই ভাল জান।’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘এটা যদি জামার হাতা ভেজা থাকার কারণে হত, তাহলে তুই ঘরের বাইরে যেতে দ্বিধা করতিস না’, অন্ধ মহিলা বলতে থাকল, ‘কেউ একজন তোর জন্যে পথে অপেক্ষা করছিল, যার কোন বিষয় তোকে ছন্নছাড়া করে দিয়েছে আজ।’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মিনা দাদীর অন্ধ চোখের সামনে হাত দোলাল, মনে হল যেন মুছে দিচ্ছে কোনো অদৃশ্য কাঁচ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘তুমি একটা ডাইনী’, বলল মিনা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘সকালে দু’বার টয়লেটে গেছিস’, অন্ধ দাদী বলে। ‘তুই একবারের বেশি কখনই যাস না’।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মিনা গোলাপ বানাতেই থাকল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘আলমারির ড্রয়ারে কী রেখেছিস, দেখাবি আমায়?’ দাদী বলে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মিনা ধীরেসুস্থে ওর অন্তর্বাসের ভেতর থেকে চাবি তিনটা বের করে এবং দাদীর হাতে দেয়। দিয়ে দাদীর হাতের মুঠো সজোরে বন্ধ করে দেয়।‘যাও, নিজের চোখে দেখে আসো’, বলে মিনা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘আমার চোখ তো টয়লেটের নিচে দেখতে পায় না’।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মিনা চোখ তুলল এবং তোলার পর ওর একটা অদ্ভূত অনুভূতি হল। মিনা অনুভব করে, অন্ধ মহিলাটি জানে যে এই মুহূর্তে মিনা তার দিকে তাকিয়ে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘টয়লেটের নিচে গিয়ে দেখ না কেন, আমার বিষয়ে যখন তোমার এত আগ্রহ’, বলে মিনা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দাদী এই কথায় আমল দিল না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘রাতে শুয়ে শুয়ে ভোর পর্যন্ত কী যেন লিখিস তুই’, বলে দাদী।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘তুমি তো বাতি নিভিয়েই দাও’, মিনা বলে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘আর সাথেসাথেই তুই হারিক্যানটা জ্বালাস’, অন্ধ দাদী বলে। ‘হারিক্যানের আলোয় সারারাত হৃদয়ের গতির সাথে লিখে যাস তুই’।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মিনা শান্ত থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করল। ‘চমৎকার’, মাথা না তুলেই বলল সে, ‘বুঝলাম তাইই করি আমি। তাতে হয়েছে কি?’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘কিছুই না’ অন্ধ দাদী নিঃশ্বাস নেন। ‘শুধু তোর প্রথম-শুক্রবারের প্রার্থনা মিস হয়েছে।’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দুইহাতে মিনা সুতার গুটি, কাঁচি, আর শেষ-না-হওয়া কাজগুলো নিয়ে উঠে পড়ে। সবকিছু সে বাক্সে রেখে সে অন্ধ মহিলাটির মুখোমুখি হয়। ‘টয়লেটে আমি কেন গিয়েছিলাম, শুনতে চাও?’ জিজ্ঞেস করে মিনা। দু’জনেই একটা টানটান অবস্থার মধ্যে কিছুণ থাকে, যতণ না মিনা নিজেই ওর করা প্রশ্নটির জবাব দেয়:&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘হাগতে গিয়েছিলাম’।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অন্ধ মহিলা চাবি তিনটা বাক্সের ভেতর ছুঁড়ে দেয়। ‘এটা একটা ভাল অজুহাত হতে পারত’, বিড়বিড় করতে করতে দাদী রান্নাঘরের দিকে এগোয়। ‘আমি এটা বিশ্বাস করতাম যদি এই প্রথমবার তোকে আমি কসম কাটতে শুনতাম’। বারান্দার উল্টোদিক থেকে মিনার মা হেঁটে আসে, হাতে অনেকগুলো কাঁটাওলা গোলাপ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘কী কথা হচ্ছে?’ মিনার মা জিজ্ঞেস করে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘আমি একটা পাগল’, মিনার অন্ধ দাদী এবার নিজের মেয়ের উদ্দেশ্যে বলে। ‘কিন্তু যতক্ষণ না পাথর ছোঁড়া শুরু করি, ততদিন পর্যন্ত কিন্তু তোরা আমায় পাগলা গারদে পাঠানোর কথা ভাবতে পারবি না’।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8711979249453840341-5354962097209945776?l=joyodrath.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://joyodrath.blogspot.com/feeds/5354962097209945776/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8711979249453840341&amp;postID=5354962097209945776&amp;isPopup=true' title='2টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/5354962097209945776'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/5354962097209945776'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://joyodrath.blogspot.com/2008/08/blog-post_26.html' title='কৃত্রিম গোলাপগুলো: গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কোয়েজের গল্প'/><author><name>সুমন রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16436814493171446627</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SK3K-srIq0I/AAAAAAAAAEk/KiOzO5TiBOk/S220/Sumon9_resize.jpg'/></author><thr:total>2</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8711979249453840341.post-1623920589992381492</id><published>2008-08-24T15:53:00.006+06:00</published><updated>2008-08-24T16:04:54.278+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='নিম্নবর্গীয়পনা'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='জার্নাল'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='&quot;কবিসভা&quot; থেকে'/><title type='text'>সাবঅল্টার্ন-লজিকো-লোয়ারমিডলক্লাশ</title><content type='html'>"What can be said can be said clearly; what we cannot talk about we must pass over  in silence."&lt;br /&gt;Wittgenstein, &lt;span style="font-style:italic;"&gt;Tractatus Logico Philosophicus&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কবিসভায় আমরা ভার্চুয়াল ভার্চুয়াল খেলি। তবু গতরের শান্তি খুঁজতে মাঝে মাঝে মন শাহবাগে ধায়।&lt;br /&gt;আজকেও ধাইলো। গিয়া লিপুর সাথে কথা। লিপু মানে ইফতেখার মাহমুদ, কবিসভার প্রায়-সাইলেন্ট কমরেড। তার সাথে অনেক আলাপ। মধ্যবিত্তের সাবঅল্টার্ন সাহিত্য লৈয়া। তখন মানস আসলেন। রাইসু আসলেন। আবীর আসলেন। সাবঅল্টার্ন-রাও আসলেন। ভার্চুয়ালি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তারপর হ্যালো করলাম আহমেদ নকীবকে। তিনিও কবিসভার নীরব গ্রাহক। জানাইলেন, সাবঅল্টার্ন প্রণোদনা নিয়া আমার পজিশন তার পছন্দ হৈছে। তবু যেন একটু ধোঁয়াশা আছে। কৈলেন, আচ্ছা আমি ঢাকাবাসী মানুষ কবিতায় যদি হলুদ ট্যাক্সি উঠায়া দেই.....&lt;br /&gt;&lt;br /&gt; - সেইটা এলিটিজম হয়া যায় কি না?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এইবার ফতোয়া দিবার পালা আমার। জোরেশোরে কৈলাম, না। সেইটা এলিটিজম হয় না। হয় যখন আপনে ঢাকাবাসী হৈয়া না-দেখা গেরাম নিয়া পাতলা দরদে মাতেন। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কয় দিন আগে এক দৈনিকে আমি গেরামবর্তী একটা গল্প উল্টাইতেছিলাম। সেইখানে দেখলাম কিভাবে বাঁশের টাট্টি (হাগুখানা)তে যাইতে হয় এরকম একটা সহানুভূতিশীল ম্যানুয়াল আছে। সেইটা গল্পের বিষয়বস্তু ছিল না। তবু লেখক দিলেন। আটষট্টি হাজার গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে!&lt;br /&gt;&lt;span class="fullpost"&gt;&lt;br /&gt;আমি ভাবতেছিলাম, ঐ লেখক যদি উনার ফ্যাটবাড়ির বাথরুমে যাওয়ার ঘটনা লেখেন, তাইলে কি তিনি ক্যামনে ফ্ল্যাশ করা লাগে সেইটা লেখতেন?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;হয়ত লেখতেন না। কারণ ঐটাতো তিনি জানেন। ডেইলি যাওয়া-আসা করেনও। তাই লেখনের দরকার নাই। এগজটিক না হৈলে লেইখ্যা কি কোনো আরাম আছে!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তাই গেরাম নিয়া লেখছেন। কারণ গেরাম এগজটিক। মধ্যবিত্ত জাতির কাছে গেরাম প্রমোট করা লাগে। গেরাম থিকা মধ্যবিত্ত লেখকের দূরত্বও প্রমাণ করা লাগে। এইটা এলিটিজম।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সুতরাং বাঁশের টাট্টির ভিতরেও এলিটিজমের ভুত থাকতে পারে। আবার হলুদ ট্যাক্সির ভিতরে নাও থাকতে পারে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;শুইনা আহমেদ নকীবের শান্তি লাগল। কৈয়া আমার তো আরো বেশি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এইবার মানস থিকা একটা রেফারেন্স দেই। তিনি লেখছেন: &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-style:italic;"&gt;আমি এখনো ঠাহর করে উঠতে পারিনি যে সাবঅল্টার্ন গল্পরীতি বলতে সুমন রহমান যা ব্যাখ্যা করেছেন, তা আমি স্পষ্ট বুঝতে পেরেছি কিনা; কিংবা সেটাকেই আমার অনুধাবনের পরিকাঠামো বিবেচনা করে আগাতে চাই কিনা।  &lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিবেচনায় আনেন কি ফালায়া দেন, সমস্যা নাই মানস। তার আগে চলেন একটু স্পষ্ট কৈরা লই। আপনেও বোঝেন। আমিও বুঝি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মাহবুব পিয়ালের কাছে কয় দিন আগে একদল লেখক এসেছিলেন। উনারা কলকাতার। দলিত সাহিত্য করার মানসে ধোপদূরস্ত জীবন ছাইড়া অতি কষ্টে গ্রামে বাস করতেছেন (স্যাক্রিফাইস!)। অদ্বৈত মল্ল বর্মণ উনাদের আইডল। দলিত সাহিত্য বলতে উনারা নিম্নবিত্তের জন্য এবং নিম্নবিত্তের আশা-আকাঙ্ক্ষা লয়া সাহিত্য বুঝান। সেইকথা শুইনা আমি ভুত দেখলাম। দলিত সাহিত্যের ভুত।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এইত সেদিন পিপলস এমপাওয়ারমেন্ট ট্রাস্ট নামে একটা সংস্থা শ্রমজীবী লেখকদের একটা সম্মেলন করল ঢাকায়। সেই উপলক্ষে একটা ম্যাগাজিনও বাইর করল। বিষয়টা আমার খুব মনেও ধরল। আমি খুশিমনে ম্যাগাজিনটা উল্টাইলাম। সেইখানে প্রথমেই দেখলাম, শ্রেণীসংগ্রাম নিয়া একটা বেশ ভারি প্রবন্ধ ঘরানার লেখা। লেখকের পরিচয় আছে, তিনি রিক্সা চালান। আমি চমকাইলাম। একজন রিক্সাওয়ালা প্রাবন্ধিক। তার ওপরে বামপন্থী।  ঘটনা তো গুরুতর! তারপর সন্ধান কৈরা জানা গেল যে, উনার বামপন্থী ওরিয়েন্টেশনের ইতিহাস রিক্সা চালানের ইতিহাস থিকাও অনেক লম্বা। ভাবলাম উনার পাইচার্ট কেমন হৈতে পারে ? কত পার্সেন্ট রিক্সাওয়ালা তিনি, আর কত পার্সেন্ট বামপন্থী?