বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট, ২০০৮

ভাবমূর্তির মামাশ্বশুর

১.
আনন্দ হৈল। সাথে বেদনাও হৈল।

আনন্দ হৈল মান্যবর সুব্রত দা-র আওয়াজ শুইন্যা। আহা! হে রাজহংস, কতকাল পর আপনে আইছেন এইসব কাদাখোঁচা পীদের হাস্যকটাকলকল মানস সরোবরে! যদিও মানস (চৌধুরী) নাই তার সরোবরে (‘তুমি কি আসবে আমাদের মধ্যবিত্ত রক্তে, দিগন্তে দূরন্ত মেঘের মত’)। আরও নাই রাশিদা সুলতানা, লুনা রূশদী। আমার থাকার ওজনের চেয়ে উনাদের না-থাকার ওজন অনেক বেশি। আপনে আসায় ভার লাঘব হৈল। অনেকটা।

আর বেদনা হৈল, কারণ, নিজে গন্ডা গন্ডা বাচ্চাকাচ্চা পৈদা করার পরও ‘ভাবমূর্তি’ নামের এই বাপে-তাড়ানো মায়ে-খেদানো বাচ্চার পিতৃত্ব আমার ঘাড়ে চাপায়া দিতেছেন কেউ কেউ। আমি বারবার যে এত কৈরা কৈতেছি, বিশ্বাস না-হৈলে আমার জিন পরীক্ষা কৈরা লন না ক্যান আপনেরা? এইটা কোন্ নাছোড়বান্দা জ্বিনের পাল্লায় পড়লাম রে, খোদা!

বৈদেশের মাটিতে বাঙালদেশের ভাবমূর্তির কথা আমি কহি নাই গো সুব্রত দা, এত ঘিলু আমার মাথায় এখনো জমে নাই। আমি কৈছিলাম এই ছোটখাট ডেল কার্নেগী-জাতীয় আত্মসম্মানবোধের কথা, সহজ সরল এথিকসের কথা। নিজেদের কাছে নিজেদের কমিটমেন্টের কথা। তবু আপনেরা কেন যে আমারেই ভাবমূর্তির বাপ বানাইতে চাইতেছেন জানি না? তারচেয়ে বরং আপনে যে একখান বিকল্প ভাবমূর্তির প্রস্তাব দিলেন, সেইটা আমার জব্বর পছন্দ: কুরবানির গরু না, হাড়-জিরজিরা গুতাইন্যা ষাঁড়ের ‘ভাবমূর্তি’। অতি চমেৎকার! আমি এই প্রস্তাবে রাজি। কিন্তু আপনের অগ্রজ বন্ধু আর আমার অগ্রজ ভাই দুলাল ভাই আমাগো আসন্ন ‘গুতাইন্যা’ ভাবমূর্তির গায়ে ঠাণ্ডা পানি যে ঢাইল্যা দিছে, সেইটা আপনেরও নজরে পড়ল না! যে কুত্তার কথা আপনে কৈলেন এই কুত্তা ‘মড়া’ কুত্তা যে না ঠিক আছে, কিন্তু এইটা তো ‘কামড়াইন্যা’ কুত্তাও না, এক্কেবারে ‘চাটা’ কুত্তা! এই কুত্তা তো কামড়াইতে আসে না, বৈদেশের অন্দর মহলে শুইয়া থাকতে চায়, আরাম কৈরা বৈদেশের হাড্ডি চুষতে চায়!

যাই হোক, ভাবমূর্তি লৈয়া আমার কোনো ভাবনা নাই, যার আছে সে জবাব দিক। ভাইবোনেরা, আমি হৈলাম ভাবমূর্তির মামাশ্বশুর, তাই বৈলা আবার কেউ আমার বেয়াই-য়ের নাম জিগায়েন না, কারণ ঐ হারামজাদার পোলায় আমার ভাগ্নি লৈয়া ভাইগ্যা গেছে, চিনতে পারলে আমিই আপনাদের আগে থানায় গিয়া জিডি করতাম!

