বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট, ২০০৮

আরো কয়েকটি নিন্দাপ্রস্তাব

আবু লাহাব তার নিজের পাতা ফান্দে নিজেই পড়ছিলেন। এইবার ব্রাত্য রাইসু পড়লেন!

প্রথমত, রবীন্দ্র-তর্ক অংশে আমি পোস্ট কলোনিয়ালিজম-এর প্রসঙ্গ তোলাতে রাইসু আমার কাছে পোস্ট কলোনিয়ালিজম সম্পর্কে তলব করছিলেন। আমি আমার সাধ্যমত উত্তর করেছিলাম। উনি আমার কাছে একটা তালিকা চেয়েছিলেন। আমি সেই তালিকাটিও সরবরাহ করতে চেষ্টা করছি। তাতে, আমি বা পোস্ট কলোনিয়ালিজম কারো সম্মানহানি ঘটে নাই বৈলা আমার ধারণা। এই বেলা আমি সলিমুল্লাহ খানের সাহিত্যকীর্তির তালিকা চাওয়ায় (আমি উনার লেখা সত্যি সত্যিই পড়ি নাই, তবে তিনি প্লেটোর সংলাপের অনুবাদ করেছেন শুনেছি। সেই বই পড়ার আগ্রহ আমার হয় নাই), রাইসুর ভাষায়, তারে ‘অপদস্ত’ করা হৈল! আপনি চাইলে হয় জিজ্ঞাসা, আমি আমি চাইলে হয় অপমান!

আমি এই দ্বৈত আচরণনীতির নিন্দা করতে চাই।


দ্বিতীয়ত, কবিসভা ও সঞ্চালন নামক এই ইলেকট্রনিক যোগাযোগপ্রক্রিয়া চালু হৈবার প্রাক্কালে কিছু মৌলিক বিষয়ে আমাদের বোঝাপড়া হইছিল। এর একটা ছিল, এখানে কেউ আইকনত্ব নিয়া হাজির হৈবেন না, আবার কেউ কারো তল্পি বহনও করবেন না (সুব্রত দা এ বিষয়ে ইঙ্গিত করেছেন তার চিঠিতে)। এইরকম একটি প্রিমাইজের ওপর দাঁড়াইয়া ‘কবিসভা’ নামক একটি মডারেটর নিয়ন্ত্রিত সমাবেশে তুষার দাশ এবং টিপু সাহেবের ঐরকম আইকন-বানানো/আইকন-তোষণমার্কা চিঠি আসল কেমন কৈরা? কেউ একজন কেন ভিভিআইপি মর্যাদা পাইতেছেন না, সেইটার হাহুতাশ শুনবার জন্যই কি আমরা কবিসভা খুলছি? যদি তাইই হয় বলেন, আমি নিজেরে আনসাব কৈরা নিমু এখান থিকা। যদি তা না হয়, তবে সেই ফালতু জিনিস আমার পাঠতালিকায় উঠায়া দেওয়ার দায়দায়িত্ব জনাব মডারেটর-এর।

এই দায়দায়িত্ব মডারেটর স্বীকার না করলে আমি সেই আচরণেরও নিন্দা করতে চাই।

তৃতীয়ত, আপনার কথা শুইনা আমি অনুমান করতে পারি জনাব সলিমুল্লাহ খান একজন ভাল চিন্তক। কিন্তু এরকম একজন ভাল চিন্তকের প্রশংসা করতে গিয়া তুষার দাশ এবং টিপু যেসমস্ত চিন্তাহীন, উদ্ভট এবং হাস্যকর কথাবার্তা বলছেন (যেমন উনারে ভিভিআইপি মর্যাদা দেয়া উচিত, বাঙ্গালি জাতির উনারে বোঝা উচিত!!!!) সেইসব কথার মাধ্যমে ঐ ব্যক্তিত্বকে প্রকারান্তরে অপদস্তই করা হৈছে বৈলা আমি বিশ্বাস করি। কারো হয়ত মনে হৈতে পারে যে, এইগুলো উনাদের ভক্তি-উৎসারিত বাড়াবাড়ি, ফলত মার্জনীয়। আমি সেইটা মনে করি না, কবিসভায় আমরা ভক্তিমূলক গান শুনতে বসি নাই! তো, আপনি জনাব সলিমুল্লাহ খানকে ভক্তিবেশে ঐরকম অপদস্তকরনেরও নিন্দা করেন নাই। আমি আপনার এই ধরনের নিদ্রিত মনোভাবের তীব্র নিন্দা করতে চাই।

চতুর্থত, আমি প্রতিভা শব্দটিকে কীর্তি অর্থে ব্যবহার করছিলাম। আমার মনে হয়, কেউ যদি আমার সামনে কারো কীর্তির প্রশংসা করেন যে কীর্তির সাথে আমি পরিচিত নই, তাইলে সেই কীর্তি সম্পর্কে তার কাছে জানতে চাওয়ার মধ্যে দোষের কিছু নাই।

ফলে, পঞ্চমত, আপনি যে বিষয়টিকে দেখতেছেন ‘প্রতিভার যাচাই’ শিরোনামে, সেই বিষয়টিকে আমি ‘দেখতেছি প্রতিভা অনুধাবনকারীর যাচাই’ শিরোনামে। সলিমুল্লাহ খান এইখানে একটা নাম মাত্র। আমি অত্যন্ত দুঃখিত যে, উনার নামটি এই আলোচনায় ব্যবহৃত হইতেছে। উনারে খাটো বা অপদস্ত করার কোনো অভিপ্রায় আমার নাই, কারণ উনার কীর্তির সন্ধান আমি এখনও নিতে পারি নাই। একটা সত্য গল্প কই: কবি আল মাহমুদের এক ভক্ত একদা আপ্লুত হৈয়া কবিরে জিগাইলেন, মাহমুদ ভাই, আপনি এত লোকশব্দ লোকশব্দ লয়া আছেন, বইয়ের নাম ক্যান ‘কালের কলস’ রাখলেন, ‘কালের ঠিলা’ রাখেন নাই ক্যান?

আমি সেই ভক্তিদশার কথা বলতেছি, রাইসু!



ঢাকা, ২৭ মে ২০০৫

২টি মন্তব্য:

কৌশিক আহমেদ বলেছেন...

ব্লগস্পটে অনেক ভালো ভালো ব্লগ আছে, আমি কযেকটা আমার ব্লগে লিংক রেখেছিলাম। বিশেষত রঙের ব্যবহারটা একটু খেয়াল করলে চমৎকার হতে পারে। গুড স্টার্ট।

সুমন রহমান বলেছেন...

ধন্যবাদ কৌশিক। খেয়াল করতেছি...