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এইটা মনে হয় দলিত সাহিত্যের চেহারা, মানস। আপনে যেমন সেইখানে নাই, আমিও নাই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এইবার চলেন ভিটগেনস্টাইন-স্টাইলে খোলাসা কৈরা কৈ। আমার পজিশন কিছু প্রিমাইজের ওপর দাঁড়ানো। যেমন:&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১. আমার বিবেচনায় সাহিত্য একটি মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বিনোদন বা সৃষ্টিমাধ্যম। সাহিত্যের লেখক ও পাঠক উভয়ই মূলত মধ্যবিত্ত। লেখকের বিত্ত-প্রমোশন হৈলে তিনি আর সাহিত্য করেন না, আর বিত্ত-ডিমোশন হৈলে কিছুদিন রক্তবমি করেন, তারপর আস্তে আস্তে নদী নিস্তরঙ্গ হয়া যায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১.১ যেসব বিত্তশালী লোকদের আপনেরা লেখক হিসেবে দেখেন, উনাদের পয়সা থাকলেও উচ্চবিত্তের সংস্কৃতি নাই। কালচারালি উনারা মধ্যবিত্ত।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১.২ আবার যেনারা বস্তিতে থাকেন আর সাহিত্য করেন, আকারে বা প্রকারে তেনারা কোনোদিনই মধ্যবিত্তসীমানার বাইরে যাইতে চান নাই। আমি নিজে দেখছি, বস্তির মধ্যেও উনারা আপার কাশ তৈয়ার কৈরা রাখেন। ঘরে পর্দা টাঙ্গান।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;২. এই আমাদের শ্রেণী। আমরা এই শ্রেণীমধ্যে গুরুসঙ্গ করি।  তাহাদের কথা ভাবি। যাহারা ছোটলোক। গরীব। গ্রামে থাকে। বাঁশের টাট্টিতে হাগে। এই টাট্টি লৈয়া আমাদের মন সমব্যথায় ভৈরা ওঠে। অথচ টাট্টি থিকা বাইর হৈয়া গরীবের কত আরাম! আরাম নাই খালি আমাদের বিবেকের!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;৩. এইটা হৈল বাংলাদেশের প্রগ্রেসিভ মধ্যবিত্ত লেখকের ক্যাসিক চেহারা। উনারা ভাবাদর্শের সন্তান। উনাদের শৈশব নীতিকথা-শাসিত।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;৪. তাই, রাইসুরে আমি কৈতেছিলাম নিম্নমধ্যবিত্ত হওনের সাহিত্যিক সুবিধার কথা। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;৪.১ আপওয়ার্ড মবিলিটি না থাকায় তাদের ভাবাদর্শের যন্ত্রণা খুব একটা পোহাইতে হয় না। পরন্তু, নীতিশাস্ত্রও তাদের জন্য ক্যারিয়ার হিসাবে ভাল দাঁড়ায় না। ফলে নীতিশাস্ত্র লংঘনের প্রশিণও লাগে না তার।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;৪.২ মধ্যবিত্ত হৈয়াও সাবঅল্টার্ন শ্রেণীর নিকটতম দূরত্বে থাকে সে।&lt;br /&gt;৪.৩ শ্রেণীচরিত্র লোপ পাইবার ভয় আছে তার। প্রগ্রেসিভ মধ্যবিত্ত লেখক নিজেরে ‘গ্রামবর্তী’ হিসেবে সখের ভাবনা ভাবতে পারে, কিন্তু নিম্নমধ্যবিত্ত আরিক অর্থেই সাবঅল্টার্ন শ্রেণীতে পরিণত হৈবার ঝুঁকি মধ্যে থাকে। তাই সে আপন শ্রেণীর মিথলজি তৈয়ার করে। সেইখানে সাবঅল্টার্ন টেস্টের জন্য অনেক স্পেস রাখা লাগে তার। কিনশীপ নেটওয়ার্ক।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;৪.৪ সাবঅল্টার্নের সাথে নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণীর লেখক যতটুকু দূরত্ব এবং নৈকট্য রক্ষা করেন, সেইটাই নতুন সাহিত্যের বড় প্লাসপয়েন্ট। তার নৈকট্য ভাবাদর্শজাত নয়, বরং অভিজ্ঞতাবলয়ের, আর দূরত্ব এলিটিজমের নয়,  স্পেসের।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;৪.৫ এই প্রেক্ষাপটে নন-এলিটিস্ট সাহিত্যের গ্যারান্টি কতটুকু? আমার মনে হয় এলিটিজমের ট্র্যাপ এইখানেও আছে, যেহেতু সে (নিম্ন)মধ্যবিত্ত। তবে সাহিত্যে এলিটিজম বিষয়টা আমার কাছে হার্ডল রেসের মত লাগে। দৌড়ানোর সময় যদি আপনের হার্ডল পইড়া যায়, তাইলে আপনি ডিসকোয়ালিফাই করেন না। কিন্তু পিছায়া যান।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সংস্কৃতি অধ্যয়নশাস্ত্র নয়, বা সাংস্কৃতিক ইন্ডাস্ট্রির উৎপাদ নয়, বা অন্য কোনোরকম উৎপাতও নয়, আমি কৈছিলাম এইরকম সাদামাটা কয়েকটা কথা। ইহাদের নন্দনতাত্ত্বিক লেভেলিং আমার সাধ্যের/ইচ্ছার বাইরে, পদে পদে হঠকারী হৈয়া যাওনের ভয় তো আছেই। আমি শুধু ওয়ার্কিং ম্যানুয়াল খুঁজতেছি। বাঁশের টাট্টিতে হাগার ম্যানুয়াল না-বানাইবার সাহিত্য যাতে করতে পারি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আসেন, এই প্রিমাইজগুলারে চ্যালেঞ্জ করা যাক।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ঢাকা, ১২/৮/৫&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8711979249453840341-1623920589992381492?l=joyodrath.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://joyodrath.blogspot.com/feeds/1623920589992381492/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8711979249453840341&amp;postID=1623920589992381492&amp;isPopup=true' title='4টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/1623920589992381492'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/1623920589992381492'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://joyodrath.blogspot.com/2008/08/blog-post_9618.html' title='সাবঅল্টার্ন-লজিকো-লোয়ারমিডলক্লাশ'/><author><name>সুমন রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16436814493171446627</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SK3K-srIq0I/AAAAAAAAAEk/KiOzO5TiBOk/S220/Sumon9_resize.jpg'/></author><thr:total>4</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8711979249453840341.post-765758267449504777</id><published>2008-08-24T02:12:00.005+06:00</published><updated>2008-08-24T23:59:28.329+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='নিম্নবর্গীয়পনা'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='জার্নাল'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='&quot;কবিসভা&quot; থেকে'/><title type='text'>সাবঅল্টার্ন প্রণোদনা</title><content type='html'>&lt;a onblur="try {parent.deselectBloggerImageGracefully();} catch(e) {}" href="http://www.rll.jp/hood/tee/img/subaltern_02.jpg"&gt;&lt;img style="float:left; margin:0 10px 10px 0;cursor:pointer; cursor:hand;width: 200px;" src="http://www.rll.jp/hood/tee/img/subaltern_02.jpg" border="0" alt="" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;কথা হৈতেছিল কিছু সাম্প্রতিক গল্পপাঠের অভিজ্ঞতা সামনে রাইখা। ‘সাবঅল্টার্ন’ নামে একটা মনোভাবের কথাও হৈতেছিল। মানিক বন্দোপাধ্যায় বা তারাশংকরকে সামনে রাখা হয় নাই। তবে সাবঅল্টার্ন মনোভাবের বার্তা লৈয়া উনাদের সামনে একদিন খাড়াইতে হৈতই। আবীর সেই সুযোগ কৈরা দিলেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একটা ভূমিকা দেই। কয়দিন আগে একটা লেখা পড়লাম। নাম “অন্ধত্ব : সাহিত্য কি আমাদের বিপক্ষে” এই লেখার লেখক কেনেথ জার্নিগান নিজে জন্মান্ধ। তিনি আমেরিকার ন্যাশনাল ফেডারেশন ফর দ্য ব্লাইন্ড-এর পরিচালক। এই অন্ধ লেখক তার ইংরেজি ও ফরাসী সাহিত্যপাঠের অভিজ্ঞতা থিকা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাইছেন যে, অন্ধত্ব নিয়া এ যাবত যত সাহিত্য হৈছে, এর প্রায় সব-ই অন্ধত্বের মূল জায়গাটারে ধরতে পারে নাই। ভুল ব্যাখ্যা করছে। এমন কি কবি জন মিল্টনও, যিনি নিজেও অন্ধ হৈয়া গেছিলেন!&lt;br /&gt;&lt;span class="fullpost"&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এইখানে, কেনেথ নিজে অন্ধ এবং সাহিত্য-পাঠক হওয়ায় আমাদের পক্ষে অন্ধত্ব নিয়া সাহিত্যের প্রকৃত  কৃতিত্ব সম্পর্কে জানা সম্ভব হৈল। এখন মানিক তার ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ তে কতটুকু ‘জাস্টিস’ করছেন, সেইটার সাক্ষ্য দিতে পারত পদ্মা নদীর মাঝিরাই। কিন্তু উনারা কেউ মানিকের উপন্যাস পড়েন নাই। বা পড়লেও সেইটা নিয়া কথাবার্তা বলেন নাই। আর আমরা যারা নানান কৌশলবিচারে একটা উপন্যাসের উৎকর্ষ বিচার করি, তাদের থিকা মানিক পদ্মা নদীর মাঝিমাল্লার জীবন হয়তো বেশিই দেখছেন। ফলে, তিনি তার অভিজ্ঞতা এবং তার দেখা জনগোষ্ঠীর ওপর তিনি কতখানি ‘ন্যায়পরায়ণ ব্যবহার’ করেছেন, সেইটা যাচাইয়ের মতা শ্রেণীগতভাবে আমাদের নাই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কিন্তু যখন মালোপাড়ার ছেলে অদ্বৈত ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ লেখেন, তখন আমরা কিন্তু ‘আহরিত’ অভিজ্ঞতার ফাঁকফোকড়গুলো ধরতে পারি। তবে মানিক বা তারাশংকর নিশ্চয়ই তিনদিনের আর্থসামাজিক সমীক্ষা কৈরা আইসা গল্প লেখতে বসেন নাই। কিন্তু তারপরও মানিকের পক্ষে অদ্বৈতমল্ল বর্মনের জায়গায় পৌঁছানো সম্ভব ছিল না। মানিকের পদ্মা নদীর মাঝি শক্তিশালী উপন্যাস, কিন্তু তিতাসের মূল শক্তি তার সাবঅল্টার্নিটি। সেইটা আমরা বুঝি, যখন আমরা এই দুই উপন্যাসেরে পাশাপাশি রাইখা পড়ি। সবক্ষেত্রে তো এইরকম সুযোগ হয় না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মানিক বা তারাশংকর উঁচুমাপের লেখক। তারা (বিশেষ কৈরা তারাশংকর) অন্য শ্রেণীর জীবন বর্ণনায় প্রায় কখনই এলিটিস্ট হন নাই। কিন্তু তারা (বিশেষ কৈরা মানিক) খুব সাবঅল্টার্ন-ও নন। তারাশংকরের বিষয়টা আমার কাছে একটু ভিন্ন লাগে। তিনি যখন ‘গণদেবতা’ বা ‘পঞ্চগ্রাম’ লেখেন, তখন এসব উপন্যাসের কেন্দ্রে তিনি যে চরিত্রটাকে রাখেন সেইটা কিন্তু একটা শিক্ষিত নিম্নমধ্যবিত্ত চরিত্র। এই স্পেসটা থাকায় তারাশংকর ঐ চরিত্রটির মধ্য দিয়া নিজের উপন্যাসে সশরীরে উপস্থিত থাকার সুযোগ পান। বা স্পেসটা তৈয়ার কৈরা রাখেন। এইটা কিন্তু সাবঅল্টার্ন প্রণোদনা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমি মনে করি একজন লেখক যে কোনো শ্রেণীর কথাই লিখতে পারেন। কিন্তু তিনি যেই শ্রেণীতে অবস্থান করেন না, সেই শ্রেণীর কথা জানার একটা জ্ঞানতত্ত্বীয় সীমাবদ্ধতা তো তার আছেই। সেইটাকে ডিঙায়া যাওয়া হয়ত সম্ভব না, তবে বিপুল অধ্যবসায় থাকলে হয়ত একটু সুবাস অন্তত পাওয়া সম্ভব। মানিকের বা তারাশংকরের সেই অধ্যবসায় ছিল। অনেকেরই আছে বা ছিল। আবার অনেকেরই নাই বা ছিল না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সাবঅল্টার্ন সাহিত্য সেই অধ্যবসায় নিয়া আগায় না। আমি যখন লিখি, আমি আমার চারপাশ এবং সেই প্রেক্ষাপটে আমার অবস্থান লৈয়াই লিখি। সাবঅল্টার্ন মনোভাবের গল্প যিনি বলেন, তার পজিশন কখনই উপরে বা নিচে হয় না, তিনি বিষয়ের দিকে সোজাসুজি তাকাইতে পারেন। আর যাদের এইটা থাকে না, তারা সেই বিষয়ের অনুপস্থিতি ঢাকতে ক্যানভাসের ওপর মহত্ত্ব ঢালেন, যাতে বিমূঢ় পাঠক চুপ মাইরা যান। এইটা ছিল আমার সাম্প্রতিক গল্প পাঠের অনুভূতি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সাবঅল্টার্ন মনোভাব লয়া আরো আলোচনা হৈতেই পারে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;৩০ জুলাই ২০০৫&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8711979249453840341-765758267449504777?l=joyodrath.