২.
ফারুক ওয়াসিফ-এর উত্তেজনা দেইখ্যা আমি ডরাইছি। আমি এই সামান্য বিষয়টা নিয়া অল্পসল্প আলাপসালাপ করার মতলবে ছিলাম, উনি যেভাবে মক্কা-মদিনা দেখাইতে শুরু করলেন, তাতে আমার হার্টবিট বাইড়া গেছে।

উনার বক্তব্যের সাথে একমত-দ্বিমত হওনের সুযোগ খুঁজতেছিলাম, কিন্তু দেখলাম যেরকম রাগী রাগী বক্তব্য উনার..... তাতে এই আসরেও এফবিআই ডিজিডিএফআই-য়ের আনাগোনা শুরু হওনের সম্ভাবনা আছে। তার ওপর আমারে জিগাইছেন আমার লেখার মধ্যে যে ‘সরকারি’ সুর আছিল তার অর্থ কি....ব্যাপার কি ভাই? ক্রসফায়ার খাওয়াইতে চান নাকি?

আমি তো বাংলাভাইয়ের মত রাষ্ট্রবিরোধী না, বা মাসুদ ভাইয়ের মত ‘জাতিরাষ্ট্রহীনতার’ চিন্তায়ও মশগুল না, ফলে সরকার যখন রাষ্ট্রকে রিপ্রেজেন্ট একটু হৈলেও করে, কাজেই রাষ্ট্রকে বেষ্টন কৈরা থাকার সুবিধা পায় সে। বোঝা গেল?

আর বোঝা না গেলে, যেহেতু সরকারি চাকরি করি, কাজেই সরকারের দালাল বৈলা দুইটা গালি দিয়া ছাইড়া দেন আমারে। আপনের অনেক সাহস ভাই, আপনে বিএনপি-রেও গালি দেন, আওয়ামী লীগরেও। সাথে আমারেও দেন, আমি আপনের লগে নাই!


৩.

এণে ইগো/ব্যক্তিগত কটা/আক্রমণ প্রসঙ্গে দুইএকটা কথা বলতে ইচ্ছা করি। বিষয়টা তুলছিলেন মাসরুর। পরে ইমরুলকে লেখা চিঠিতে মাসুদ ভাইও এর উল্লেখ করলেন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, কবিসভায় আমরা অনেকেই পরস্পরের চাপার জোর প্রত্য করি। মাসরুরের ভাষায়, এভাবেই আমাদের বই-পড়া, ডিগ্রিধারী, শাহবাগ-গামী ইগো তার প্রাইড ডিসপোজ করে চামেচিকনে! মাসরুর যদিও সেইটা চান কি চান না সেই বিষয়ে মন্তব্যশূন্য ছিলেন, কিন্তু তার ভঙ্গি থেকে মনে হৈছে যে এইটা উনার কাম্য নয়। মাসুদ ভাইয়েরও কাম্য নয়। উনাদের আরাধ্য হৈল ইগোশূন্য পলেমিকস, বা যাকে বলা যায় বিশুদ্ধ তর্কচর্চা।

কেন জানি এসব নিয়া ভাবলেই সবকিছু শেষপর্যন্ত বস্তুবাদ-ভাববাদ/ দ্বৈতবাদ-অদ্বৈতবাদের ডাইকোটমিতে আইসা ঠেইকা যায়, অন্তত আমার চিন্তার মধ্যে! কতটুকু ইগো-নিরপে আমাদের পে হওয়া সম্ভব? ইগো যদি আলাদা একটা প্রাণভ্রমরা জাতীয় কিছু হৈত, তাইলে নাহয় কৌটার ভিতর ভৈরা রাইখ্যা ড্রয়িংরুমে বৈসা তত্ত্বচর্চায় সামিল হৈয়া যাইতাম! সেইটা যে হয় না, তা বোঝা ও মানার জন্য মার্ক্সের ‘জার্মান ইডিওলজি’ বইটাই যথেষ্ট। আমারি ইগোর রঙে পান্না হল সবুজ... আমি চোখ মেললুম আকাশে....জ্বলে ওঠল ইগো... পূবে পশ্চিমে!

আমার তো মনে হয়, আমরা যদি পলেমিকসের প্রণোদনার মনস্তাত্ত্বিক ইতিহাস তৈয়ার করতে পারি, তাইলে হয়ত দেখা যাবে সেখানে নিজের ইগো দাবায়া রাখা নয়, বরং ইগোকে নানান গার্মেন্টসে সাজায়া গুছায়া হাজির রাখাই হৈতেছে পলেমিকসের একটা রাজনীতি।





২টি মন্তব্য:

Zico বলেছেন...

ক্ষ বাদ গেছে কিছু শব্দে।
এণে -> এক্ষণে
কটা -> কটাক্ষ
নিরপে -> নিরপেক্ষ

সুমন রহমান বলেছেন...

ইউনিকোড-এ বদল করার সময় ঘটেছে। দুঃখিত খেয়াল করি নি...