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://joyodrath.blogspot.com/feeds/765758267449504777/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8711979249453840341&amp;postID=765758267449504777&amp;isPopup=true' title='1টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/765758267449504777'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/765758267449504777'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://joyodrath.blogspot.com/2008/08/blog-post_9455.html' title='সাবঅল্টার্ন প্রণোদনা'/><author><name>সুমন রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16436814493171446627</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SK3K-srIq0I/AAAAAAAAAEk/KiOzO5TiBOk/S220/Sumon9_resize.jpg'/></author><thr:total>1</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8711979249453840341.post-4651717046389147258</id><published>2008-08-24T02:01:00.005+06:00</published><updated>2008-08-24T16:03:53.184+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='নিম্নবর্গীয়পনা'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='জার্নাল'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='&quot;কবিসভা&quot; থেকে'/><title type='text'>সখী এলিটিজম কারে কয়?</title><content type='html'>Elitism kake bole, ami jani naa -- dhonira doridro loker 'taste' ke opochhondo korle take'i ki elitism bole?&lt;br /&gt;....&lt;br /&gt;Elitism kake bole ? ....income inequality'r birud'dhe lorai korte giye ki class er differential preference er birud'dhe lorai korte hoy ? Utopia te ki manushe manushe pochhondo opochhondo bhed thakte parbe&lt;br /&gt;na ? Polash Rizia othoba Momtaz ke ki amake pochhondo kortei hobe ? Naa kole ki ami 'kharap manush' hoye jabo ? &lt;br /&gt;       (Abeer-er chithi theke)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“তোমরা যে বলো দিকস রজনী ভালোবাসা ভালোবাসা, সখী ভালোবাসা কারে কয়”&lt;br /&gt;   (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান থিকা)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রবীন্দ্রনাথ জিগাইছেন ভালোবাসা কারে কয়। আর এদিকে আবীর জিগাইতেছেন এলিটিজম কারে কয়। ভালোবাসা কারে কয় এইটা রবীন্দ্রনাথ হাড়ে হাড়ে বোঝেন, তাই একটা আপাতসরল জিজ্ঞাসা নিজের ওপর ন্যস্ত করছেন। মধ্যবিত্তরে এলিটিজম বোঝানো আর দাদারে ..... শিখানো কি একরকম পণ্ডশ্রম হৈতেছে না? &lt;br /&gt;&lt;span class="fullpost"&gt;&lt;br /&gt;আজকে আবার আরেক কাণ্ড হৈল। ডিজ্যাবিলিটি’র ওপর দিনব্যাপী একটা সেমিনারে বৈসা থাকতে হৈছিল। সেইখানে শুনতেছিলাম অটিজম (Autism) এর ওপর লেকচার আর ভাবতেছিলাম এলিটিজম নিয়া। অটিজম আর এলিটিজম মিল্যামিশ্যা সন্ধ্যাবেলা আমি হঠাৎ চলৎশক্তিহীন বোধ করলাম। মনে হৈল আমার পেশি যেন সংবেদনশীলতা হারায়া ফেলতেছে। অটিজম থিকা সাবধান, ভাই আবীর!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কেউ যখন কোনো সুবিধাজনক অবস্থানে থাইকা ডিসএডভান্টেজড কোনো শ্রেণীর রূচিকে নির্বাচন/পছন্দ করে, যে পছন্দের মধ্যে অনুমোদন ও করুণার মিশাল থাকে, কখনো প্রমোশনের প্রণোদনা থাকে, কখনো মতাদর্শের প্রেরণা ’বড়’ হয়া থাকে ....তখন সেই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা মানুষটার নির্বাচন/পছন্দের মধ্যে এলিটিজমের ঝুঁকি থাকে। এইটা একটা মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সিনড্রম, বাই ডিফল্ট। তবে, প্রত্যেকটা বেটার-অফ শ্রেণীর রূচি-ই তার চেয়ে ওরস-অফ (worse-off) শ্রেণীর রূচির কাছে, কখনো কখনো, মতার সহজাত গরমে, এলিটিস্ট হয়া উঠতে পারে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আর প্রত্যাখ্যান কিন্তু একটা অনেক কম বিপদজনক অবস্থান। প্রত্যাখ্যানকারীর জন্যও, আবার প্রত্যাখ্যাতের জন্যও। এইখানে আধা গ্রহণবর্জনের সমস্যা তৈয়ার হয় না। মধ্যবিত্ত হৈয়া মমতাজরে অপছন্দ করা একটা স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। এইখানে কোনোই সমস্যা নাই। কিন্তু যদি আপনের পছন্দ হয়, দুইবার ভাবেন, দেখেন রেফারেন্স কোনখানে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আয়-বৈষম্যের বিরূদ্ধে সমাজে কারে লড়াই করতে দেখলেন? আমি তো বছর বছর জিনি (Gini Index) বাইড়া যাইতেই দেখি। ভাইবা দেখেন তো,  ভিন্নতা বা বৈচিত্র্য বিষয়ে পুঁজিবাদ আর সাম্যবাদের পজিশনে কতটুকু ফারাক আছে? কিন্তু তারপরেও সাবঅল্টার্ন-এর রূচি কখনো কখনো ড্রাইভিং সিটে বৈসা পড়ে। যেমন, একটা উদাহরণ দিই: বাংলাদেশের অডিও ক্যাসেট ব্যবসা এখন গরিব মানুষের রূচি দিয়া নিয়ন্ত্রিত হৈতেছে। ফলে এখন শাকিলা জাফর থিকা মমতাজ অনেক বড় প্রেফারেন্স, গিটার ফালায়া হাসান দোতারা হাতে লৈছে, জেমসের কান্ধে গামছা উঠছে, জিন্স খুইলা আমাদের বিপ্লব গেরুয়া পৈরা মমতাজের লগে ডুয়েট অ্যালবাম করতেছে, রিক্সাওলা আকবর আইসা হিট হয়া যাইতেছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এইভাবে, সমাজের একটা সাইলেন্ট এবং এক্সক্লুডেড শ্রেণী নিজেরা নিজেদের বিনোদন ঠিক কৈরা নিছে, সেইখানে তাদের পপুলেশন তাদের শক্তি হৈয়া দাঁড়াইছে...আর তারা মধ্যবিত্তের হাত থিকা অডিও ক্যাসেট ইন্ডাস্ট্রি নিজেদের দখলে নিয়া নিছে। এই কারণেই আমারে মমতাজ লৈয়া থিসিস লেখতে হয়, নির্মলেন্দু গুণের কানে মমতাজের গান পৌঁছায়, আর মৌসুমী কাদের-এর বাসায় মমতাজের ক্যাসেটের কালেকশন তৈয়ার হৈতে থাকে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মধ্যবিত্ত হিসাবে নিম্নবর্গীয় সংস্কৃতির ধারেকাছে যাওয়ার যে কৃতিত্ব আমরা নিতেছি, এইগুলাই সেইখানে ইনভিজিবল ফ্যাক্টর। আসেন, এইগুলারে উদঘাটন কৈরা আমাদের ‘কৃতিত্বরে’ চ্যালেঞ্জ কৈরা দেখি, কতদূর উনি অম্লান থাকতে পারেন!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ঢাকা, ০৫/০৮/০৫&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8711979249453840341-4651717046389147258?l=joyodrath.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://joyodrath.blogspot.com/feeds/4651717046389147258/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8711979249453840341&amp;postID=4651717046389147258&amp;isPopup=true' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/4651717046389147258'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/4651717046389147258'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://joyodrath.blogspot.com/2008/08/blog-post_24.html' title='সখী এলিটিজম কারে কয়?'/><author><name>সুমন রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16436814493171446627</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SK3K-srIq0I/AAAAAAAAAEk/KiOzO5TiBOk/S220/Sumon9_resize.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8711979249453840341.post-5367122192398443024</id><published>2008-08-23T13:05:00.005+06:00</published><updated>2008-08-26T11:09:25.677+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='নিজের চরকায়'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='&quot;কবিসভা&quot; থেকে'/><title type='text'>"সুমন রহমান নাকি সিঙ্গারের গল্প! কার আয়না কে?": রাহমান নাসির উদ্দিনের আলোচনা</title><content type='html'>&lt;span style="font-style:italic;"&gt;[আমার অনুবাদে আইজাক সিঙ্গারের "আয়না" গল্পটি ২০০৬ সালে "কবিসভা"য় সঞ্চালিত হবার পর রাহমান নাসির উদ্দিন "কবিসভা"তে নিম্নোক্ত পাঠপ্রতিক্রিয়া পাঠান।]&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জনাব সুমন রহমান,&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অশেষ শুকরিয়া আপনার একটি অনুবাদ গল্প পাঠ করবার-অনুবাদ করবার জন্য সাধারণ বা অসাধারণ কোনো শুকরিয়াই এখানে যথার্থ নয়-মওকা দেবার জন্য। সনাতন ধন্যবাদের বহরে বাড়তি একটা ‘ধন্যবাদ’ যোগ কিংবা বিয়োগে খুব হেরফের হয় না। তাই, ‘ধন্যবাদ’ দিলাম না। কিন্তু আপনার লেখার তারিফ না করার কোনো কুলকিনারা নাই। আপনার অনুবাদ গল্পটি মনোযোগ দিয়ে পড়লাম। এটা কি সিঙ্গারের নাকি সুমন রহমানের গল্প; পাঠের আগায় আমার মাথায় এটা থাকলেও পাঠকালে, মাঝখানে এবং গোড়ায় গিয়ে আগার চেতনা হারিয়ে ফেলি। আগা-গোড়া আমার ভাবনাগুলো আর এক থাকে না। মন্ত্রমুগ্ধ-পাঠ যাকে বলে। যদি শুরুতেই সিঙ্গারের একটা ছবি না ছাপানো থাকতো, তবে পাঠের অব্যাহত ভালোলাগার মধ্যে ‘এটি একটি অনুবাদ গল্প...অনুবাদ গল্প...’ জাতীয় আলগা খুঁতখুঁতানি এটা অস্বস্তিকর ভাব থাকতো না। কেননা, পাঠকালে মনেই হয় নাই এটি একটি অনুবাদ গল্প। চিত্রকল্পগুলো অসাধারণ, তবে সাধারণ অসাধারণ নয়। শব্দের যে প্রকৌশল আপনি সু(স্ব)কৌশলে এখানে নির্মিতি দিয়েছেন, তাকে ‘অসাধারণ’ নামক একটি শব্দ দিয়ে শেষ-সত্যিকার অশেষ বলে-করা যায় না। আরো অসাধারণ তার বিন্যাস এবং বিস্তার। কয়েক পশলা উদ্ধৃতি দিই...:&lt;br /&gt;&lt;span class="fullpost"&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“...যা কিছু গোপন তার প্রকাশ্য হওয়া লাগবে, প্রতিটা গহীন ভাবনার ব্যক্ত হওয়া দরকার, প্রতিটা প্রেমেই আছে প্রতারণার আকাক্সা, যা কিছু পবিত্র তারই মর্যাদাহানি হওয়া প্রয়োজন। দুনিয়া ও পরকালের চক্করে যেকোনো সুন্দর শুরুর-ই খারাপ ধরনের সমাপ্তি হৈয়া যাইতে পারে...”&lt;br /&gt; &lt;br /&gt;“জ্ঞান কখনই পয়লা বেহেশতের নিচে নামে নাই। আর পয়লা বেহেশতের পর জ্ঞান বৈলা যা আছে তার সবই হৈল লালসা... গেরাসিম ফেরেশতা বালুর মধ্যে খেলাধুলা করে পোলাপানের মত, চেরুবিমটা তো গোনাগুনতিই পারে না, আর আরালিমটা ফেলনা জিনিস চিবায় খালি। খোদা নিজে সময় কাটান হাঙ্গরের লেজ টাইন্যা টাইন্যা, আর জংলী ষাঁড়ে তার পা চাটে...”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“... লও যা সোনাদানা আছে, দেনমোহরের কাগজটা পুড়ায়া দাও, আর কাবিননামা ছিঁড়া ফালাও। সোনাদানা ফালায়া দাও কসাইটুলির জানলার নিচে, বাড়ি ছাড়ার আগে প্রার্থনার বই ডাস্টবিনে ফালায়া দাও, মেথুরা শরীফে থুথু ছিটাও, বিশেষত যেখানে যেখানে ‘শাদাই’ লেখা আছে সেই স্থানগুলায়...আমরা উড়ব ব্যাঙের বিষ্ঠাভরা মাঠের ওপর দিয়া, নেকড়েভরা জংলার ওপর দিয়া, সমকামীদের আখড়া ডিঙায়া-যেখানে সাপ হৈল পণ্ডিত, হায়েনা হৈল শিল্পী, কাক হৈল মৌলভী, চোরে দেখাশুনা করে খয়রাতির টাকা। সেইখানে সকল অসুন্দর হৈল সুন্দর, বাঁকা হৈল সোজা, নির্যাতন হৈল আরামদায়ক,  ব্যঙ্গ হৈল অতি উচ্চ প্রশংসা...”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই রকম অসংখ্য শব্দবন্ধ, বাক্যবিন্যাস, চিত্রকল্প এবং শব্দের যাদুকরি অভিব্যক্তি কি কেবল ‘অসাধারণ’ চেহারার একটি সাধারণ শব্দ দিয়ে প্রকাশ করা যায়! ঠাহর করতে পারি না, এ গল্প কি সুমন রহমানের নাকি সিঙ্গার মশাইয়ের! যাদু-বাস্তবতা নামক এক কিসিমের গাল্পিকতার কথাবার্তা সাহিত্যে জারি আছে। এই গল্পে ওরফে ‘আয়না’য় আসলে কয় আনা যাদু আর কয় আনা বাস্তবতা সেটা অনুভবের সময় গল্পকার (নাকি অনুবাদ!) পাঠককে দেয় না। অন্তত আমাকে দেয় নাই। নাকি সেটাই যাদু! যা যাদুমন্ত্রের মতো কাজ করে। কিংবা সেটাই বাস্তবতা যা যাদুকরের শাব্দিক মায়াজালে লটকে থাকে। আলো-আধাঁরির খেলা। সকাল-সন্ধ্যা আধাবেলা! লিমিনালিটি! মারহাবা... &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘আয়না’ একটি পরদেশী গল্প হলেও, এই অনুবাদের আগা-গোড়া কোথায় যেন একটা চড়া স্বদেশী গন্ধ আছে। কৃতিত্ব সুমন রহমানের নিঃসন্দেহে। কয়েকটা খুচরা উদ্ধৃতি দেয়া যাক...&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“...খোদা দুনিয়ার রমণীকূলে দিছেন অন্তঃসারশূন্যতা-বিশেষত যেসব রমণী ধনী, সুন্দরী, বাচ্চাকাচ্চাহীন, যুবতী এবং যাদের খরচ করার মত সময় বিস্তর আছে, অথচ সঙ্গীসাথী নাই...”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“...ওর চামড়া ছিল সাটিনের মত শাদা, দুধজোড়া ছিল ফোলা ফোলা, চুল ছিল কাঁধ-ছাড়ানো আর পা দুইটা ছিল মাদী হরিণের পায়ের মত চিকন লম্বা। আয়নার সামনে বৈসা ঘণ্টার পর ঘণ্টা সে নিজের রূপ উপভোগ করতে পারত। ছিটকিনি আর ভারি হুড়কো দিয়া আটকানো থাকত দরজা, আর সে ভাবত এই বুঝি খুইলা যাইতেছে দরজা, ঘরে ঢুকতেছে কোনো রাজকুমার, শিকারী বা কোনো কবি...”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“...মন দিয়া শোন, সবচে শাদা যে ময়দা তার কাঁই বানাও প্রথম। তাতে মিশাও মধু, ঋতুস্রাব, নষ্ট ডিম, শুয়োরের চর্বি, ষাঁড়ের অণ্ডকোষের চর্বি এক চামচ, এক কাপ মদ। সাবাথের দিন কয়লার আগুনে এইটা সিদ্ধ কর। তারপর স্বামীরে লৈয়া বিছানায় যাও এবং এইটা খাইতে দাও। মিছা কথা বৈলা বৈলা জাগায়া রাখ তারে, তারপর খোদা-না-খাস্তা কথা বৈলা ঘুম পাড়াও। যখন সে নাক ডাকতে শুরু করবে, তার অর্ধেক দাড়ি আর একটা কানের লতি কাইট্যা লও...”। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এরকম এন্তার উদ্ধৃতি দেয়া যায়। অর্থাৎ খুচরা নয় পাইকারি উদ্ধৃতি দেয়া যায়। ভীনদেশ আর নিজদেশ-র মধ্যকার ফারাক আর ফাঁক থাকে সুমন রহমানের (অনুবাদ!) গল্পে। গল্প কাকে বলে, কতো প্রকার ও কী কী? এ প্রশ্ন কেন মাথায় আসলো মালুম হয় না। গল্প নাকি অনুবাদ বেমালুম হয়ে ‘আয়না’-র শিথান-পৈথান ভ্রমণ করে? মননে ও মগজে বড় আরাম পেলাম। সুমন রহমান আরো গল্পপ্রবণ হোন...প্রত্যাশা করি নিরন্তর। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;গল্পের পৈথানে এসে আমি ঠাসকি খাই। “...পিচ্চি শয়তানদের পদোন্নতি হয় না খুব একটা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম আসে যায়, এক জিরেলের পর আরেক জিরেল, অযুত অযুত প্রতিচ্ছবির উস্কানি, অযুত অযুত আয়নার ভিতর...”। তাজ্জব বনে যাই। “অশেষ হইয়াও হইলো শেষ” নাকি “শেষ হইয়াও হইলো না শেষ”। সার্থক রবীন্দ্রনাথ। নাকি সিঙ্গার! নাকি সুমন রহমান! অনুবাদ সাহিত্য দীর্ঘজীবী হোক। সুমন রহমান দীর্ঘজীবী হোন। আমিন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রাহমান নাসির উদ্দিন&lt;br /&gt;কিয়োতো, জাপান, ১৫ ফাল্গুন ১৪১২; ২৭/২/২০০৬&lt;br /&gt;  &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8711979249453840341-5367122192398443024?l=joyodrath.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://joyodrath.blogspot.com/feeds/5367122192398443024/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8711979249453840341&amp;postID=5367122192398443024&amp;isPopup=true' title='2টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/5367122192398443024'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/5367122192398443024'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://joyodrath.blogspot.com/2008/08/blog-post_23.html' title='&quot;সুমন রহমান নাকি সিঙ্গারের গল্প! কার আয়না কে?&quot;: রাহমান নাসির উদ্দিনের আলোচনা'/><author><name>সুমন রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16436814493171446627</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SK3K-srIq0I/AAAAAAAAAEk/KiOzO5TiBOk/S220/Sumon9_resize.jpg'/></author><thr:total>2</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8711979249453840341.post-4358473756047410678</id><published>2008-08-22T21:43:00.003+06:00</published><updated>2008-08-22T21:57:22.978+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='অনুবাদ'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='গল্প'/><title type='text'>আয়না: আইজাক বাশেভিস সিঙ্গারের গল্প</title><content type='html'>&lt;a onblur="try {parent.deselectBloggerImageGracefully();} catch(e) {}" href="http://images-eu.amazon.com/images/P/0374500525.01.LZZZZZZZ.jpg"&gt;&lt;img style="float:left; margin:0 10px 10px 0;cursor:pointer; cursor:hand;width: 200px;" src="http://images-eu.amazon.com/images/P/0374500525.01.LZZZZZZZ.jpg" border="0" alt="" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১.&lt;br /&gt;এক কিসিমের জাল আছে যেইটা মিথুসেলার মত আগিলা, মাকড়সার জালের মতন নরম ও ছ্যাঁদা-ছ্যাঁদা - কিন্তু শক্তিসামর্থে কমতি নাই। কোনো শয়তান যখন অতীতকালের পিছে বা বাতাসকলের চক্করে ঘুরতে ঘুরতে হয়রান হৈয়া পড়ে, তখন সে কোনো আয়নার ভিতর প্রবিষ্ট হৈয়া যায়। সেইখানে জাল বিছায়া সে মাকড়সার মতই বৈসা থাকে, মাছি ধরা পড়বেই। খোদা দুনিয়ার রমণীকূলে দিছেন অন্তঃসারশূন্যতা - বিশেষত যেসব রমণী ধনী, সুন্দরী, বাচ্চাকাচ্চাহীন, যুবতী এবং যাদের খরচ করার মত সময় বিস্তর আছে, অথচ সঙ্গীসাথী নাই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ক্রাশনিক গ্রামে আমি সেইরকম এক রমণীর সাক্ষাৎ পাই। ওর পিতা ছিল কাঠব্যবসায়ী, স্বামী ডানজিগে খেয়ার কাজ করত। আর ওর মায়ের কবরে কেবল ঘাস গজাইতে শুরু করছে। মেয়েটা থাকত পুরনো ধাঁচের একটা বাড়িতে - ওককাঠের কাপবোর্ড, চামড়া-বাঁধান ক্যাশবাক্স আর সিল্ক দিয়ে মোড়ান নানান বইপত্রের মধ্যে। ওর চাকর ছিল দুইটা - এর মধ্যে বুড়াটা কানে শুনত কম আর জোয়ানটা ঘুরত এক বেহালাবাদকের পিছে-পিছে । ক্রাশনিকের অন্য গৃহবধুরা জুতা পরত পুরুষের, মেশিনের চোঙ্গার মধ্যে গম ঢালত সপাসপ, পাখপালক ছাড়াইত হাঁসমুরগির, রান্ধত স্যুপ, পালত বাচ্চাকাচ্চা আর যাইত জানাজায়। বলা বাহুল্য, সুন্দরী এবং শিক্ষিত জিরেল - যে বড় হৈছে ক্র্যাকো শহরে - এইসব গ্রাম্য প্রতিবেশীর সাথে কথা বলার মত বিষয়ই পাইত না। তারচে সে পছন্দ করত জার্মান গানের বই, বৈসা-বৈসা কাপড়ের মধ্যে এমব্রয়ডারি করত মুসা ও জিপোরা, আহসুইরাস ও রাণী এসথার, কিংবা দাউদ ও বাথশেবার ছবি। স্বামী ওর জন্য যেসব সুন্দর সুন্দর পোশাক আনত, সেগুলো কজেটেই ঝুলত, মুক্তা ও হীরার অলংকার বাক্সবন্দী হৈয়াই থাকত। কেউ কোনোদিন ওর সিল্কের অন্তর্বাস, লেস-লাগানো পেটিকোট বা লাল পরচুলা দেখে নাই - এমন কি ওর স্বামীও না। দেখবেই বা কখন? দিনের বেলায় তো প্রশ্নই ওঠে না, আর রাত্রে তো অন্ধকার।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span class="fullpost"&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জিরেলের ছিল একটা চিলেকোঠা, সেইখানে ছিল একখান আয়না যেটা ছিল ততটুকুই নীল - পানি বরফ হৈবার আগে যতটুকু নীল হৈয়া ওঠে। আয়নার মাঝবরাবর ফাটা ছিল একটা, আর তার চারপাশে যে সোনালি ফ্রেম ছিল তাতে সাপ, দরজার নব, গোলাপ এসবের বাহারি নকশাখোদাই ছিল। আয়নার সামনের মেঝেতে বিছানো ছিল ভালুকের চামড়া আর লাগোয়া পিছনেই ছিল একখান চেয়ার যার হাতল আইভরির আর গদী নরম মখমলের। নগ্নাবস্থায় সেই চেয়ারে বৈসা ভালুকের চামড়ায় পা রাইখা নিজেরে নিবিষ্টভাবে দেখার চাইতে আনন্দের আর কী হৈতে পারে? জিরেলের শরীরে তাকায়া থাকার মত ঐশ্বর্যও ছিল যথেষ্ট। ওর চামড়া ছিল সাটিনের মত শাদা, দুধজোড়া ছিল ফোলা ফোলা, চুল ছিল কাঁধ-ছাড়ানো আর পা দুইটা ছিল মাদী হরিণের পায়ের মত চিকন লম্বা। আয়নার সামনে বৈসা ঘণ্টার পর ঘণ্টা সে নিজের রূপ উপভোগ করতে পারত। ছিটকিনি আর ভারি হুড়কো দিয়া আটকানো থাকত দরজা, আর সে ভাবত এই বুঝি খুইলা যাইতেছে দরজা, ঘরে ঢুকতেছে কোনো রাজকুমার, শিকারী বা কোনো কবি। কারণ যা কিছু গোপন তার প্রকাশ্য হওয়া লাগবে, প্রতিটা গহীন ভাবনার ব্যক্ত হওয়া দরকার, প্রতিটা প্রেমেই আছে প্রতারণার আকাঙ্ক্ষা, যা কিছু পবিত্র তারই মর্যাদাহানি হওয়া প্রয়োজন। দুনিয়া ও পরকালের চক্করে যেকোনো সুন্দর শুরুর-ই খারাপ ধরনের সমাপ্তি হৈয়া যাইতে পারে। যখনি আমি এই স্বাদের কথা জানলাম, ঠিক করলাম এই রমণীটারেই ফুসলাইতে হবে। দরকার খালি একটু ধৈর্য। এক গরমের দিনে, আয়নার সামনে বৈসা সে ওর বাম স্তনের বোঁটা দেখতেছিল, তখনি আয়নার ওপর ওর চোখ আটকায়া গেল। হ্যাঁ, আমিই ছিলাম সেইখানে - আলকাৎরার মত কাল, বেলচার মত লম্বা, গাধার মত কান, ভেড়ার মত শিং, ব্যাঙের মত মুখ আর ছাগলের মত দাড়ি। আমার চোখ বলতে খালি দুইটা মনি। এত আশ্চর্য হৈছিল যে, ভয় পাওয়ার কথাই ভুইলা গেল। কান্নার বদলে সে ভাইঙ্গা পড়ল বাঁধভাঙা হাসির চ্ছটায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“ও আল্লা, কী বিশ্রী দেখতে তুমি!” বলল সে।&lt;br /&gt;“ও আল্লা, কী সুন্দর দেখতে তুমি!” জবাব দিলাম আমি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমার প্রশংসায় ওকে খুশি মনে হৈল। “কে তুমি গো?” জিগাইল সে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“ভয় পাইও না” বললাম, “আমি একটা পিচ্চি শয়তান, বড়সড় শক্তিশালী শয়তান আমি না। আমার আঙুলে নোউখ নাই, মুখে দাঁত নাই, আমার হাত গুড়ের মত, আর শিং মোমের মত। আমার যত শক্তি আমার জবানে। পেশাগত দিক থিকা আমি একটা ভোদাই, আসছি তোমারে আনন্দ দিতে কারণ তুমি একলা।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“আগে ছিলা কৈ?”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“তোমার শোবার ঘরের স্টোভের পিছনে, যেইখানে ঝিঁঝি ডাক পাড়ে আর ইন্দুরে হল্লা করে। সেইখানে একটা শুকায়া যাওয়া ফুলতোড়া আর উইলোর মরা ডালের মাঝখানে ছিলাম গো।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“কী করতা সেখানে তুমি?”&lt;br /&gt;“দেখতাম তোমারে।”&lt;br /&gt;“কবে থিকা?”&lt;br /&gt;“তোমার বাসর রাইত থিকা।”&lt;br /&gt;“খাওয়া দাওয়া?”&lt;br /&gt;“তোমার শরীরের সুবাস, চুলের জ্বিলা, চোখের আলো আর মুখের বিষাদ।”&lt;br /&gt;“শালা তেলবাজ” সে চিৎকার করল, “কে তুমি? কী কর এখানে? কৈ ত্থিকা আসছ? যাইবা কৈ?”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;গল্প বানাইলাম একটা। বললাম, আমার বাপ ছিল স্বর্ণকার আর মা ছিল একটা মাদী ছাগল। তারা মিলিত হৈছিল এক গুদামের ভিতর বাতিল দড়ির স্তূপের ওপর, আমি ছিলাম তাদের জারজ সন্তান। কিছুদিনের জন্য উঠছিলাম মাউন্ট সিয়েরের শয়তানদের বস্তিতে, থাকতাম একটা খচ্চরের গুহায়। কিন্তু যখন জানাজানি হৈল যে, আমার বাপ একজন মানুষ - খেদায়া দিল আমারে। তখন থিকা আমি ঘরছাড়া। মাদী শয়তানগুলা আমারে এড়াইত কারণ, আমারে দেখলে নাকি ওদের আদমসন্তানের কথা মনে হৈত। আর মানবীরা আমারে দেইখ্যা ভাবত শয়তানের কথা। আমারে দেখলেই ঘেউ ঘেউ করত কুত্তাগুলান, মানুষের বাচ্চারা চেঁচাইত ভয়ে । কিন্তু কেন ভয় পাইত ওরা? আমি তো কারো ক্ষতি করি নাই। আমার একমাত্র শখ সুন্দরী নারী দেখা - দেখা আর ওদের সাথে আলাপ সালাপ করা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“আলাপ সালাপ করা ক্যান? সুন্দরী হৈলেই কি জ্ঞানী হৈয়া যায় নাকি?”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“বেহেশতে জ্ঞানীরা সুন্দরীদের পায়ের নিচের পাওদানি।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“আমার শিক্ষক তো অন্যকথা কয়।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“তোমার শিক্ষক হালায় কি জানে? যারা বই লেখে তাদের বুদ্ধি ছারপোকার সমান। তারা একজন অন্যজনরে অনুকরণ করে। যখনি তুমি কিছু জানতে চাও, আমারে জিগাইও। জ্ঞান কখনই পয়লা বেহেশতের নিচে নামে নাই। আর পয়লা বেহেশতের পর জ্ঞান বৈলা যা আছে তার সবই হৈল লালসা। তুমি কি এও জান না যে, ফেরেশতারা সব মাথামোটা? গেরাসিম ফেরেশতা বালুর মধ্যে খেলাধুলা করে পোলাপানের মত, চেরুবিমটা তো গোনাগুনতিই পারে না, আর আরালিমটা ফেলনা জিনিস চিবায় খালি। খোদা নিজে সময় কাটান হাঙ্গরের লেজ টাইন্যা টাইন্যা, আর জংলী ষাঁড়ে তার পা চাটে। তিনি কাতুকুতু দেন শেখিনারে যাতে সে প্রতিদিন অনেক অনেক ডিম পাড়তে পারে; এই ডিমগুলারেই তোমরা আকাশের তারা কও।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“বুঝলাম তুমি আমার সাথে মশকরা করতেছ।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“এইগুলা মশকরা হৈলে আমার নাকের ওপরে হাড্ডি গজাক। আমার মিছাকথার কোটা আমি অনেক আগেই শেষ কৈরা ফালাইছি। এখন সত্য বলা ছাড়া আমার বিকল্প নাই।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“আচ্ছা, তুমি কি বাচ্চা পয়দা করতে পার?”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“না গো আমার জান। খচ্চরের মতই অম আমি। কিন্তু তাতে আমার কামনা দমে নাই। শুধুমাত্র বিবাহিতাদের সাথে শুই আমি, দুর্দান্ত অ্যাকশনই আমার পাপ, আমার প্রার্থনা হৈল খোদা-কুৎসা, বিদ্বেষ আমার রুটি, ক্রোধ আমার মদ, ফুটানি আমার হাড্ডিমজ্জায়। বকবকানি ছাড়া এই একটা জিনিসেই ওস্তাদ আমি।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমার কথায় হাসি পাইল ওর। বলল, “শয়তানের বেশ্যা হৈতে জন্ম দেয় নাই আমারে আমার মা। যাঃ ফুট, নাইলে ওঝা ডাকুম কিন্তু।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“উত্তেজিত হৈবার কিছু নাই”, বললাম আমি, “যাইতেছি। কারো ওপর জোর করি না আমি”।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তারপর মিলায়া গেলাম কুয়াশার মত।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;২.&lt;br /&gt;পরের সাতদিন জিরেল ওর আয়নাঘরে যাওয়া থিকা বিরত রাখল নিজেরে। আয়নার ভিতর আমি হালকা হালকা ঘুমাইলাম। জাল ছড়ান হৈছে; ভিকটিম রেডি। ওর মারাত্মক কৌতুহলের কথা জানতাম আমি। তাই এখন আমার কাজ হৈল খালি হাই তোলা। একজন খোদার বান্দারে এইরকম পটান কি উচিত আমার? উচিত কি নববধুরে তার পুরুষের সঙ্গ থিকা বঞ্চিত করা? সিনাগগের চিমনিতে আগুন দেয়া? সাবাথের মদকে ভিনেগার বানায়া দেয়া? কুমারীর জন্য বামনসোয়ামী উপহার দেয়া? বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে ভেড়ার শিং ঢুকায়া দেয়া? তেলাওয়াতের সুরের মধ্যে অসুর ঢুকায়া দেয়া? পিচ্চি শয়তানের এরকম কাজকামের অভাব তো নাই, বিশেষত আতংকদিবসগুলাতে, যখন পানির মধ্যে মাছগুলাও ভয়ে কাঁপতে থাকে। এমনি এক দিন আমি বৈসা বৈসা মুন জুস আর টার্কি সীডস-এর খোয়াব দেখতেছিলাম - তখনি ঢুকল সে। তাকাইল আমার দিকে, কিন্তু দেখতে পাইল না। আয়নার সামনেই বসল, আমি দেখা দিলাম না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“নিশ্চয় আমি আগডুম বাগডুম ভাবতেছি”, ফিসফিস করতেছিল জিরেল, “ঐটা অবশ্যই গাঁজাখুরি স্বপ্ন ছিল আমার।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নাইটগাউন খুইল্যা উদাম হৈয়া দাঁড়াইল সে ঐখানে। জানতাম ওর স্বামী শহরে গেছে এবং গতরাত্রে স্ত্রীর সঙ্গে শুইছে, যদিও জিরেল এখনও গোসল কৈরা পুতপবিত্র হয় নাই। অথচ তালমুদ শরীফে আছে,  কোনো স্ত্রীলোকের পবিত্র হৈতে দশখান শর্ত পূরণ করা লাগে, আর বেলেল্লা হৈতে যে কোন একটা শর্তের অপমানই যথেষ্ট। রয়েজি গ্লাইনের কন্যা জিরেল আসলে আমাকেই খুঁজতেছিল এবং ওকে বিষণ্ন লাগতেছিল খুব। সে আমার, আমার, আমি ভাবলাম। আজরাইল তার বল্লমসহ তৈরি, হিংসুটে এক পিচ্চি শয়তান দোযখের মধ্যে মেয়েটার জন্য কড়াই বসাইতেছে, আরেক পাপী হতভাগির জন্য খড়িকাঠ টুকাইতেছে। সব তৈয়ার - বরফের চাঁই আর জীবন্ত কয়লা, ওর জিহ্বার জন্য আংটা, স্তনের জন্য প্লায়ার্স, ওর যকৃত খাওয়ার জন্য ইঁদুরের পাল, আর পাকস্থলিতে কামড় বসানোর জন্য কৃমি। কিন্তু আমার ছোট্ট শিকার এসবের কিছুই টের পাইল না। সে নিজের বাম স্তনে হাত বুলায়া নিল, তারপর ডান স্তনে। তলপেট দেখল, তারপর পায়ের পাতা। সে কি এখন বই পড়বে? নখে পালিশ লাগাবে? চুল আঁচড়াবে? স্বামীর আনা আতরের গন্ধ বাইর হচ্ছে ওর গা থিকা, ভুর ভুর গোলাপগন্ধ। স্বামী ওকে প্রবালের যে নেকলেসটা উপহার দিছিল, সেইটাই পরে আছে সে। কিন্তু সর্প না থাকলে হাওয়াবিবি কেমনে হয়? শয়তান না থাকলে খোদার মাহাত্ম্য কি? জিরেল ছিল কামনায় একেবারে কানায় কানায় পূর্ণ। বেশ্যার মত আতিপাতি কৈরা খুঁজতেছিল আমারে। কাঁপা-কাঁপা ঠোঁটে আবৃত্তি করল:&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;হাওয়ার মতন বেগে&lt;br /&gt;গহীন পাতাল থেকে&lt;br /&gt;কালো বিড়াল তুমি&lt;br /&gt;নাগালে আসো, চুমি!&lt;br /&gt;সিংহ বিক্রমে&lt;br /&gt;মাছের বোবা প্রেমে&lt;br /&gt;স্তব্ধ দেশের দেশী&lt;br /&gt;নাও, তোমার ফুলরাশি!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;শেষ শব্দটা আউড়ানমাত্র দেখা দিলাম আমি। আমারে দেখামাত্র ওর মুখ উজ্জ্বল হৈয়া উঠল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“ও। তুমি এখানে?”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“চলে গেছিলাম”, বললাম, “কিন্তু ফিরে এলাম।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“কৈ ছিলা এই কদিন?”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“ছিলাম, যেখানে কোনো স্থান নাই সেইখানে। ছিলাম আসমোদিউসের দুর্গের কাছে, যে জঙ্গলটায় সোনার পাখি থাকে তার কাছে একটা বেশ্যাদের প্রাসাদ আছে সেইখানে।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“এত দূরে?”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“আমার কথা একিন না হৈলে আসো আমার সাথে। পিঠে চাইপ্যা বস, শিং চাইপ্যা ধর, তোমারে লৈয়া পতপত ডানা ছড়াই আকাশে। দুইজনায় পাহাড়পর্বত ডিঙায়া উইড়া যামু সেইখানে।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“কিন্তু আমার পরনে তো কিছুই নাই।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“সেইখানে কেউ কাপড় পরে না।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“আমার স্বামী জানবে না কোথায় গেছি আমি?”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“যা জানার তাড়াতাড়িই জানবে সে।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“লাগবে কতক্ষণ যাইতে?”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“সেকেন্ডেরও কম।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“ফিরব কখন?”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“সেইখানে গেলে কেউই ফিরতে চায় না।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“কি করব আমি সেইখানে?”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“আসমোদিউসের কোলে বৈসা উনার দাড়ি দিয়া বেনী বানাইবা। আলমন্ড আর পোর্টার খাইবা। সন্ধ্যা হৈলে উনার সামনে নাচবা। তোমার গোড়ালিতে ঘণ্টি বাঁধা থাকবে, আর সব শয়তান নাচবে তোমারে ঘিরা।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“তারপর?”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“আমার প্রভু খুশি হৈলে তুমি তারই হৈবা। আর না হৈলে উনার সাঙ্গপাঙ্গদের কেউ তোমার দায়িত্ব নিবে।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“সকাল হৈলে?”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“সেইখানে সকাল নাই।”&lt;br /&gt;“তুমি কি থাকবা আমার সঙ্গে?”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“তোমাকে নিতে পারলে আমার পুরস্কার জুটবে চূষার জন্য একখান হাড্ডি।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“হায় রে অভাগা শয়তান, মায়া লাগতেছে তোর জন্য, কিন্তু আমি যাব না। আমার সোয়ামি আছে, পিতা আছে। সোনারূপা আছে, পোশাক আছে, ওল আছে। আমার জুতার হিল ক্রাশনিকে সবচে উঁচা।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“ঠিক আছে। তাইলে বিদায়।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“দাঁড়াও দাঁড়াও। এত তাড়াহুড়া ক্যান গো? কী করা লাগবে কও।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“এইত লক্ষ্মী মেয়ের মত কথা। মন দিয়া শোন, সবচে শাদা যে ময়দা তার কাঁই বানাও প্রথম। তাতে মিশাও মধু, ঋতুস্রাব, নষ্ট ডিম, শুয়োরের চর্বি, ষাঁড়ের অন্ডকোষের চর্বি এক চামচ, এক কাপ মদ। সাবাথের দিন কয়লার আগুনে এইটা সিদ্ধ কর। তারপর স্বামীরে লৈয়া বিছানায় যাও এবং এইটা খাইতে দাও। মিছা কথা বৈলা বৈলা জাগায়া রাখ তারে, তারপর খোদা-না-খাস্তা কথা বৈলা ঘুম পাড়াও। যখন সে নাক ডাকতে শুরু করবে, তার অর্ধেক দাড়ি আর একটা কানের লতি কাইট্যা লও। লও যা সোনাদানা আছে, দেনমোহরের কাগজটা পুড়ায়া দাও, আর কাবিননামা ছিঁড়া ফালাও। সোনাদানা ফালায়া দাও কসাইটুলির জানলার নিচে, বাড়ি ছাড়ার আগে প্রার্থনার বই ডাস্টবিনে ফালায়া দাও, মেথুরা শরীফে থুথু ছিটাও, বিশেষত যেখানে যেখানে ‘শাদাই’ লেখা আছে সেই স্থানগুলায়। তারপর সোজা আস আমার কাছে। আমি তোমারে পিঠে নিয়া উড়ব ক্র্যাশনিক থিকা মরুভূমিতে। আমরা উড়ব ব্যাঙের বিষ্ঠাভরা মাঠের ওপর দিয়া, নেকড়েভরা জংলার ওপর দিয়া, সমকামীদের আখড়া ডিঙায়া - যেখানে সাপ হৈল পন্ডিত, হায়েনা হৈল শিল্পী, কাক হৈল মৌলভী, চোরে দেখাশুনা করে খয়রাতির টাকা। সেইখানে সকল অসুন্দর হৈল সুন্দর, বাঁকা হৈল সোজা, নির্যাতন হৈল আরামদায়ক,  ব্যঙ্গ হৈল অতি উচ্চ প্রশংসা। তাড়াতাড়ি কর, সময় খুব কম।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“ভয় লাগতেছে পিচ্চি শয়তান, আমার খুউব ভয় লাগতেছে।”    &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“আমাদের সাথে গেলে প্রথম প্রথম সবারই লাগে।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আরো কিছু জিগাইবার ইচ্ছা ছিল জিরেলের, হয়ত আমার বক্তব্যের স্ববিরোধ ধরার জন্য, কিন্তু পালাইলাম আমি। সে ওর ঠোঁট চাইপ্যা ধরল আয়নার মধ্যে, কিন্তু আমার লেজের একটুখানি নাগাল পাইল খালি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;৩.&lt;br /&gt;ওর বাবা কাঁদল। স্বামী মাথার চুল ছিঁড়ল। চাকরবাকরেরা ওরে খুঁজল সেলারে আর বাড়ি-লাগোয়া উঠানে। ওর শাশুড়ি বেলচা দিয়া চিমনীর ভিতরটা পর্যন্ত খুঁচায়া দেখল। গরুর গাড়ির গাড়িয়াল আর কসাইরা ওরে তন্ন তন্ন কৈরা খুঁজল জঙ্গলে। রাতে টর্চ জ্বলল এখানে ওখানে আর তালাশকারীদের গলা ইকো হয়: “জিরেল, কোথায় তুমি? জিরেল! জিরেল!” সন্দেহ হৈল যে, সে কনভেন্টে পালায়া গিয়া থাকতে পারে। কিন্তু পুরোত মশায় ক্রুশ ধৈরা কসম কাটল, জিরেলরে সে দেখে নাই। খোঁজাখুঁজির জন্য পাঠানো হৈল এক হাতসাফাইকারীকে, তারপর পাঠানো হৈল এক জাদুকর মহিলাকে যে কারো আদলে অবিকল মোমের মূর্তি বানাইতে পারে, শেষে পাঠানো হৈল আরেকজনকে যে জাদুর আয়না দিয়া মৃত বা নিখোঁজ মানুষের সন্ধান করতে পারে। কিন্তু যখন আমি আমার শিকার হাতে পাইয়া যাই, তখন দুনিয়ার কারো সাধ্য থাকে না তাকে ফিরায়া নিবার। ডানা ছড়াইলাম ওকে পিঠে নিয়া। জিরেল আমারে অনেক প্রশ্ন করল, কিন্তু জবাব দিলাম না। সোডম-এ পৌঁছার পর লট শালার বৌ-এর কাছে থামলাম একপলক। তিনটা বলদে তখন ঐ বেটির নাক চুষতে ছিল। লট শালা শুইছিল গুহায় ওর মাইয়াগুলার সাথে, বরাবরের মতই মাতাল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ছায়ার এই জগতে সবকিছুই পরিবর্তনশীল, কিন্তু আমাদের জগতে সময় একেবারে স্থির। এইখানে বাবা আদম এখনও ল্যাংটা, হাওয়াকে এখনও সাপে ফুসলাইতেছে। হাবিল মারতেছে কাবিলকে, রক্তচোষা নীলমাছি শুইতেছে হাতির সাথে, বেহেশত থিকা নামতেছে ঝর্ণাধারা, মিশর দেশে হাতে কাদা ঠেলতেছে ইহুদীরা, শরীর চুলকাইতেছে জব। যতক্ষণ সময় প্রবাহিত হয়, চুলকাইতেই থাকবে সে, কিন্তু আরাম পাইবে না সে কোনোদিন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জিরেল কী যেন কথা কৈতে চাইছিল, কিন্তু পাখা ঝাপটায়া আমি লাপাত্তা হৈয়া গেলাম। আমার কাজ শেষ। গিয়া প্রাসাদের অনেক উঁচু কার্ণিশে বাদুড়ের মত ঝুলতে থাকলাম, চোখ খোলা কিন্তু দৃষ্টি নাই চোখে। দুনিয়া হৈল বাদামি আর বেহেশত হৈল হলুদ। বৃত্তাকারে দাঁড়ায়া শয়তানগুলা লেজ নাচাইতেছিল। দুইটা কাছিম ছিল টাইট জড়াজড়ি অবস্থায়, একটা পুরুষ পাথর উপগত একটা নারীপাথরের ওপর। শাব্রিরি আর বারিরি উপস্থিত হৈল। শাব্রিরির জন্ম হৈছে একটা বর্গেেত্রর আকার থিকা। তার মাথায় টুপি, হাতে বাঁকা তলোয়ার। তার পা-গুলা হাঁসের, কিন্তু ছাগলের মত দাড়ি আছে মুখে। নাকের ওপরে জোড়া চশমা আছে তার, কথা বলে জর্মন উচ্চারণে। আর বারিরি একইসঙ্গে বানর, টিয়া, ইঁদুর এবং বাদুড়। শাব্রিরি আর বারিরি মাথা নোয়াইল একটু, তারপর শুরু করল বিদূষক স্টাইলে:&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আর্গিন মার্গিন&lt;br /&gt;সস্তায় বেছে নিন&lt;br /&gt;কিউট এক দোয়েল&lt;br /&gt;নাম তার জিরেল&lt;br /&gt;(তার) খোলা দরজা&lt;br /&gt;(তাই) প্রেমে খুব মজা!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;শাব্রিরি যখন জিরেলকে বাহু বাঁধনে ধরতে গেল, চেঁচাইল বারিরি, “ওরে তোর শরীরে হাত দিতে দিবি না মাগি! মাথায় খুঁজলি-প্যাঁচড়া আছে ওর, পায়ের মধ্যে ঘা, মেয়েমানুষরে মজা দিবার মতা নাই ওর। মুখে ফটফট, খাসি করা মোরগও ওর থেইকা ভাল। এরকম ওর বাপেও ছিল, দাদাও। তার চাইতে আয়, প্রেম করবি আমার সাথে, আমি মিথ্যারাজের নাতি। তাছাড়া আমার মেলা টাকাপয়সা আছে, ফ্যামিলিও ভাল। আমার দাদী ছিল নামা-র কন্যা ম্যাকলাথের সখী। আসমোদিউসের পা ধোয়াইয়া দিত আমার মা। আমার বাবা, চির দোযখনসীব হোক তার, বইত শয়তানের নস্যির বাক্স।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এইভাবে শাব্রিরি আর বারিরি জিরেলের চুল ধৈরা টানাটানি করতে আরম্ভ করল, প্রতিবার টানের সাথে তারা জিরেলের গোছা গোছা চুল উপড়ায়া ফেলতে লাগল। তখনি জিরেল তার অবস্থাটা পুরাপুরি বুঝল এবং ‘ছাইড়া দেও ছাইড়া দেও’ বলে চিৎকার করতে লাগল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“কী নিয়া লোফালুফি চলতেছে?” কেটেভ মারিরি জিগায়।&lt;br /&gt;“ক্রাশনিকের একটা ছিনাল।”&lt;br /&gt;“ভাল কিছু পাওয়া গেল না?”&lt;br /&gt;“নাহ। ঐটাই ঐখানে ভাল।”&lt;br /&gt;“আনল কে?”&lt;br /&gt;“একটা পিচ্চি শয়তান।”&lt;br /&gt;“ঠিক আছে। আবার শুরু কর।”&lt;br /&gt;“বাঁচাও বাঁচাও।” জিরেল গোঙ্গাইতে থাকল।&lt;br /&gt;“ঝুলায়া দাও ঐটারে”, ক্রোধের পুত্র র‌্যাথ চেঁচাইল, “কাইন্দা কোনো লাভ নাই মাগী। এইখানে সময় লড়েচড়ে না। যা বলা হৈছে কর, তুই এখানে জোয়ানও না, বুড়িও না।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জিরেল কান্নায় ভাইঙ্গা পড়ল। ওর হিক্কা আর বিলাপের শব্দে লিলিথের ঘুম চটকায়া গেল। আসমোদিউসের দাড়ির ভিতর থিকা মুখ বাইর করল সে, ওর মাথার প্রতিটা চুল হৈতেছে একেকটা কিলবিল-করা সাপ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“মাগিটার সমস্যা কি?” জিগাইল লিলিথ, “চেঁচাইতেছে ক্যান?”&lt;br /&gt;“ওরা শুরু করছে ওর ওপর।”&lt;br /&gt;“আরো একটু লবণ মিশায়া নিতে ক”&lt;br /&gt;“আর আগে চর্বি ছাড়ায়া নিতে ক”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই মশকরা চলল হাজার হাজার বছর ধৈরা, তারপরেও প্রেতচক্রের কান্তি নাই। প্রতিটা শয়তান তার তার করণীয় সারল, প্রতিটা পিচ্চি শয়তান তার তার মত মজা নিল। ওরা টানল, ছিঁড়ল, কামড়াইল আর চিমটাইল। পুরুষ শয়তানগুলা এত খারাপ না, মাদী শয়তানগুলা হৈতেছে ভয়ানক - আদেশ দিল: খালি হাতে স্যুপ বানাবি! আঙুল ছাড়া বিনুনী করবি! পানি ছাড়া ধোয়ামোছা করবি! গরম বালুর মধ্যে মাছ ধরবি! না ভিজ্যা গোসল করবি! বাড়িতে থাকবি এবং রাস্তায় হাঁটবি! পাথর দিয়া মাখন তৈয়ার করবি! বোতল ভাঙ্গবি কিন্তু মদ ফেলতে পারবি না!! &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;খোদা বৈলা কি কেউ আছেন? তিনি কি আসলেই দয়াশীল? জিরেল কি কোনোদিন মুক্তি পাবে? সৃষ্টির গোড়াতেই কি সাপের সাথে অশুভের যোগ ছিল? আমি কেমনে বলি? আমি তো ছোট্ট একটা শয়তানমাত্র। পিচ্চি শয়তানদের পদোন্নতি হয় না খুব একটা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম আসে যায়, এক জিরেলের পর আরেক জিরেল, অযুত অযুত প্রতিচ্ছবির উস্কানি, অযুত অযুত আয়নার ভিতর।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;(নর্বার্ট গাটারম্যান-এর ইংরেজি থেকে অনুবাদ: সুমন রহমান)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ফেব্রুয়ারি ২০০৬&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8711979249453840341-4358473756047410678?l=joyodrath.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://joyodrath.blogspot.com/feeds/4358473756047410678/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8711979249453840341&amp;postID=4358473756047410678&amp;isPopup=true' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/4358473756047410678'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/4358473756047410678'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://joyodrath.blogspot.com/2008/08/blog-post_458.html' title='আয়না: আইজাক বাশেভিস সিঙ্গারের গল্প'/><author><name>সুমন রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16436814493171446627</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SK3K-srIq0I/AAAAAAAAAEk/KiOzO5TiBOk/S220/Sumon9_resize.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8711979249453840341.post-322674113291267323</id><published>2008-08-22T13:14:00.005+06:00</published><updated>2008-08-22T22:28:03.522+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='অনুবাদ'/><title type='text'>অন্ধ সঙ্গীতকার: ভ্লাদিমির করলেংকো</title><content type='html'>&lt;a onblur="try {parent.deselectBloggerImageGracefully();} catch(e) {}" href="http://images.biggerbooks.com/images/d/8/661/9781410108661.jpg"&gt;&lt;img style="float:left; margin:0 10px 10px 0;cursor:pointer; cursor:hand;width: 320px;" src="http://images.biggerbooks.com/images/d/8/661/9781410108661.jpg" border="0" alt="" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সে দ্রুত তার মাকে চিনতে শিখে ফেলল - পায়ের আওয়াজ শুনে, কাপড়ের খসখসানি শুনে, এবং অন্যান্য নানান শব্দের মাধ্যমে যেগুলো সেই-ই কেবল আলাদা করে বুঝতে পারত। ঘরে যত লোকই থাকুক না কেন অথবা তারা যেভাবেই চলাচল করুক না কেন - সে কোন ভুল না করেই তার মায়ের কাছে চলে যেতে পারত। মা যখন তাকে কোলে নিত - সেটা সে আশা করুক আর নাই করুক - সে সবসময়ই বুঝতে পারত যে এটা তার মা। অন্যরা যখন তাকে কোলে নিত, সে আলতোভাবে তাদের মুখের উপর আঙুল বুলাত এবং এভাবে ধীরে ধীরে চিনে ফেলল কোনটা তার নার্স, কোনটা ম্যাক্সিম চাচা এবং কোনটা তার বাবা। এর বাইরে অচেনা কেউ যখন তাকে কোলে নিত, ঐ মানুষটার মুখের উপর বুলাতে থাকা তার আঙুলগুলো শ্লথ হয়ে যেত। আস্তে আস্তে, কিন্তু সুনিশ্চিতভাবে, অচেনা মুখটিকে তার আঙুলগুলো সনাক্ত করে ফেলত, তার মুখমণ্ডলকে খুব নিবিষ্ট লাগত তখন, যেন তার আঙুলগুলো তার হয়ে ‘দেখছে’।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span class="fullpost"&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রকৃতিগতভাবে সে ছিল প্রাণবন্ত ধরনের শিশু। কিন্তু যতই দিন যেতে থাকল ততই যেন তার অন্ধত্বের ছাপ তার স্বভাবের উপর বসে যেতে থাকল। তার চলাফেরা হয়ে উঠতে থাকল কম চটপটে। ঘরের নিরিবিলি কোনাগুলোতে লুকিয়ে বসে থাকার একটা অভ্যাস গড়ে উঠল তার, সেখানে সে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকত অচঞ্চল ভঙ্গিতে, এবং তার মুখ দেখে মনে হত যেন কিছু শোনার চেষ্টা করছে। ঘরে যখন কেউ থাকত না, এবং অন্যদের কথাবার্তা বা চলাফেরার শব্দ যখন তার মনোযোগ আকর্ষণ করত না, তাকে দেখে তখন নে হত গভীর চিন্তায় ডুবে গেছে এবং তখন তার সুন্দর মুখটাতে থাকত একটা বিপন্ন্ বিস্ময়ের আভা, সেটি মোটেও শিশুসুলভ ছিল না। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ম্যাক্সিম চাচা ঠিকই বলেছিলেন। অন্ধ শিশুটির প্রাণবন্ত ও অনুসন্ধানী চরিত্র তাকে অনেক সাহায্য করল। তার স্পর্শের বোধ হয়ে উঠল অসাধারণ। একটা সময়ে মনে হতে থাকল যেন, এমনকি, তার মধ্যে রঙ-এর অনুভব জেগে উঠছে: উজ্জ্বল রঙ-এর কোন জিনিসের উটর তার আঙুলগুলো বেশি সময় ধরে খেলা করত, এবং সেই সময়ে তার মুখে একটা অতিনিবিষ্ট মনোযোগের ভাব ফুটে উঠত। সবচেয়ে বিস্ময়কর উন্নতি, যেটি সময়ের সাথে সাথে পরিষ্কার হয়ে উঠল, সেটি হল তার শ্রবণশক্তি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;শিগগিরই সে বিভিন্ন শব্দের পার্থক্যের মাঝ দিয়ে এই বাড়ির প্রতিটি ঘরকে আলাদা করে চিনতে শিখল। পরিবারের প্রতিটি সদস্যের পায়ের শব্দ আলাদা করে চিনল - তার পঙ্গু চাচার চেয়ারের ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ, মায়ের সেলাই মেশিনের একটানা ছন্দ এবং ঘড়ির একঘেয়ে টিকটিক। খখনো কখনো মেঝেয় হামাগুড়ি দিতে দিতে সে এমন কোন শব্দে থমকে যেত এবং কানখাড়া করত যা স্বাভাবিকভাবে কারো শ্রুতিগোচর হওয়ারই কথা নয়। দেখা গেল তখন সে হাত বাড়াচ্ছে ঘরের দেয়ালে অলসভাবে ঘুরতেফিরতে থাকা একটা মাছির দিকে। মাছিটা উড়ে গেলে তার মুখে কিন্তু একটা বেদনার আভা ফুটে উঠে, যেহেতু সে বুঝতে পারে না কোন দিকে মাছিটা উড়ে গেল। অবশ্য বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই বেদনাবোধ ফিকে হয়ে গেল তার। বরং মাছিটা যে দিকে উড়ে যেত, সেদিকে সে তার মাথা চকিতে ঘুরিয়ে ফেলতে পারত তখন। তার শ্রবণমতা এতটাই পোক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছিল যে, মাছিটার ত্রস্ত পাখা-ঝাপটানিকে সে খুব ভাল করে চিনে ফেলেছিল ইতিমধ্যে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তার চারপাশের পৃথিবী - গতি, শব্দ ও রঙের পৃথিবী - এই অন্ধ বালকটির কাছে মুখ্যত পৌঁছাল শব্দের আকারে; আর তার চারপাশের ধারণাবলী হয়ে উঠল শব্দের ধারণা। তার মুখে সবসময় থাকত একটা ব্যতিক্রমী ধরনের শোনার ভঙ্গি, এজন্য তার থুতুনিটা সবসময় সামনের দিকে একটু বাড়ানো থাকত। আশ্চর্যজনক ভাবে চোখের ভুরু নড়ত তার, কিন্তু সুন্দর চোখজোড়া থাকত অচঞ্চল। ফলে তার মুখ বয়ে বেড়াত শিশুসুলভ নিবিষ্টতা এবং দুঃখবোধের একটা যুগপৎ মনোভাব।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;৬.&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অন্ধ বালকের জীবনের তৃতীয় শীতকালটাও ক্রমে শেষ হয়ে এল। দরজাগুলো আটকে-দেয়া বরফ গলতে শুরু করল, এবং শুরু হতে লাগল বসন্তের ব্যস্তমস্ত জীবন। সারা শীতকাল সে অসুস্থ হয়ে ছিল ঘরের মধ্যে, বাইরের বাতাসের ছোঁয়া লাগে নি বলতে গেলে; বসন্তের ছোঁয়ায় তার স্বাস্থ্যের উন্নতি হতে লাগল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জানালার খড়খড়িগুলো উঠিয়ে দেয়া হল, বসন্তের আনন্দ বিপুল উদ্যমে ঘরের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ল। সূর্যের প্রফুল্লচ্ছটায় ঘরগুলোতে বয়ে যেতে লাগল আলোর বন্যা। সমুদ্র সৈকত, তখনও জনশূন্য, বরাবরের মতই জানালার বাইরে নিমন্ত্রণের মত দোলা দিতে লাগল। আর দূরে, ফসল কেটে-নেয়া কালো মাঠগুলো শুয়ে, স্থানে স্থানে বরফের আস্তর তখনও মিলায় নি। ঘাসগুলো অনেক জায়গাতেই বিবর্ণ ধরনের সবুজ রঙ পেতে আরম্ভ করছিল তখন। বাতাস ছিল নরম, বুক ভরে নিঃশ্বাস নেয়ার জন্য যথার্থ। পুরো বাড়িটারই নবায়ন হল বসন্তের যাদুকরী শক্তির পরশে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অন্ধ বালকের কাছে বসন্ত উপস্থিত হল ঘর ভরে-দেয়া উচ্ছল শব্দরাশির রূপে। বসন্তের বন্ধনহারা জলরাশির শব্দ শুনতে পেল সে, ঢেউয়ের পেছনে ঢেউ ভাঙ্গছে নিরন্তর, পাথরের মাঝ দিয়ে কলকল করে বইছে, পথ করে নিচ্ছে নরম ও ভেজা মাটির বুক চিরে। বাতাসের কানে কানে কথা বলা সমুদ্র তীরের গান শুনল সে। ঘরের চাতালে যে বরফ জমেছিল, এখন তা সূর্যের আলোয় গলে গলে পড়ছে, কান পেতে সে শুনতে লাগল অবিরত জলবিন্দু পতনের টুপটাপ শব্দ। নিখুঁত ও পরিষ্কারভাবে এই শব্দসমূহ ঘরে এসে আছড়ে পড়তে থাকল, যেন বা গোল গোল নুড়ি পড়ছে এমন মনে হল। কখনো কখনো, এই শব্দসমূহের মাঝে সারসের ডাকও এসে মিশে যেতে লাগল, বিশেষত যখন সে সুদূর আকাশ থেকে মাটির দিকে ডাইভ দিয়ে নেমে আসে এবং তারপর সেই ডাক আস্তে আস্তে বাতাসে মিলিয়ে যায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বসন্তের এই মহড়া বালকটির মুখে এক ধরনের বিপন্নতা ও দুঃখবোধের আভা তৈরি করল। সে মুখ বাড়িয়ে, ভুরু কুঁচকে অনেক আয়েশ করে শুনত, তারপর, যেন এইসব শব্দ তাকে ভীত করছে, এমন ভঙ্গিতে মায়ের দিকে হাত বাড়িয়ে দিত এবং তার কোলের সঙ্গে লেপ্টে থাকত। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“ওর সমস্যা হচ্ছে কিসে?” মা ভাবল আর আশেপাশের সবাইকে জিজ্ঞেস করল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ম্যাক্সিম চাচা অভিনিবেশ নিয়ে দীর্ঘসময় বালকটির মুখের দিকে তাকিয়ে দেখল, তার সাম্প্রতিক আচরণের কোনো ব্যাখ্যা পাবার প্রত্যাশায়। কিন্তু ব্যাখ্যা মিলল না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“সে আসলে....বুঝতে পারছে না” মা দ্বিধাজড়িত গলায় বলল, ছেলের মুখের বিপন্নতা খেয়াল করতে করতে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সত্যিকার অর্থে, সে ভীত এবং অসহজ হয়ে পড়েছিল, আর এখন পুরোপুরি বিমূঢ় হয়ে পড়ল এইসমস্ত নতুন শব্দ ও ধ্বনির আগমনে, ভাবছিল পুরানো শব্দগুলো যেসব সে চিনত, সেগুলো মিলিয়ে গেল কোথায় ?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;৭.&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নতুন বসন্তের কলকাকলি ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে এল। যতই দিন যেতে লাগল, সূর্যের উত্তাপ ততই প্রকৃতিকে তার নিজস্ব ছন্দ ফিরিয়ে দিতে লাগল। জীবন আবার পুরনো গতি পেতে শুরু করল। পুরো থ্রটল ঠেলে দেয়া ইঞ্জিনের মতই সে সামনের দিকে ছুটতে আরম্ভ করল। তৃণভূমি সবুজ হয়ে উঠল, বাতাস ভারী হয়ে উঠল আমের বোলের গন্ধে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ঠিক হল যে, বালকটিকে বেড়াতে নিয়ে যাওয়া হবে, মাঠের মাঝ দিয়ে কাছের নদীতীরে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মা তাকে কোলে নিল। ম্যাক্সিম চাচা ক্রাচে ভর দিয়ে তাদের পাশে পাশে হেঁটে চলল। তারা মাঠ পার হয়ে নদীপারের একটা সবুজ-ছাওয়া টিলার দিকে হাঁটল, সূর্যের আলো ও বাতাস একে একেবারে খটখটে শুকনো করে দিয়েছে ইতিমধ্যে। টিলার উপর থেকে চারপাশের এলাকাটি আরো পরিষ্কার ও বিস্তৃতভাবে দেখা গেল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মা হঠাৎ তার ধরে রাখা বালকের ছোট্ট মুঠির মধ্যে একটা চাপ অনুভব করল। বসন্তের প্রমত্ত যৌবন বালকটির মাকেও উতলা করে দিয়েছে আজ, ফলে বরাবরের মত ছেলের অস্বস্তিতে তাকে সংবেদনশীল দেখা গেল না। মা হেঁটেই চলল, মাথা উপরের দিকে তুলে, বসন্তের বাতাসে বুকভরা গভীর নিঃশ্বাস নিতে নিতে। নিচের দিকে যদি সে একমুহূর্তের জন্যও তাকাত, তাহলেও সে তার ছেলের বিপন্ন মুখভঙ্গি দেখতে পেত। বালকের অন্ধ চোখ সরাসরি সূর্যের দিকে ফেরানো, ঠোঁটদুটো ফাঁক হয়ে থাকা, পরিষ্কার বিস্ময়। সে খুব ছোট ছোট কিন্তু দ্রুত নিঃশ্বাস নিতে লাগল, ডাঙ্গায় তুললে মাছ যেমন করে। একসময়, তার বিপন্ন বিস্ময়ের আভা ভেদ করে মুখে ফুটে উঠল অনাবিল আনন্দের এক ভঙ্গি, বিপন্নতাকে এক লহমায় হটিয়ে দিয়ে ছোট্ট মুখটিকে আলোকিত করে তুলল সেই আভা। এর পরের মুহূর্তেই আবার সেই বোবা বিস্ময়, ভীত অনুসন্ধান। শুধু তার দেখার চোখজোড়া থাকল অচঞ্চল, দেখল না কিছুই, প্রকাশও করল না কিছু।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তারা ছোট্ট টিলাটির ওপরে উঠে ঘাসে ছাওয়া চূড়াটিতে বসল। অন্ধ শিশুটিকে তার মা তুলে নিয়ে এমনভাবে বসাল যেন তার আরাম হয় এবং তখনো সে তার মার হাত খামচি দিয়ে ধরে থাকল, যেন ভয় পাচ্ছে পড়ে যাবে, যেন তার পায়ের নিচে মাটি ঠিকমত খুঁজে পাচ্ছে না। কিন্তু আবারও, বসন্তের সৌন্দর্যে বিমোহিত মা সেসব খেয়াল করল না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সময়টা ছিল মধ্যদুপুর, ঘন নীল আকাশে সূর্যের অবিচল মূর্তি। আর নিচ দিয়ে চওড়া এবং গভীর নদীটি বসন্তের আশির্বাদে পূর্ণ হয়ে কলকল বয়ে যাচ্ছে। সবেমাত্র শীতের খোলস ভেঙ্গে বেরিয়ে এসেছে সে, এখানে ওখানে এখনও বরফের খণ্ড খণ্ড টুকরো ভাসছে - উজ্জ্বল আয়নার মধ্যে যেন সাদা সাদা ফোঁটা। তীরের জলঘাসগুলো প্লাবিত হওয়ায় গোটা এলাকাটিকে একটা বড়সড় বিলের মত দেখাচ্ছে; সেখানে মেঘের সাদা মিনার প্রতিফলিত হয়ে ফিরে ফিরে হারিয়ে যাচ্ছে, নদীর মধ্যে বরফের টুকরোর মতই। আর মাঝেমধ্যে বাতাস এসে জলের মধ্যে ঢেউয়ের দোলা তৈরি করে, সূর্যের আলোয় চকচক করে ওঠে নদী। নদী ছাড়িয়ে, দূরে, কালো, ভেজা ও আবাদযোগ্য সারিসারি মাঠ বিছিয়ে, আর কাঁপা কাঁপা কুয়াশার ঐ পাড়ে দেখা যায় কার যেন খড়ে-ছাওয়া গোয়াল, একেবারে বনের ঘন নীল কিনারায়। মনে হচ্ছে ধরিত্রী যেন শ্বাস ফেলছে, লম্বা লম্বা দীর্ঘশ্বাস, আকাশের উপাসনা করতে গিয়ে ধূপের সুগন্ধি জ্বালছে এখানে ওখানে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সমগ্র প্রকৃতি আসলে একটা বিশাল মন্দির, যেখানে সে একটা ছুটির আয়োজনের মাঝে বিন্যস্ত হয়ে আছে। কিন্তু অন্ধ শিশুটির কাছে তা শুধুই অন্ধকার, বিশাল এবং সীমাহীন; একটা অন্ধকার যা অনভ্যস্ত ক্রোধের মত তাকে ঘিরে রাখে, যা প্রতিটি নতুন নতুন অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তাকে নাড়ায়, ঝাঁকায়, বাজায় - এবং এত বিচিত্রভাবে যে তার হৃৎস্পন্দন বেদনাদায়কভাবে বাড়তেই থাকে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;যখন সে দরজার বাইরে প্রথম পা দিল, যখন সূর্যের আলো সরাসরি তার মুখে এসে পড়ল, তার চামড়ায় উত্তাপ ছড়াল, সে তখন সহজাত প্রবৃত্তির বশেই তার অন্ধ চোখজোড়া সূর্যের দিকে ফেরাল, যেন বুঝতে পেরেছে সে এটাই জগতের কেন্দ্র। চারপাশের দিগন্তবিস্তার, উপরের অসীম নীল - এসব সে কিছুই জানে নি তখন। সে শুধু বুঝতে পেরেছিল যে কিছু একটা জিনিস, হালকা, ছুঁয়ে যাওয়া, তার মুখ ছূঁয়েছে এবং মুখে উত্তাপ ছড়িয়ে দিয়েছে। আর তারপর কিছু একটা, ঠাণ্ডা ও আলোময়, কিন্তু সৌর আলোর চেয়ে কম উত্তাপময় - তার মুখ থেকে ঐ উত্তাপকে ঝেঁটিয়ে দিয়ে ঠাণ্ডা এক আবেশে মুখখানি ভরিয়ে দিল। বাড়ির ভিতরে কিভাবে এক ঘর থেকে অন্য ঘরে যেতে হয় সেটা শিশুটি শিখেছিল। সেখানে স্পেস ছিল শূন্য। কিন্তু এখানে - এখানে সে এমন কিছু দিয়ে বেষ্টিত যা ঢেউয়ের মত তার দিকে ছুটে-ছুটে আসছে, ব্যাখ্যার অতীত বৈচিত্র্য নিয়ে; এই বুলাচ্ছে নরম হাত, এই আবার পেশী জাগছে, জাগিয়ে দিচ্ছে। সূর্যের গরম ভাপ তাকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে হারিয়ে যাচ্ছে, বাতাস তার গালে গ্রীবায় খেলছে, থুতুনি থেকে কপাল পর্যন্ত ঘুরে ঘুরে, যতক্ষণ না তার কানে বেজে ওঠে বাতাসের মধুর সঙ্গীত, যেন তারা চাইছে এই অন্ধ বালকটিকে তুলে এমন এক জায়গায় নিয়ে যেতে যে জায়গাটি তার অন্ধ চোখের অধিগম্য নয়। এই অনুভূতি তার চেতনাকে বেভুলো করছে, অবসন্ন করে দিচ্ছে। শিশুটি তার মায়ের হাত জোরে আঁকড়ে ধরে রাখল, দ্রিম দ্রিম কাঁপছে তার হৃদপিণ্ড, বন্ধ হবার উপক্রম।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তাকে ঘাসের ওপর বসিয়ে দেয়া হলে সে প্রথমে কিছুটা সহজ বোধ করল। বিপন্নতার অনুভূতি তখনও তার ছিল, তার হৃদয় পূর্ণ করে ছিল, তবে এখন সে তার চারপাশের শব্দগুলোকে আলাদা করতে পারছে। অন্ধকার ও তার ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাওয়া ঢেউগুলো তখনও আগের মতই তার কাছে আসতেছিল। মনে হচ্ছিল ঢেউগুলো যেন তার শরীরের ভিতর ঢুকে পড়ছে; তার রক্তধারা শিরার ভিতর যেন সেই ছন্দেই বইছে। এখন অবশ্য নানান ধ্বনিও ভেসে আসছে: ভরত পাখির কাঁপা কাঁপা ডাক, বার্চ গাছের নতুন পাতার মৃদু মর্মর, নদীর ছলছলাৎ। কাছাকাছি একটা সোয়ালো পাখি চক্কর খেয়ে গেল, ওর হালকা ডানায় শিস ধরিয়ে; ডাঁশমাছিগুলো ভনভন করছিল, এবং, দূরের মাঠে কোন কৃষক তার হালের বলদজোড়াকে টেনে নিতে গিয়ে হেট হেট বলছিল, একটু থেমে থেমে, সেই বিষণ্ন শব্দগুলোই ভেসে ভেসে আসছিল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কিন্তু অন্ধ শিশুটির পক্ষে এই সবগুলো শব্দকে তাদের ঐকতানের মধ্যে অনুধাবন করে ফেলা সম্ভবপর ছিল না। সে তাদেরকে একত্র করে বুঝতে পারছিল না, তাদের স্ব স্ব প্রেক্ষাপটের মধ্যে দাঁড় করিয়ে দিয়ে বুঝতে পারছিল না। এগুলো সবই ছিল আলাদা আলাদা; এই দৃষ্টিহীন বালকের ছোট্ট মাথার ভিতরে একটা একটা করে ঢুকছিল: কোনোটা নরম, কোনোটা অস্পষ্ট, কোনোটা চড়া, পরিষ্কার এবং কানে তালা লাগানোর মত। কখনো কখনো শব্দগুলো একসঙ্গে আসে, একটা বেসুরো সমাবেশের মধ্যে যেন একটা অপরটার ওপর হামলে পড়ে। তখনো মাঠের শিস ধরানো বাতাস তার কানে শিস ধরিয়েই চলছিল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-style:italic;"&gt;[ভ্লাদিমির করলেংকো-র "দ্য ব্লাইন্ড মিউজিশিয়ান" উপন্যাসের একটা অংশ, অনুবাদ করেছিলাম "দেখা না-দেখার চোখ" বইটির জন্য]&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8711979249453840341-322674113291267323?l=joyodrath.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://joyodrath.blogspot.com/feeds/322674113291267323/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8711979249453840341&amp;postID=322674113291267323&amp;isPopup=true' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/322674113291267323'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8711979249453840341/posts/default/322674113291267323'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://joyodrath.blogspot.com/2008/08/blog-post_2489.html' title='অন্ধ সঙ্গীতকার: ভ্লাদিমির করলেংকো'/><author><name>সুমন রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16436814493171446627</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/_ptrZcy7zwQE/SK3K-srIq0I/AAAAAAAAAEk/KiOzO5TiBOk/S220/Sumon9_resize.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8711979249453840341.post-7835530872577469582</id><published>2008-08-22T02:25:00.002+06:00</published><updated>2008-08-22T02:31:52.167+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='&quot;কবিসভা&quot; থেকে'/><title type='text'>কবিসভার মডারেশন বিষয়ে</title><content type='html'>&lt;span style="font-style:italic;"&gt;[কবিসভায় একবার মডারেশন প্রসেস নিয়া বেশ তর্ক হয়। সেলিম রেজা নিউটন ও সজল খালেদ এ বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে তাঁদের মতামত ব্যক্ত করেন। এই প্রেক্ষিতে আমার নিচের লেখাটি পোস্ট হয় ২০০৫ সালের ১৮ আগস্ট।]&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ব্রাত্য রাইসুর মডারেশন-পদ্ধতি তথা পুরো মডারেশন প্রসেস নিয়াই কথা উঠছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সেলিম রেজা নিউটন অনেক কথা বলছেন। তিনি ক্ষুব্ধ, ক্রুদ্ধ। আজকাল অনেক পাবলিক ফোরামেই উনার ক্ষোভ, প্রশ্ন, অভিযোগ, ক্রোধ প্রকাশ পাইতে দেখতেছি। কবিসভার মডারেশন নিয়া উনি যে খুব ভাবিত সেইটা উনার পত্রে পরিষ্কার বোঝা যায়। শুধু উনার ভাবনা নয়, অন্যরা সে বিষয়ে ভাবিত না বৈলা তিনি (এবং সজল খালেদ) তাদের ওপরও নাখোশ। তার ওপর নিউটন আবার এই সাইলেন্ট শ্রেণীকে ‘রাইসুর পছন্দের মানুষ’ আখ্যা দিছেন। এখানে একটা কথা:&lt;br /&gt;&lt;span class="fullpost"&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ভাই নিউটন/সজল, আপনের যেমন কোনো বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানানোর অধিকার আছে, তেমনি আরেকজনেরও তো সে বিষয়ে প্রতিক্রিয়া না-জানানোর অধিকার আছে। আবার আপনে যে বিষয়কে নিন্দাযোগ্য ধিক্কারযোগ্য মনে করতেছেন, সেইটা অন্যজনে নিন্দাযোগ্য/ধিক্কারযোগ্য মনে নাও করতে পারে। নয় কি? আগেভাগেই অন্যের নীরবতার ভাষ্য তৈয়ার কৈরা আপনে কি নিজের জ
